

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া খনি ইয়ার্ডে বিপুল পরিমাণ পাথরের মজুদ থাকলেও বিক্রিতে গতি নেই। এ কারণে খনি কর্তৃপক্ষ অর্থসংকটে পড়েছে। ধারদেনা করে ঠিকাদারের বিল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
মধ্যপাড়া খনি ইয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৫ হাজার টন ব্লাস্ট পাথর রেলপথে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য এবং ২ লাখ ২২ হাজার টন বোল্ডার নদী শাসনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু বিক্রি কমে যাওয়ার ফলে খনি কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। দ্রুত এসব পাথর বিক্রি না হলে খনির উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ মধ্যপাড়া খনি থেকে উৎপাদিত পাথরের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), যুক্তরাজ্যের কিউইডি স্বাধীন টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড, এবং সিঙ্গাপুরের অ্যাডমেটেরিয়ালস টেকনোলজিস পিটিই লিমিটেডের তত্বাবধানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত এবং প্রতিবেশী দেশ থেকে আমদানীকৃত পাথরের তুলনায় মধ্যপাড়া খনি থেকে উৎপাদিত পাথরের গুণমান অনেক উন্নত।
দেশে পাথরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ মেট্রিক টন হলেও এর সিংহভাগ আমদানী করা হয় ভারত ও ভূটান থেকে। আন্তর্জাতিক মানের এবং কম দামে পাথর থাকা সত্ত্বেও, নানা কারণে পাথর ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যপাড়া পাথর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য দরপত্রের দলে মধ্যপাড়া পাথরের ব্যবহারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা পালন করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে খনির কর্মকর্তারা জানান, আমদানী পাথরের উপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং মধ্যপাড়ার পাথরের ট্যারিফ ভ্যালু বৃদ্ধি প্রয়োজন। তারা মনে করেন, এতে পাথরের বিক্রিতে সুবিধা হবে এবং দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনিটিকেও বাঁচিয়ে রাখা যাবে।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে ৫-২০ (৩-৪) মিমি, ২০-৪০ মিমি, ৪০-৬০ মিমি (ব্লাস্ট), ৬০-৮০ মিমি ও বোল্ডার—এই ৫টি সাইজে পাথর উৎপাদিত হচ্ছে। তবে রেলপথে ব্যবহৃত ৫ লাখ ২৫ হাজার টন ব্লাস্ট পাথর এবং নদী শাসনের কাজে ব্যবহৃত ২ লাখ ২২ হাজার টন বোল্ডারের বিক্রি কমে গেছে।’
মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়, কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে এটি লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে খনির দায়িত্ব দেয়া হয় জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। বর্তমানে খনিতে আধুনিক মাইনিং ইকুইপমেন্ট বসানো হয়েছে এবং ইউরোপীয় প্রকৌশলী দল ও দক্ষ শ্রমিকদের দ্বারা পাথর উত্তোলন চলছে।
এই অবস্থায় সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাগিদ দিয়েছেন খনি সংশ্লিষ্টরা।
নিউজ /এমএসএম