শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর একগুচ্ছ কবিতা

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ৪৮১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

একক একাত্তর 

মধ্যবর্ত্তী পথে
একাত্তর’- এর হাওয়া একা , তবুও যেভাবে বিছিয়ে দিয়েছি অমলিন রক্তের দাগ ; সবটুকু ভালবাসা পালিত কাব্যের ব্যাকরণে !

এই মাটি নিয়েছে চিনে কবরের লাশের ঘুম ; তবু বাসকক্ষে নীরবতা আঁকা হয়েছে শ্রদ্ধার রঙ দিয়ে ,….

চেনা মুখের ঢল ; অন্য কোন শব্দের বর্ণপরিচয় দর্পণে শৈল্পীক সৃজনে কথা বলে , তবু মধ্যবর্ত্তী রাস্তায় কেউ একজন উন্মাদ ভোর রাতে ২১শে ফেব্রুয়ারী বলে আজান দিয়ে ওঠে !!

___________________________________
অবশেষ স্বীকারোক্তি

আসেপাশের শব্দগুলো আকাশ পাড়ের নক্ষত্র দেখে চোখ বুজতেই ; বোতামবিহীন স্বপ্নরা অদূরনত আবেগে মন ভাসালো সোহাগ প্রেমে ! ওই যে সেই আমি সর্বনাশের কাছে ভীষণ লজ্জাহীন ; তবু আমার আকাশ মাখা আমিত্বটুকু কোথায় রাখি , তোর চরণে ? সেই যে চোখে প্রথম আমার প্রথম ডুবে যাওয়া ! হয়তো সেদিন না ফেরার রাস্তাটাকে নীল আকাশে ছড়িয়ে দিতে দিতে কতবার যে বলেছি ; নবনীতা আমি তোকেই ….

হঠাৎ করে বৃষ্টি এলে ; মন পুড়তো শ্রাবণ ধারায় ! কত রকম বিষাদ বিষাদ গান শোনাতো আকাশবাণী ,—- অথচ আমার সেই বয়সে চোখ ফেরানোর সময় হয়নি তোর ভিজে শরীর দেখে ! কতোই যে স্বপ্ন আঁকার ভ্রাম্যমান স্মৃতি না ফাগুনের সুগন্ধি দেয় ; ওসব ভাবেলে এই মনে হয় আমি যেন আগের মত হারিয়ে যাচ্ছি !

এখন এই সময়টা অনেকটাই বোবা হয়ে আছে ; অন্য এক রাস্তা এসে প্রাচীন জন্মের স্বপ্নগুলোকে কৃষ্ণাদ্বাদশীর রাতে কপোট নিঃসঙ্গ করে রাখে ! তবুও বুকের মধ্যে মায়াময় স্তব্ধতা দীর্ঘশবাসের ভাষা খোঁজে ,—– এভাবেই ব্যক্তিগত ভাবে জ্বলি ; যতটা জ্বলি তার থেকে বেশি পুড়ি উদাস একাকীত্বে ! সবটাই এখন প্রতিদিনের শান্ত নীরবতায় চোখ বুজে অপলক চেয়ে থাকে বুকভর্তি সত্যবদ্ধ অভিমানে !

এভাবেই একসাথে শরীরহীন স্মৃতিগুলো আমাকে ডিঙিয়ে চলেছে ;
এই ব্যকুলতা দর্পণে দেখা দিলে আমিও আগের মত সহজে নির্বোধ হই ! অবেলায় চাঁদ ডোবে অন্য আকাশে ,—- সেই চাঁদ পথ ভুলে এসেছিল এই ঘরে জানলার কাছে ; কী ভাবে কেন জ্যোৎস্নাবিদ্ধ হয়েছি কবিতার পরতে পরতে !

সংখ্যাতীত নির্জনতা চোখের মধ্যে নির্ঘুম একক ; কবিতার শব্দ ছায়াগুলো স্তব্ধতায় বস্তুঃত নির্জিব ! অথচ এখানে আমার নিরীহ নিঃশ্বাসে প্রেমহীন , বন্ধবহীন সময় কেঁপে কেঁপে ওঠে …… !

