

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পাঁচ বারের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তনয়া শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ক্ষমতায় ফিরিয়েই বঙ্গবন্ধু হত্যার চরম প্রতিশোধ নেয়া সম্ভব।
বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ও তাদের দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মধ্যদিয়েই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আত্মার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা যাবে। এমন সংকল্প ব্যক্ত করা হয় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে।
বাংগালি এলাকা হিসেবে পরিচিত জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স-১৯৭১’ ইউএসএ “র সমাবেশ থেকে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের মধ্যদিয়ে শুরু এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ,সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসী নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এর আগে সমাবেশের প্রেক্ষাপট উপস্থাপন এবং জাতীয় শোক সমাবেশে পরিচালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও আলোচনার জন্যে গঠিত সাব-কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কলামিস্ট খুরশিদ আনোয়ার বাবলু ।
কম্যুনিটি এ্যাক্টিভিস্ট আল আমিন বাবুর নেতৃত্বে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শাহীদ, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, জেলহত্যাকান্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা,৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলন ,”৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণসহ আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মাহুতি প্রদানকারিগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এর পর টি মোল্লার নেতৃত্বে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কবি অবিনাশ আচার্য্য ।
অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় আরো অংশ নেন মুলধারার রাজনৈতিক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুরশেদ আলম, হোস্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, অন্যতম উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, বাংলদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ”র উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ নেতা আখতার হোসেন, সংগঠনের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজল মাহমুদ, সংগঠনের উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ নেতা আলী হাসান কিবরিয়া অনু, সুলতানা আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি,হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি এডভোকেট জাকির এইচ মিয়া, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ”র সাবেক সভাপতি খসরুল আলম, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র ছাএলীগের সাবেক সভাপতি জেড এ জয়, ছাত্রলীগের সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ছাত্র লীগ নেতা হৃদয় খান, মোজাহিদ আনসারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা দাউদ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল মজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাগর লোহানী,প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন ক্লারা রোজারিও, মুমু আনসারী প্রমুখ।
বক্তারা গত বছরের কথিত আন্দোলনকে একাত্তরের পরাজিত শক্তির উত্থানের অন্যতম একটি অবলম্বন ছিল বলে উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আবারো শানিত করেই বাঙালির বিজয় অর্জন করতে হবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সহযোগিতায় মুহম্মদ ইউনূসের ক্ষমতা দখলের নেপথ্য ষড়যন্ত্র এখোন উদঘাটিত হচ্ছে এবং অনেকের বোধোদয় ঘটেছে। কোটা আন্দোলনের আড়ালে ছিল বাংলাদেশকে আফগানিস্তানের মত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার গভীর চক্রান্ত-তা এখোন আর কারো অজানা নেই বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। গত এক বছর বাংলাদেশে যে অপকান্ড সংঘটিত হয়েছে তা আগের ৫২ বছরেও হয়নি বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। এহেন অবস্থার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে সকলে তৎপরতা অব্যাহত রাখার সংকল্পও ব্যক্ত করেছেন।জাতীয় শোক দিবসের আনুষ্ঠান শেষে সবাইকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করা হয়।