শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নবীগঞ্জে ভারতীয় পন্য সহ আটক ১ দবিরুল ইসলাম ওবিই এর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের শোক প্রকাশ মৌলভীবাজারে ধামতিপুরী (রঃ) এর ইসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নন্দিত আলেম শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ রহঃ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাছ পাচারকালে ইলিশ সহ দুই ট্রাক আটক জালালাবাদ রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারী সেবা প্রদান শুরু সিলেটে ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই সংবর্ধিত না ফেরার দেশে বিশিষ্ট সমাজসেবক দবিরুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সেলিমা রহমান হাবিব ও মাহবুবের সাক্ষাতের রজনী

স্মৃতিচারণ

একজন বিনয়ী, সদালাপী ও সজ্জন রাজনীতিবিদ সুলতান ভাই

সারওয়ার-ই আলম
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

একজন বিনয়ী, সদালাপী ও সজ্জন রাজনীতিবিদ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন আজ। সুলতান মাহমুদ শরীফ। বিলেতের বাংলাদেশী কমিউনিটির অতি পরিচিত একটি নাম। সুলতান ভাই নামে পরিচিত। আওয়ামী ঘরানার লোকজন ছাড়াও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের কাছে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে সমাদৃত। এটি তাঁর সদ্ব‍্যবহারের কারণে। ছোট-বড় সবাইকে সম্মান করতেন। মানুষকে কাছে টেনে নেওয়ার এক অদ্ভূত যোগ‍্যতা ছিল তাঁর। অন‍্য অনেকের মতো আমারও সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে কিছু ব‍্যক্তিগত স্মৃতি আছে। মানুষ মরে গেলে এ স্মৃতিগুলো বেশি করে মনে পড়ে। লিখতে ইচ্ছে করে।

ইশরাত স্ট্রোক করার পর একদিন শহীদ মিনারে দেখা সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি হাত বাড়িয়ে আমার হাতটি ধরলেন। কুশলাদি জিজ্ঞেস করার পর বললেন, আমি সবই জানি, সারওয়ার। তোমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। তবে তোমাকে এখন খুব শক্ত হতে হবে বাচ্চা তিনটার জন‍্য। আমরা তোমার পাশে আছি।

সেদিন সুলতান ভাইয়ের কথাগুলো আমার খুব ভাল লেগেছিল। রাজনৈতিক ব‍্যস্ততার মাঝেও তিনি যে আমার পরিবারের কথা মনে রেখেছেন এটা তাঁর মানবিক গুণাবলীর বহিঃপ্রকাশ।

একবার আমি সামিরে একটি কবিতা পাঠ ফেসবুকে শেয়ার করেছি। রবি ঠাকুরের কবিতা। সুলতান ভাই সেটি ফেসবুকে শেয়ার করলেন তাঁর প্রোফাইলে। কিছু সময় পর আমাকে কল দিয়ে বললেন, খুব ভাল লেগেছে তোমাদের বাবা-ছেলের কবিতা আবৃত্তি। একদিন নিয়ে এসো ওদেরকে। আমি বলেছিলাম- যাবো। কিন্তু আর যাওয়া হয়নি।

সুলতান ভাইয়ের বাসায় আমার আরেকটি কাজেও যাওয়ার কথা ছিল। এ কাজটি আমি স্বপ্রণোদিত হয়ে গ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিলেতে থেকে ওনারা কীভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন এ নিয়ে সাপ্তাহিক পত্রিকার জন‍্য আমি একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম ওনার। বাসায় যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু সময়-সুযোগ না মেলায় সাক্ষাৎকারটি টেলিফোনেই নিলাম। দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। কথায় কথায় হাজার কথা। সুলতান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা মানে বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরের ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়ানো। অসাধারণ স্মৃতিশক্তি তাঁর। শৈশব থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে তারুণ‍্য, এরপর বর্তমান— তিরাশি বছরের স্মৃতি— সবই একেবারে দিন-তারিখসহ বলে গেছেন সুলতান ভাই। আমি তাঁর স্মরণশক্তি দেখে বিস্মিত হয়েছি। একইসঙ্গে অভিভূত হয়েছি তাঁর বিনয় দেখে। ইতিহাসের এত ঘটনা বর্ণনা করছেন অথচ কোথাও কোনও ঘটনায় নিজেকে বড় করে উপস্থাপন করছেন না, নিজেকে জাহির করে বলছেন না আমি এই করেছি, আমি সেই করেছি। প্রায় সবকথাতেই বলছেন আমরা করেছি। এই যে ব‍্যক্তি সংকীর্ণতা কাটিয়ে সামষ্টিক ভাবনা— এটি সুলতান ভাইয়ের চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। আমি তাকে বলেছিও কথাটি। তাঁর সোজা সাপটা উত্তর— আমি নিজেকে জাহির করব কেন, আমি একাতো কিছুই করতে পারতাম না। এখনকার সমাজে এরকম বিনয়ী মানুষ পাওয়া মুশকিল। এখনতো সবাই ব‍্যস্ত নিজেকে জাহির করতে!