কিছু একটা নিষিদ্ধ গন্ধে বহু কষ্টের গুছিয়ে রাখা স্মৃতি ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে ; আমি যেন সেই থেকে একই চিতায় জ্বলছি !

সেই যে শেষবার অবিকল আঙ্গুলের নখ দিয়ে নির্ঘুমে ঘরের দেওয়ালে পলেস্তরা ঘসিয়ে তোর নাম লিখতে লিখতে অন্ধকুঠুরির নিভৃত দরজা খুলে গেছে ; সেই পথে কোথাকার অবিশ্বাস আমাকে আদিখ্যেতা দেখিয়ে ডেকেছে ! পুড়ে উঠি , জ্বলে উঠি ,— কিরে নবনীতা ; একবার নিষিদ্ধ মৃতদেহে একবার অশ্রু ঝরা ! যাতে প্রতি জন্মের মৃত্যু নিয়ে আমি পুড়ি সুকুমার নির্জনে !!

___________________________________

পরবাস্তব এবং হৃদয়তান্ত্রিক পদ্য

চোখের কাছে অচেনা সর্বনাশ
ভেতর থেকে দৃশ্যের বিচ্ছেদ
মনের মধ্যে যন্ত্রণার অলি-গলি
নামহীন যত কান্নার নির্দেশ !
এখন থেকে অন্তরে তুমি থাক ; বিম্বা অতলে হৃদয় মেলে রাখ ….
এইবেলা যদি স্পর্শে ওঠো কেঁপে , আকাশ থেকে বৃষ্টি আসুক ঝেঁপে ,—
গভীরের সুখ সময়ের পথ ধরে
চলতে – চলতে কোন অতলান্ত ভোরে
স্বপ্নের কথা নিজেকে বলতে – বলতে ; ঘুম ভেঙে যায় মনের অজান্তে !

কোথায় যেন পুড়ছে অচেনা স্মৃতি , মিথ্যে – মিথ্যে বিষণ্ন দুটি চোখ ,—-
কোথায় যেন নামহীন পৃথিবীতে
ভোরে আছে যত মৃত্যুর প্রতিশোধ !
হঠাৎ যদি ফুল – পাখি – চাঁদ দেখে ; সময়ের সাথে একা একা পথ চলি ,—-
কবিতার কাছে আশ্রয় খুঁজে নিয়ে ; তিন প্রহরের যন্ত্রণা তাকে বলি !
এসব কথা আত্মায় ঘোরে – ফেরে ; তবুও কেন মন বোঝে না তাকে ,—– চতুর্দিকের অগণন স্মৃতিগুলো আদিগন্ত ভালোবাসা হয়ে থাকে !

চলে যাব ব’লে চোখ ভিজে আসে জলে ; চুপচাপ শুধু নীরবতা নিয়ে থাকি ,—-
চেনা – অচেনার অনেকেই কাছে থাকে
মৃত্যুর পাখি করে যায় ডাকিডাকি !
নতুন ক’রে আসব আবার ফিরে ; ডাকবে কাছে নতুন নামে যখন , সেই পুরাতন স্মৃতির ফাঁকে – ফাঁকে
আগের আমিকে পড়বে কি মনে তখন ?___________________________________
শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল

ৎ থেকে ৺
সাদা পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ- এ অমাইক তারা ! তবুও শব্দের শেকড়ে আদুরে এ – কার , উ – কার বিমূর্ত এলেবেলে দু’জন পরকীয়া দোষে প্রাচীন দ্রাঘিমা থেকে বেরিয়ে এসে ভাষার উঠনে সহজ কিস্তিতে ব্যাভিচার বর্তমানকে নষ্ট অতিতের গল্প শোনায় !

যতটা ঋণস্বীকার করা যেত ; হৃদয়তন্ত্রীতে কাব্যের সরিফ যারা অনেক কাল আগে উপনিষদের সারস্বত ছায়া দেখে দেখে চলেছে ভবঘুরে হিজড়ের ছদ্মবেশ নিয়ে ; আকাশ উচ্চতায় উঠে সৃজনের চেহারা দেখে ঘুমহীন নির্ঘুমে ফুঁসলে নিল দৃশ্যের উপমা !

