

মৌলবীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ব্যবসায়ী সমিতির ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করার আবেদন করেছেন সমিতির সদস্য মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগপত্রে তিনি বলেন, ঘোষিত নির্বাচন কমিশনের ক্রমিক নং ১, ২, ৫, ৬ ও ৭-এর সদস্যরা প্রকাশ্যে একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ নির্বাচন ২০২৫ পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান তিনি এম আর খান চা বাগানের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ৷ প্রফেসর রফি আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নুরুল আলম সিদ্দিকি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক৷ কমিটির সদস্য কমিশনার মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী৷ আশরাফুল ইসলাম কামরুল, মৌলভীবাজার জজ কোর্টের নোটারী পাবলিক এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আহমেদ ও ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরি।
আবেদনে তাজ উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ২৪ মে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে সভাপতি ও সেক্রেটারি তৎকালীন কৃষিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ সমর্থনে নিয়মিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ২০২৫ সাল পর্যন্ত নির্বাচন ছাড়াই অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ভোটার তালিকার বিষয়ে অভিযোগ এনে আবেদনে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৯০ জন, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১৩৩ জনে। অথচ যথাযথভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হলে ভোটার সংখ্যা আড়াই থেকে তিন হাজার হওয়ার কথা। বর্তমান ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণতা ও পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ না করে অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে এই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে ব্যবসায়ী সমাজে বিভাজন ও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার দাবী করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.ইসলাম উদ্দিন জানান, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করা হবে।