শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন

মাংস কোলেস্টেরল মুক্ত করে খাওয়া খুবই ভালো

ডা. সজল আশফাক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ১৬ জুন, ২০২৪
  • ১১৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

কোলেস্টেরল হলো রক্ত থাকা মোমের মতো এক ধরনের বিশেষ পদার্থ। কিন্তু কোলেস্টেরল মানেই খারাপ কিছু, বিষয়টি এমন নয়। বরং কোলেস্টেরল শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগে। কোলেস্টেরল মোটামুটি দুই ধরনের- এলডিএল (LDL) ও এইচডিএল (HDL)। এলডিএল হলো খারাপ কোলেস্টেরল। অন্যদিকে ভালো কোলেস্টেরল হলো এইচডিএল। এলডিএল বাড়লেই সমস্যা। এক্ষেত্রে এইচডিএল বাড়তে শুরু করলে শরীরের পক্ষে ভালো। কিন্তু এলডিএল বাড়লে শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এ থেকে দেখা দিতে পারে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো সমস্যা। তাই প্রত্যেক মানুষকে এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। মানবদেহে কোলেস্টেরল বাড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এক্ষেত্রে মূল কারণ খাদ্যাভ্যাস। ভুলভাল খাবার খেলে শরীরে সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এলো পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানি মানেই রেডমিট বা লাল মাংসের সম্ভার। গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট কিংবা দুম্বার মাংসই হলো লাল মাংস। এসব মাংসে থাকে প্রচুর খারাপ ধরনের চর্বি। বিজ্ঞানের ভাষায় এ খারাপ ধরনের চর্বির নাম দেওয়া হয়েছে লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন। সংক্ষেপে এলডিএল। এটি হৃদপিণ্ডের অন্যতম প্রধান শত্রু। হৃদপিণ্ডের আরেক প্রধান শত্রু কোলেস্টেরল। দুই শত্রুরই বসবাস সম্পৃক্ত চর্বিতে। যে চর্বির অন্যতম উৎস পশুর লাল মাংস। এ কারণে কোরবানির মাংস ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেশি কিংবা বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে। কিন্তু তাই বলে কি কোরবানির মাংস খাওয়া যাবে না? অবশ্যই খাওয়া যাবে এবং মাংস থেকে চর্বিগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে।

মাংস থেকে চর্বি ছাড়ানোর কৌশল : মাংসের দৃশ্যমান চর্বি মাংস কাটার সময়ই কেটে বাদ দেওয়া যেতে পারে। রান্নার আগে মাংস আগুনে ঝলসে নিলেও খানিকটা চর্বি গলে পড়ে যায়। মাংস হলুদ ও লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে ফ্রিজে ঠাণ্ডা করলেও কিছুটা চর্বি মাংস থেকে বেরিয়ে জমাকৃত অবস্থায় থাকবে। এ অবস্থায় বাড়তি চর্বিটুকু চামচ দিয়ে আঁচড়িয়ে বাদ দেওয়া খুবই সহজ। আবার মাংস র‌্যাক বা ঝাঁঝড়া পাত্রে রেখে অন্য একটি পাত্রের ওপর বসিয়ে চুলোয় দিলে নিচের পাত্রটিতে মাংসের ঝরে যাওয়া চর্বি জমা হবে। এ পদ্ধতিতেও মাংসের মধ্যের কিছুটা চর্বি বিদায় হবে।

কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার আরও উপায় : রান্নার কাজে ঘি ও বাটার অয়েল ব্যবহার না করে সূর্যমুখি বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। মিষ্টান্ন তৈরির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে স্কিমড বা ননীতোলা দুধ। ডিমের তৈরি যে কোনো খাবার থেকে কুসুম বাদ দেওয়া যেতে পারে।

কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সালাদ : প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখতে হবে। সালাদ এবং শাকসবজি খাবারের চর্বি শরীরে শোষিত হতে বাধা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন ১০ গ্রামের মতো দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে।

লেখক : চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক, নিবন্ধকার ও কলামিস্ট

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102