শেষ কথা প্রশাখা মেলেছে উল্টোমুখে ; বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখা নির্নিমেষ স্মৃতি , সেখানে কবিতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছে অন্যকোন পৃথিবীর প্রাণীর জীবাশ্ম ! যদিও এই রাস্তাটায় অন্য কোন অচেনা নামের পথ এসে আলাপ করেছে অতিরিক্ত নিঃশব্দে !

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোলকুঁজো নির্জনতা দৃশ্যত অতীত খুঁড়ে – খুঁড়ে আমার প্রতিটা জন্মের সাদা পৃষ্ঠার পোশাকগুলোকে নিরীক্ষণ করেছে এক পশলা বৃষ্টির ভেতর !

এই সব ৎ এবং ৺ , এরা চোখের মধ্যে দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় ৷ তবু বাতাস পঁচা গন্ধ নিয়ে সারারাত জেগে বসে থাকে কাব্যগ্রন্থের দৈন মলাট !

সময় তবু কিছু কিছু সর্বনাশের আয়ু নিয়ে এভাবেই আড়াল হয়ে থাকে ! যদি ভুল না করি ; অক্ষর শ্রমিকেরা এভাবেই ঠকে আদ্যোপান্ত মনভ্রমণে !

চলেছে আমার শরীর স্পর্শ করে বহু জনমের ছায়া ; ভিতরে ভিতরে অপলক তাকিয়ে চেয়ে থাকে আজীবনের কবিতার পংক্তি ; শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল !!

অন্য একদিনের
ভুল উচ্চারণ গুলি নিয়ে দিকহারানো স্বপ্ন নিয়ে হেঁটে বেড়ানো আমার ; সবটাই ফুরিয়ে যাওয়া স্মৃতি ৷ তবু মনের মধ্যে লেখা এক পাতা কবিতা সারারাত্তের ঘুমের তলার আমোঘ নির্ঘুম ,—– হাতের মুঠোয় এক টুকরো অভিযোগ উদয়াস্ত যত্নে থাকুক ; বিশ্রী ভ্যাপসা শব্দগন্ধে মূকবধির অসুখ – বিসুখ !

দর্পণ উল্টে রাখা কল ঘর নির্জন হলে ; সেখানে জেগে ওঠে অন্য কোন হারিয়ে যাওয়া শব্দ ৷ প্রতিদিনের মার্জনা এভাবেই কাব্যের পান্ডুলিপি পোড়ায় আমার অন্তর্গত একাকীত্বময় চটুল নিঃশ্বাস – প্রশ্বাসে !!

___________________________________

হাওয়ার ভেসে উঠলাম

জেগে থাকার মগ্নতায় বদলে নিলাম আকাশ ! অন্দরে তখন বোধিসত্ত্ব বয়সহীন একা এভাবেই ,—– যদি কথায় মন নিয়ে এগিয়ে এলে গভীরে চেনা রাস্তায় চলাচল করে বর্ণমালা !

সেই একই ভাবে শব্দ দেখবো অনন্ত দ্রাঘিমার ভেতর ; মৃত স্মৃতি মন পোড়ায় শয়ন শিয়রে , তবুও চোখের মধ্যে চাঁদ – তারা – অন্য নক্ষত্রেরা দু’দিনের ঘৃণায় ছায়াহীন দুঃস্বপ্নের ডাকে মৃত্যুর প্রতিনিধি !

শেষ একবার ইচ্ছে করেই উলঙ্গ হলাম ! এই নগ্নতা ঈশ্বরীয় ; সকাল – সন্ধ্যার মত অস্থায়ী ভাবে বিবর্ণ দৈবাৎ ,—-

যদি প্রতিদিনের অসুখগুলো পরমুখাপেক্ষী না হতো ; তাহলে বৃষ্টিবিন্দুগুলো সাক্ষী থাকতো অকৃপণ সময়ের কাছে !

