

মঙ্গলবার (২০ মে) দুদকের হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে তিন সদস্যর প্রতিনিধি দল মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা, ঔষধ ও তালিকা অনুযায়ী খাবার এবং খাবারের মান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় দুদক হবিগঞ্জ কার্যালেয়র উপপরিচালক মোঃ এরশাদ মিয়া জানান, দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অধীনে এখানে একটা অভিযোগ আছে যে খাবার তুলনামূলক নিম্নমানের দেয়া হচ্ছে এবং এখানে একটা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া হয় না এবং ঠিকমতো ঔষধও দেয়া হয় না। মূলত এই ৪ টি অভিযোগের বিষয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।
দুদক উপপরিচালক সাংবাদিকদের আরও জানান, সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিলো হাসপাতালের নিয়োগ প্রদান নিয়ে। এ বিষয়ে এখানে কোন আউটসোর্সিং বা অভ্যান্তরিণ কোন নিয়োগই হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ ছিলো এখানে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে অথচ আমরা এখানে অভিযানকালে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তসহ কাগজপত্র সংগ্রহ করে দেখলাম এধরনের কোন নিয়োগই হয়নি। এছাড়াও হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ঔষধও ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে।
দুদকের অভিযানের সময় হাসপাতালের কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ বিনেন্দু ভৌমিক। তিনি বলেন, আমরা আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করি যাতে রোগির সেবায় কোন ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে। অনেক কিছুতেই আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু যা আছে তার শতভাগ যাতে রোগীর কল্যাণে নিয়োজিত থাকে, সেটি আমরা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। রোগীর পূর্ণাজ্ঞ সেবায় যাতে কোন ঘাটতি না থাকে সেই চিন্তা মাথায় রেখেই আমি এবং আমার এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সকল চিকিৎসকবৃন্দ, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারি সকলেই আমরা আন্তরিক।
তিনি আরও বলেন, দুদকের অভিযানকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি এবং যারা অভিযোগ করেছেন তাদেরকে যথাযথ সম্মান জানিয়ে বলবো, দোষ ত্রুটি এবং ব্যর্থতা অবশ্যই আমাদের ধরিয়ে দিবেন যাতে করে আমরা আরও সতর্কতার সঙ্গে রোগীদের ভালো সেবাটি দিতে পারি। পরিশেষে আমি বলবো, চিকিৎসা সেবা জটিল একটি বিষয়। বিশাল এই প্রতিষ্ঠানটির অব্যাহত সুনাম ধরে রাখতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতার জন্য আমি মৌলভীবাজারবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। সবার সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যসেবায় আমরা আরও ভূমিকা রাখতে পারবো।