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন‍্য ছিলেন সুলতান ভাই। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাঁর অনেক স্মৃতি। স্মৃতি বাংলাদেশের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে। ভাবনা ছিল সমাজ ও দেশ নিয়ে। তাঁর বিস্তর কথামালায় অভিভূত হয়ে আমি বললাম সুলতান ভাই আমিতো আপনার এত সমৃদ্ধ স্মৃতিকথার কিয়দংশও ছাপতে পারব না, আপনি বরং একটি কাজ করুন, এসব মূল‍্যবান স্মৃতিকথা লিখে একটি বই বের করুন।

তিনি বললেন, লেখার ধৈর্য আমার নেই সারওয়ার। তুমি বরং আসো, রেকর্ডারে রেকর্ড করে নিয়ে যাও, পরে বই আকারে বের করলা একসময়। আমি বললাম সেক্ষেত্রে প্রকাশনার বিষয়টি আসবে। তিনি বললেন প্রকাশনা নিয়ে ভেবো না, তার ব‍্যবস্থা আমি করব।

আমি সম্মত হলাম। বললাম অনেকগুলো সিটিং লাগবে। বললেন কোনও সমস‍্যা নেই। তুমি সকালে চলে আসবে, সারাদিন থাকবে। খুব উৎসাহিত হলাম আমি। শুরু করার দিন তারিখও ঠিক হলো। কিন্তু এরপর ইশরাতের স্ট্রোক আমার জীবন এলোমেলো করে দিল। তিন বাচ্চা নিয়ে একার সংসার। আমার আর সুলতান ভাইয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলো না।

বন্ধুদের জন‍্য সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত সুলতান ভাইয়ের সাক্ষাৎকারটি এখানে পত্রস্থ করলাম। এতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক তথ‍্য আছে। আমার নেওয়া সাক্ষাৎকারটির নির্বাচিত অংশ এটি। মূল সাক্ষাৎকারটি বেশ দীর্ঘ। কখনও অনুলিখনের সময় পেলে শেয়ার করব। নিঃসন্দেহে সুখপাঠ‍্য হবে। কারণ ইতিহাসের অনেক ঘটনা তিনি নির্মোহভাবে তুলে ধরেছেন সেখানে। শ্রদ্ধা ও ভালবাসা সুলতান ভাইয়ের প্রতি। তাঁর আত্মা পরম শান্তিতে থাকুক বেহেশতের সবচেয়ে সম্মানিত স্থানে এই প্রার্থনা করি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফের সাক্ষাৎকার

বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী সুলতান মাহমুদ শরীফ! অনর্গল ইতিহাস বর্ণনা করে যেতে পারেন। কথা বলেন ক্লান্তিহীন। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৩। স্মরণ করতে পারেন তিন বছর বয়সের স্মৃতিকথাও। অতিক্রান্ত ৮৩ বছরে সাক্ষী হয়েছেন ইতিহাসের অনেক ঘটনার। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেছেন। ব্রিটেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তিনি। ছেষট্টি সালে ৬ দফা ঘোষণা করা হলে তিনি লণ্ডনে বসবাসবাসরত ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের একত্রিত করে ৬ দফার পক্ষে প্রথম জনমত গঠন শুরু করেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে লড়ার জন্য স্যার টমাস উইলিয়াম কে ঢাকায় পাঠাতে যে ক’জন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি তাদের মধ্যে একজন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা দপ্তর সম্পাদক সুলতান শরীফ বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি। প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের স্মৃতি নিয়ে সাপ্তাহিক পত্রিকার পক্ষে তাঁর একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার সুযোগ হয়েছে আমার। আমাদের আলাপচারিতায় প্রসঙ্গটি আর মুক্তিযুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কথা হয়েছে তাঁর শৈশব, কৈশোর ও সংসার জীবন নিয়ে। কথা হয়েছে আট দশকের সমাজ, রাজনীতিসহ অসংখ্য প্রসঙ্গে। এখানে ফেসবুক বন্ধুদের জন্য শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অংশটুকু পত্রস্থ করা হলো।

সারওয়ার: প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আপনি কীভাবে উদ্বুদ্ধ হন?