শেষ বারের মত হাওয়ায় ভেসে উঠলাম ,—- তাই শরীরহীন প্রার্থনা নিয়ে আদেখা ঈশ্বরকে বলি আগামীজন্মে আমাকে ঘুড়িজন্ম দিও হে প্রেমময় !!

___________________________________
আমি যেন অতলান্তের আমি

চোখের ভেতর সেই নদীটা লুকিয়ে ছিল
মনের মধ্যে না বলা কথার ঝড় থেমেছে
হঠাৎ কেন স্বপ্নঘুমে সেই পাখিটা ,
ভিন্ন সুরে আকাশ দেখে গান গেয়েছে !

কী লিখব , কি লিখছি , থাক এখনি
ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো নানান কথা ,
ভাসছি আমি সেই নদীতে বহতা স্রোতে —
বুকের মাঝে থাকছে না আর নীরবতা !

গায়ে গায়ে মাখি বৃষ্টির ভিজে ফুল
সুগন্ধিতে লাজুক শোভনতা ,
চোখের মধ্যে অন্য চোখের কথা
বাতাসে উড়ছে হৃদয়ের ব্যাকুলতা !

প্রথম ছোঁয়ায় গোপন যত মনে
এক সমুদ্র তেরো নদীর ঢেট
প্রথম দেখায় আকাশ রাখি চোখে ,—-
আমি জানি আর জানেনা কেউ !

আপাতত আমি হৃদয়ের কাছাকাছি
দু’হাতে মাখি গোপন অন্ধকার ,
সবটুকু মন জন্মের দেবালয়ে
সমর্পণে একই ভাবে একাকার !

এই কটা দিন একান্তে একা – একা …
গদ্যে পদ্যে শূন্যতা ভরা আলো ,
মনের আকাশে ভাসমান স্মৃতিগুলো
প্রতিতুলনায় বলছে আগুন জ্বালো !

আমার স্বপ্ন আমাকে করেছে ঋণী ,—-
দাম দিয়ে কেনা আমাকে নিজের থেকে ;
আমার কথা আমাতেই থাকে একা
কত কবিতার পথ গিয়েছে বেঁকে !

আমি যেন অন্য কোনো আমি
দর্পণে দেখি দীর্ঘ সর্বনাশ ,
আমার কথায় কবিতার দশ পাতা —-
বায়ুভূত হয়ে করে যায় উপহাস !

আমি হঠাৎ নতুন আকাশ নিয়ে
মনের সূর্য দু’চোখে সাজিয়ে রাখি ,
আমি যেন আঁধার রাতের আলো ….
সব স্মৃতি সুখ নিজের অতলে মাখি !!

___________________________________

চোখ দুটো আকাশ ঢেকেছে মনে মনে

ফেরবার পথে নতুন মেঘ স্পর্শে চেয়েছে ; একথা মাটির
লতাপাতারা কোনোকারণে বোঝেনি, — বোঝনি তুমি
সেজন্যে বৃষ্টির অমোঘ গন্ধে নড়ে ওঠে নিশীথের নৌকার পাল
ফেরবার পথে খুব কাছে ছিল আকাশের এক কোটি তারা
হাত ডুবে ছিল বিন্দু বিন্দু আলো
সমস্ত দিনের কাছে আজ রাতের জন্মদিন
এই প্রথম ছন্দমিলে যাবার কথা বৈরাগী ভিখারী কবি জানতে
পেরেছে **** প্রত্যেক পাতাতে শব্দ স্পন্দন আগুনে স্নান করে !

