

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান চা বাগান। এখানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ব্যাপক বর্বরতা চালালে অনেকেই শহীদ হন। সেই স্থানে স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। এর প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের উদ্যাগে স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুস শহীদের সহযোগিতায় প্রায় ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সিন্দুরখান চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের সিন্দুরখান বাজার বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন ফিনলে চা বাগানে অবস্থিত এই বধ্যভূমিটির সম্পর্কে সাধারণ মানুষ বেশি কিছু জানত না। অনেকেই জানত না ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ধরে এনে এখানে নির্যাতন ও গণহত্যা চালাত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. আজীম উদ্দিন সরদার নির্বাহী প্রকৌশলী এলজিআরডি মৌলভীবাজার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিতালী দত্ত, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ তালুকদার, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইউসুফ হোসেন খান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রাজঘাট ও সিন্দুরখান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সিন্দুরখান বাজারের পাশে বর্তমান বিজিবির ক্যাম্পটিকেই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ব্যবহার করত। তারা নিরস্ত্র বাঙালিদের ধরে এনে মাঠে নির্যাতন ও হত্যা করে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দিত। স্বাধীনতার ৫০ বছর পর হলেও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দিত।