সুলতান শরীফ: যদি জানতে চান কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম, তাহলে ফিরে তাকাতে হয় ছেষট্টির দিকে। মুক্তিযুদ্ধতো আসলে বাঙালী জাতীয়তাবোধ আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে উচ্চ শিক্ষার্থে আইন পড়তে লণ্ডনে আসার পর আমি সর্বপ্রথম ৬দফার পক্ষে সাবেক ছাত্রলীগারদেরকে সংগঠিত করি। আমাদের তখনকার মুরুব্বীরা সিদ্ধান্ত নেন বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জোরালো সমর্থন তৈরী করতে হবে এবং তাঁর পাশে থাকতে হবে। সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করতে থাকি এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ব্রিটিশ আইনজীবী পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহন করি। বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আমরা স্যার টমাস উইলিয়াম কে পাঠাই। এখানে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যারা জড়িত ছিলেন তাঁরা শতভাগ একাত্ম হয়ে আমাদের সঙ্গে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন।
একমাত্র মোনায়েম খাঁর লোক ছাড়া প্রায় সবাই আমাদের পক্ষে কাজ করেছেন। সে সময় স্যার টমাস উইলিয়ামকে আমরা টাকা পয়সা দিতে পারিনি। লেবার পার্টি আমাদের পক্ষে ছিল। স্যার উইলিয়াম ছিলেন লেবার পার্টির লোক। আমরা তাকে সাহায্য করার অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি সম্মত হয়েছিলেন । তাঁর সম্মানী দেয়ার সামর্থও আমাদের তখন ছিলনা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা অবশ্য তাঁর পাওনা পরিশোধ করি। তখন আমাদের চিন্তা ছিল অনন্ত আন্তর্জাতিকভাবে জানানো যে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যা করা হচ্ছে তা আইয়ুব খানের সংবিধান অনুযায়ীও অন্যায়। আর এটা জানানোর জন্য একজন ব্রিটিশ আইনজীবী দরকার ছিল যিনি ঢাকায় গিয়ে সব জেনে বিশ্বকে জানান দিতে পারবেন। স্যার টমাস উইলিয়াম সে কাজটি করেছেন।

৬ দফার পর আস্তে আস্তে স্বাধীনতার চেতনা জোরালো হতে থাকে।আমি ব্যক্তিগতভাবে পড়াশোনায় কম সময় দিয়ে দেশের জন্য কাজ করাকেই বেশী প্রাধান্য দিতে শুরু করি।দেশে আন্দোলন সংগ্রাম কোন দিকে যাচ্ছে, কখন কী কর্মসূচী ঘোষণা করা হচ্ছে তা নিয়মিত অনুসরণ করতাম আমরা। একইসঙ্গে সেই কর্মসূচীর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে লন্ডনে কর্মসূচী পালন করতাম। সেই এক উত্তাল সময়। আস্তে আস্তে আমরা সংগঠিত হচ্ছিলাম। এর মধ্যে আমরা পশ্চিম পাকিস্তান হাই কমিশন ঘেরাও করি, পশ্চিম পাকিস্তানের পতাকা পোড়াই, হাই কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিই। এরকম আরো কত কী! উনসত্তর সালে বঙ্গবন্ধু লন্ডনে এলে প্রায় প্রতিদিনই আমরা তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছিলাম। তিনি আমাদেরকে সংগঠিত হওয়ার তাগিদ দেন। তিনি বলতেন দেশের মানুষের অধিকার আদায় করতে হবে, বলতেন অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, অনেক রক্ত দিতে হবে, তোমরা প্রস্ত্তত হও। তাঁর নির্দেশনায় আমরা উনিশশ সত্তরের জানুয়ারী মাসে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ গঠন করি; যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন গাউস খান সাহেব, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বদরুল হোসেন তালুকদার সাহেব আর দপ্তর সম্পাদক ছিলাম আমি।

সারওয়ার: মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে আপনাদের কর্মপদ্ধতি কী ছিল?