ফেরবার পথে দুর্যোগ হলে
আলোর মধ্যে সাঁতারে গেছে বৃষ্টিঝড়
অনেক রাতে নদীতীরে ভেসে আসা মৃত্যুকাল
মহত কষ্ট নিয়ে বেঁচে ওঠে ! নতুন শরীর থেকে জ্যোৎস্না অদৃশ্য
হবে – হবে ক’রে আশৈশব নির্জনতা বাতাসে ছোঁয়ায় আদিম
ঝড়ের আগামী তান্ডব ****
এই দিকে বেঁকে গেছে চোখ ঢাকা ভৌতিক অতীত
দ্বিধায় – দন্দে নিঃশ্বাস নীল এই জীবন —
যেখানে স্বপ্ন বদল করে কবিতা লেখা মন
স্মৃতির হাত ধরে কঠিন মুখ গুলো ব্যক্তিগত বন্দনা করে
নিজেরা নিজেই ।

ফেরবার পথে ঘুমন্ত কিছু ভুল নম্রতায় নত
অপার্থিব বিষণ্ণতায় ব্যস্ত ছিল সময়ের ঘূর্নি দুনিয়া ***
এই একা একা চোখ দুটো আকাশ ডেকেছে মনে – মনে
বৃষ্টির ভেতর থেকে একদল ভিক্ষুক ছায়ারা ইচ্ছা মত লুকিয়ে
যায় মেঘের আড়ালে —
এই একা একা নির্বোধ রেখাগুলো জল কাদায় অশরীর
এখানে বাতাস প্রার্থনায় হৃদয় পাইনি একমুঠো ক্ষমা
অথচ শেষ দিন চাঁদ ফুরিয়ে গেলে কবিতার নীল দেহ গভীরে
শুনতে পায় বৃষ্টির বহতা চলাফেরা !

কথা হয়েছিল বেশ কিছু সময়
এইযে মৃত্যুময় দিন কতটুকু দেখেছে হৃদয়
সর্বনাশের রাস্তায় বুক চেপে কেঁদে ওঠে অন্ধ বিকেল —
ফেরবার পথে সে তবু একটিবার বলেনি ; থেকে যাও !
প্রাণ দেব, দেহ দেব, একবার মাথা খাও — থেকে যাও !
একটু সুখ থেকে প্রতিভূ সময় নিয়ে ছিল বাঁচার সঞ্জীবনী
ঘোরতর দুঃখের ভেতর সহজ সরলতা ছায়ার মত জ্যোৎস্না
পেতে দিলে, সেখানে ঘুমিয়ে পরে মিথ্যা বিশ্বাস ****
ফেরবার দিন সব কিছু ফেলে চলে এলে
স্বভাবতই উদার মনে হয় অতলান্তের নিজেকে
নতুন কাব্য থেকে অমৃত অক্ষর গুলো চাপা দীর্ঘশ্বাস ছড়ায়
এই একা একা স্মৃতির বহু দূরে চলে যেতে হবে !

অখন্ড চিন্তা ঘুর অলিন্দে বেশ ছিল
এবার মৃত্যু এবং মৃত্যুর রাস্তার ভেতর স্বপ্নাতুর হৃদয়
দিকহারানো সন্ধ্যায় উড়তে শুরু করলে ( ভুল করলাম, – চলতে
শুরু করলে ) নেশাগ্রস্তের মতো ঘৃণ্য দেখায় !
শেষবার তার চোখে সামান্য কিছু স্বপ্ন বৃষ্টিবিন্দুর মত দেখা দিলে
কত উঁচুতে আকাশ ; সেটা মিলিয়ে গেল কান্নায় ****
এবার লোকজন জানিয়ে প্রাণ দেব
এবার শ্মশান মাটিতে ঘুমন্ত এই শরীর আগুন খাবে , পুড়ে যাবে ,
উড়ে যাবে, — তখন বলে দেখো ; ভালোবাসি !
তাহলে মৃত্যুর পরও শেষ করবো নিজেকে *****
তারাভরা রাতে ছাই হব —

ঘোরতর ঘৃণায় সতেজ অসহবাসের দুঃখ
শেষ চিনিতে প্রেম চাইতেই ঋণী রইলাম যন্ত্রণার কাছে
এভাবে কবিতার অতল স্বপ্নময় কথা পথে
অপার্থিব স্মৃতি সঙ্গী ; একমাত্র তুমি —
সারাটা দিন বুকের ভেতর জেগে আছে আবিঙ্গনের নীল আকাশ
এই পথে চুরি হয়ে গেছে আমার আমিটার
অথচ তোমার জন্য কিছু বলেনি ; ব্যথা গোপন করেছি কতবার
হিসেব রাখিনি একবারও !!

