

ওসমানীনগর সংবাদদাতা : সারা দেশের ন্যায় সিলেটের ওসমানীনগরে চলমান রয়েছে জাতীয় মৎস্য সাপ্তাহের নানা কার্যক্রম। মৎস্য সপ্তাহকে ঘিরে একদিকে চলছে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ,অন্যদিকে চলছে নিষিদ্ধ জালের মাধ্যমে মৎস্য নিধন। উপজেলা জুড়ে সর্বত্র বৃদ্ধি পেয়েছে কারেন্ট জালের রমরমা ব্যবসা। অবস্থা দৃষ্টে দেখে মনে হয় এসব দেখার কেউ নেই। বর্ষার মৌসুমে হাওর, বাওরে পানি বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে হাওর,বাওর দখল করে নিয়েছে কারেন্ট জাল। বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে উপজেলায় গোয়ালাবাজার, তাজপুর, দয়ামীর শেরপুরসহ বিভিন্ন বাজারে অবৈধ কারেন্ট জাল মজুদ করে রেখে রমরমা ব্যবসা চলিয়ে যাচ্ছে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। আর উপজেলার বাজারগুলো থেকে কারেন্ট জাল ক্রয় করে মৎস্যজীবিরা খাল বিলসহ জলাশয়গুলো থেকে মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন করছেন।
নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানা যায়,উপজেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলছে এসব মৎস্য নিধন। মৎস্য বিভাগের ছত্রছায়ায় সরকারি বিধি উপেক্ষা করে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কারেন্ট জালের অবাধ মজুদ গড়ে তুলেছেন। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার কারেন্ট জাল বিক্রি করছেন তারা। এছাড়াও এ মৌসুমে জলয়াশ গুলোতে পোনা মাছ ও ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা বা কারেন্ট জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কারেন্ট জালের ব্যবসা ও জাল দিয়ে মাছ নিধন চলছে দেদারছে। বিষয়গুলো উপজেলা মৎস্য দপ্তর তদারকি করা কিংবা কারেন্ট জাল ব্যবহারকারী ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
অভিযোগ রয়েছে,ওসমানীনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাসরূপা তাসলিম এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নানা অযুহাতে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে উর্ধ্ধতনদের ম্যানেজ করে উপজেলা মৎস্য বিভাগটিকে একটি ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন। শুধু মৎস্য সপ্তাহ এলে লোক দেখানো বাজার মনিটরিং ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোন প্রতিফলন চোখে পড়ছে না।
একটি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে উপজেলার সব চেয়ে বড় কারেন্ট জালের আড়ৎ খ্যাত গোয়ালাবাজার ও তাজপুরসহ বিভিন্ন বাজারে খোলামেলা ভাবে কারেন্ট জাল বিক্রি হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের সাথে গোপন আঁতাত থাকায় অভিযান শুরুর পূর্বেই গোপন খবর পৌঁছে যায় জাল ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে তারা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ অভিযান ব্যর্থ হয়। উপজেলার কালাসারা, দয়ালং, মেরুয়া, বানাইয়া, মোক্তারপুর, পেকুয়া, হাউনিয়া, কালনী, রুনিয়াসহ প্রতিটা হাওর ও ছোট বড় জলাশয়ে প্রতিদিন নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ আহরণ করা হচ্ছে দেদারছে। জালে আটকে মা মাছ থেকে শুরু করে ছোট বড় মাছ, ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়া, কাঁকড়াসহ সকল প্রকার জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। ফলে জলজ পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি ঘনিয়ে আসছে।
স্কুল শিক্ষক আতিকুল হকসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, প্রতি বছর এভাবে জলাশয়গুলোর ঘনঘন স্থানে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পোতা হলেও মাঝে মধ্যে উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ লোক দেখানো অভিযান ছাড়া আর কিছুই হয় না। তাছাড়া হাটবাজারে প্রকাশ্যে এসব কারেন্ট জাল বিক্রি করা হলেও প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. মাশরুফা তাসলিম বলেন, অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রেতা ও ব্যহারকারীদের বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে আরও বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।