

স্টাফ রিপোর্টার: আবারো ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে প্রাকৃতিক সৌন্দের্যের লিলাভূমি জাফলং। অপরূপ জাফলংকে কঙ্কাল বানিয়ে ছাড়ছে পাথর-বালুদস্যু সিরাজ-সাজু চক্র। শেষমেষ জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকেও খাচ্ছে এই চক্রটি। ক্ষত বিক্ষত করে ফেলেছে পর্জটন খ্যাত জাফলং এলাকাটি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে সিরাজ-সাজু চক্র পরিবেশ বিধ্বংসী এ অপকর্ম লুটপাটের মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে নিরবে। জাফলং জিরো পয়েন্ট ও মন্দিরের জোন এলাকা থেকে বেআইনি যন্ত্রদানব এক্সেভেটর শ্যালো মেশিন ও ফেলুডার দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলনে মেতে উঠেছে তারা।
গত কয়েক দিন ধরে চোখের সামনে এই ধ্বংসলীলা চালানো হলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। কোন ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। এই পাথর স্যুচক্রের মূলহোতা গোয়াইনঘাট উপজেলার মোহাম্মপুরের সিরাজুল ইসলাম ও সাজু। তাদের চক্রের অন্যান্যরা হচ্ছে উপজেলা নয়া বস্তির আলমাছ, মুমিনপুরের আব্দুল্লাহ, জাফলং বস্তির মোস্তাফিজুর রহমান লিলু, ছৈলাখেলের ফুল মিয়া।
সরেজমিনে অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় প্রশাসন পাথরদস্যুদেরকে সহযোগিতা করে নীবর ভুমিকা পালন করে আসছেন। তাই কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে নারাজ প্রশাসন। ফলে পাথরদস্যু সিরাজ-সাজু চক্র প্রতিদিন লুঠে খাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ধ্বংস হচ্ছে অপরুপ জাফলং।
পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জাফলং পাথরের গর্তে শ্রমিক হত্যার ঘটনা ঘটছে অহরহ। পাথর বালুর চক্রের সিরাজ ও সাজু দীর্ঘ দিন ধরে জাফলংয়ে রয়েলেটির নামে অবৈধ চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকায় অটেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। পাথরদস্যু চক্রের মাঠিচাপায় নিহত হয়েছেন হযরত আলী (৩০) নামক এক পাথর শ্রমিক। সে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১০ নং আলীরগাঁও ইউনিয়নের তিতকুল্লী গ্রামের শহীদ উল্লাহর ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনা এড়াতে পাথরদস্যু সিরাজ ও সাজুকে রেহাই দিতে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র দেব নিহত হযরত আলীকে ঢাওকি নদীর বারকি শ্রমিক বানিয়েছেন। অতএব নদীতে কোন পানি ও নৌকা ছিলো না। বর্তমানে এ এলাকা থেকে প্রকাশ্যে পাথর ও বালু উত্তোলন করছেন এবং রয়েলিটি আদায় করতেছেন। এখনো কি ওসি পরিমল দেব বলবেন, বারকি শ্রমিক শুকনা নদী থেকে নৌকা দিয়ে পাথর উত্তোলন করছে।
এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, পুলিশ প্রশাসন অবৈধ চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকায় একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে কোন চক্রকে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে না। পুলিশ পাহারাদারের কাজ করছে। আপনারা এলাকায় খোঁজ নিয়ে সঠিক বিষয়টি তুলে ধরার আহ্বান জানান ওসি।
জাফলংয়ের পরিবেশ ও ধ্বংসলীলা সিরাজ ও সাজুর হাত থেকে জাফলংয়ের সৌন্দর্য রক্ষা করার দাবি এলাকাবাসীর। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।