___________________________________

যদি জিগ্যেস করো

স্মৃতির দলিলগুলো আচমকা ফিরে এলে দক্ষ দার্শনিকও সাষ্টাঙ্গ শরীরে ভেসে ওঠে অর্ধেক নির্ঘুমে !

রোজ স্মৃতিমত্ত স্বপ্নরা এভাবেই অবুঝ – অটুট ; এই পরিণত দুঃখ কষ্টের ভেতর নির্নিমেষে মৃত্যু নিয়ে ভাঙছে হৃদয় ,—- এই অশরীর বয়স থেকে কখনো – সখনো ছায়াময় অভিমান দেখা দিলে আমার পাশাপাশি রাতের মেঘে ঢাকা অন্ধকারে ডুবে থাকা নক্ষত্রেরা সমবেত কান্নায় অন্তরীক্ষ জাগায় ; এটা কি তোর বিশ্বাস হয় ?

যদি কোন ভাবে জিগ্যেস করো ; বর্ষণে বর্ষণে আকাশ ক্লান্ত হয়ে উঠলে ; তোমার বৃষ্টি ভেজার মধ্যে অশ্রুপাত সেটা কি ঠিক গবেষণার কারণ হবে ?

এই সময় গর্ভে বিলীন শরীর হীন আমি ; যে আমি দূরত্বের ভেতর একা একা ভাসতে ভাসতে দু’হাত দিয়ে ছুঁই তোকে ! সেটাকি তুই একবারের জন্যেও জিগ্যেস করেছিস , হে আমার আহ্লাদমাখা প্রেম ?

অনেকটা পথ হেঁটে – হেঁটে মিথ্যে হয়ে যায় গভীরের গভীরের পথ চলা ! তবু চলার মধ্যে তোকে নিয়ে লেখা কবিতা গুলো প্রত্যন্তে বিষজ্বালা দেয় ,———
এই পথে নিঃশব্দ আঁকা নিরাকার বর্তমান ; অনেক কালের শূন্যতা ভরা নন্দিত নিরবতা নিয়ে আলোচনা করে ! সেটাকি তুই একবারও মন পেতে শুনতে পেয়েছিস ?

ভেতরে পিছু চেয়ে দেখার ইচ্ছা আকাশভেলা ভাসিয়ে অতলান্তে আকুল , ….. তবু ফেলে আসা ঘর – সংসার – চেনা মুখ – টকঝাল স্বপ্ন – ঠোঁটের মধ্যে একান্নটা চুম্বনচিহ্ন ; এসব কী গোপনে এসে দেখা করেছে আমার মৃত্যুর উনিশ দিন পর ? এটা একবারের জন্যে জিগ্যেস করেছিস ? অথচ কতবার ছাদের চিলে কোঠায় তোকে ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হলেই ছু–ট্টে পালিয়েছিস আমার আঙুল কামড়ে বিবেক বৈরাগ্যো জাগিয়ে ! কি–রে একবার আচম্বিতে এসে খুলে ফেল মিথ্যে মিথ্যে ভালোবাসার যাবতীয় জটিল ছদ্মবেশ …….

একমনে এমনি এ’ভাবে
পুড়ছিলাম দুর্বোধ্য শব্দগুলো নিয়ে নিভৃত আগুনে ,—– বহুবার তোকে ভা-লো-বা-সি বলেছি ; অথচ একবারও তোর মুখে শুনতে পাইনি ভালোবাসিস ….. ভালোবাসিস আমায় ! অতলস্পর্শে উতল হাওয়া দিলে স্মৃতিকথা ঢাকা পড়ে যায় আমার আগুনে খাওয়া শরীর ; তুই কি নির্জন দুপুরে এখনো ছাদের চিলেকোঠায় আমার ফেলে আসা স্মৃতিগুলো নিয়ে খেলা করতে আসিস !! কিরে বলনা একবার ; তাহলে মরেও শান্তি পাই ___________________________________

অস্বীকার তো করিনি তোকে

একটা ছায়ার উপর দাঁড়িয়ে মনে হল যেন আমিও কৃয়া পদহীন ; অশরীরী ! কবেকার মনটুকু জটিল সময়ের ভেতর দিয়ে থেকে থেকে ভুলে গেছে নিজেকে নিজেই ,—– এই মন দেহশূন্য নামগোত্রহীন অপ্রমেয় বিদেহী !

