

সিলেট অফিস: শুক্রবার সিলেট মহানগরীতে অবস্থিত শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী সিলেট বৌদ্ধ বিহারের দিনব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসবের সকল ধর্মীয় কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আত্মশুদ্ধি,আত্ম সংযম,আত্ম প্রতীতির মাঙ্গলিক দীপ জ্বেলে প্রতিবছর জীবনাঙ্গনে ফিরে আসে তিনমাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান।পূজনীয় ভিক্ষু সংঘ ও সদ্ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকারা এই তিনমাস শীল,সমাধি,প্রজ্ঞার অনুশীলনে আত্ম নিবেদন করে পরিস্নাত হয়।তিনমাস বর্ষাব্রত অধিষ্ঠানের আনন্দধারায় ফিরে আসে ‘শুভ প্রবারণা’।প্রবারণার অম্লান চেতনায় বর্ষ পরিক্রমায় ফিরে আসে বৌদ্ধদের জাতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব’।
প্রতিটি বৌদ্ধ পরিবার উৎফুল্ল চিত্তে অপেক্ষা করেন তাদের প্রতিক্ষিত কঠিন চীবর দান দেওয়ার জন্য। এ উৎসবে শ্রদ্ধার অর্ঘ্য সাজিয়ে দান কর্মের অনুরাগে মেতে উঠে সকল বৌদ্ধ নর-নারীবৃন্দ মুখরিত হয় বৌদ্ধ জনপদ ও জনারণ্য।

বক্তাগণ বলেন, করোনা মহামারী’র প্রাদূর্ভাবে সারাবিশ্ব শংকিত, আতংকিত,ভীত,সন্ত্রস্ত ছিল। ‘করোনা’ মহামারীর করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে প্রিয়জন-জ্ঞাতি-পরিজন সহ লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমরা হারিয়েছি ।
চীবর দানে সিলেট বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎসংঘানন্দ থের সভাপতিত্বে ও সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর বড়ুয়া ও শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রানা বড়ুয়ার যৌথ সন্চালনায় অতিথি ধর্মদেশক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুরখীল দক্ষিণ ঢাকাখালি মনোকামনা পূর্ণ বুদ্ধ ধাতু জাদীর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ উক্কাটঠা পঞঞা থের, ধর্মদেশক উত্তর জয়নগর বোধিদ্রুম বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ মেত্তানন্দ থের, মধ্যম ইদিলপুর জ্ঞানোদয় বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জয়শ্রী ভিক্ষু, সিলেট বৌদ্ধ বিহারের শ্রীমৎ আনন্দ ভিক্ষু, শ্রীমৎ মহানাম ভিক্ষু।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি অরুন বিকাশ চাকমা, সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক উৎফল বড়ুয়া, কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির আহবায়ক লিটন বড়ুয়া।অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরম জ্ঞাতি সুখেন্দু বিকাশ চাকমা,শ্যামল মিত্র বড়ুয়া, ডাঃ স্বপন বড়ুয়া ও উপাসিকা সুমি বড়ুয়া, সমিতির উপদেষ্টা তপন কান্তি বড়ুয়া মান্না, উপদেষ্টা অধ্যাপক বরণ চৌধুরী প্রমূখ।
পৃথিবীর সবুজ প্রান্তর ‘করোনা’র অদৃশ্য অশুভ ছায়ার ক্ষত-বিক্ষত থেকে পরিত্রান,জগতের সকল প্রানীর সুখ ও বিশ্বশান্তি কামনায় কঠিন চীবর দান শেষে হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উত্তোলন করা হয়।