সুলতান: একাত্তরের ২৮ ফেব্রুয়ারী আমরা লন্ডনের পাকিস্তান হাই কমিশনে একটা মেমোরেন্ডাম দিয়েছিলাম। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবে তাদেরকে বলেছিলাম গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে তারা যে গড়িমসি করছেন তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। পরবর্তীতে ৭ই মার্চের ভাষণের পর আমার মনে হলো ছাত্রদের একটা আলাদা সংগঠন দরকার যেটা শুধু বাঙালিদের কথা বলবে। সেদিন সন্ধ্যায় আমরা পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফেডারেশনের অফিসে গিয়ে বেঙ্গল স্টুডেন্টস একশন কমিটি নামে একটি একশন কমিটি গঠন করি; যার মাধ্যমে আমরা প্রথম জয় বাংলা শ্লোগান দেয়া শুরু করি।

পরবর্তীতে ১৪ মার্চের পর পাকিস্তানীরা দেশে তান্ডব শুরু করলে এখানে সবাইকে বলতে শুরু করলাম যে তোমরা প্রস্ত্তত হও। তখনো তো জানতাম না ঠিক কী করতে হবে। শুধু এটা মনে হচ্ছিল যে বাঙ্গালীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে ভয়াবহ কিছু হবে। তাই সবাইকে মানসিক ভাবে প্রস্ত্তত হওয়ার তাগিদ দিতে থাকলাম।

সারওয়ার: একশন কমিটিগুলো কখন করলেন?

সুলতান: ঢাকা থেকে কোন নির্দেশনা না পেয়ে আমরা তো ‘সেপারেশন’র কথা বলতে পারছিলাম না। সে কারণে একশন কমিটিগুলো তখনো তৈরী করা হয়নি। ৩রা মার্চে আমরা পাকিস্তানের পতাকায় আগুন দিয়েছি। জিন্নাহর ছবি ভেঙ্গেছি। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য আমাদেরকে বঙ্গবন্ধুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সেদিন আমরা সবাইকে বললাম যে তোমরা বিভিন্ন শহরে একশন কমিটি গঠন করো। লন্ডনে গাউস খান সাহেবের কমিটি গঠন করলেন। বার্মিংহামে আজিজুল হক ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা করেছেন। আমাদের ভাইস প্রেসিডেন্ট যারা ছিলেন ম্যানচেস্টার, ওল্ডহ্যাম ও অন্যান্য শহরে তারা নিজেদের নেতৃত্বে একশন কমিটি গঠন করেন। পরে আওয়ামীলীগের দেখাদেখি অন্যরাও একশন কমিটি গঠন করে। এই একশন কমিটি হতে হতে এক পর্যায়ে একশ’ তিনটা কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি জনমত গঠনে ব্যাপকভাবে কাজ করে।

সারওয়ার: এই কমিটিগুলোর কাজ কী ছিল?

সুলতান: প্রথম কাজ ছিল এটা প্রচার করা যে বাংলাদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার হচ্ছে। দ্বিতীয় কাজ ছিল যে এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে জানানো যে কী অমানসিক অবস্থার মধ্যে তাদেরকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। আর তৃতীয় কাজ হলো বঙ্গবন্ধু কে জেল থেকে বের করে আনা এবং আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্ব জনমত তৈরী করার জন্য ব্রিটিশ জনগণকে প্রভাবিত করা। আমাদের পুরো কর্ম পরিকল্পনাই ছিল বাঙালী জাতীয়তাবাদের পক্ষে। এবং আমরা সেটা প্রমান করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।

সারওয়ার: আগামীর বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান?

সুলতান: আমি সুখী, সমৃদ্ধশালী ও ন্যায়ানুগ বাংলাদেশ দেখতে চাই। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। আর এরকম একটি বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য আমাদের জনগণকে তৈরী করতে হবে। প্রতিটি সন্তানকে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এই দায়িত্ব রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের। এখন সময় আমাদের সে লক্ষ্যে কাজ করার। (সাক্ষাৎকারটি ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে গৃহীত এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়)

লেখকঃ সারওয়ার-ই আলম, সাংবাদিক ও কলামিস্ট 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102