তুই অস্বীকার করলেও , না করলেও আমি প্রাচীন ভাষ্কর্যের মত এভাবেই একা ও একক রোদ বৃষ্টিতে নিঃসঙ্গ ! মন খারাপের গন্ধে নির্ঘুমে একাই থেকেছি স্মৃতিবাস সম্মেলিত ; এই নৈমিত্তিক কারণে তোকে ছুঁয়ে দেখার সামর্থ্য হয় নি একবারও ….. তবুও এই প্রেমগুলোতে তুই-ই যেন কুয়াশা মেখে অস্পষ্ট ভাসমান এখন !

কবিতার পাতায় পাতায় বুদ্ধিদীপ্তা সুন্দরি তুই , এটা যেন আমার নিঃশব্দে বলে ফেলা কাঙালপনা ; তাই না রে ?
সেবার হঠাৎ বৃষ্টিতে বুকে জ্বলছিল অহংকার ; অন্য এক স্বপ্নের কাছে তুই ও পলাশ রঙা হাসি ছড়িয়ে বিক্রি করছিলি তোর আনন্দ – সুখ ; আরও কত কি ! আমি তখন কতকালের শ্মশানে একা এভাবেই পুড়ছিলাম ; সেই দেখে দেখে !

এই একটাই দেওয়ালহীন ঘর ; আশ্চর্য রকম বৈরাগ্যে অনেকটাই রূপকথার মত ! এখানে এই ঘরে তোর শ্বাস – প্রশ্বাস একদিন ছিল ভীষণ অলিখিত সর্তহীন ….. অথচ এখন এই ঘরটা নেটওয়ার্ক ছাড়া বেমালুম নিরবতায় আহত বিষাদাকীর্ণ তুইহীন নিঃশব্দ ; নির্জন !

কিছু কিছু নির্জনতা নির্ধারিত স্তব্ধ ; একেবাকেই কথাহীন ৷ নতুবা প্রেমের কাছে অনেকটাই অহর্নিশ কৃতদাশ ! অন্তর্দহনে দগ্ধে দগ্ধে না মরেও মৃত চিরকাল ,—- যদিও কবিতার কাছে কতবার তোর জন্যে ক্ষমাও চেয়েছি হৃদয় শূন্য করে ; কতবার এই ঘরের বিছানা চাদর পুড়েছে অমনষ্কে সিগারেটের আগুনে , একমাত্র তোকে মনে করে ! স্নায়ুতে মায়াবন্ধনী তুই ; এই অবধারিত মন কষ্ট এক মূহুর্ত বিশ্রাম দেয়নি আমাকে ….. অথচ বহু দূর থেকে একই পথ ধরে চলতে চলতে গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিল ; সেটা একমাত্র তোরই জন্য হে প্রেম !

মৃত্যু মৃত্যু স্বপ্নগুলো জীবন্ত ফসিল ; এই প্রবাহমান সৃজন কষ্ট গুলো ইচ্ছানুযায়ী মরে ও বাঁচে এটা একমাত্র তোরই জন্য হে প্রেম , প্রিয় নারী ! অশরীর ভালোবাসা !!

___________________________________

ম্যাকডেভিড মহাশূন্য এবং প্রতিটা জন্মের মৃত্যু

ক )  এখন অদ্ভুত এক বাতাস বইছে । বাতাস নয় , অতীব পরিণতি
এই বিশ্রী সময়ে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গম হয় জীবনের
মৃত্যু বাড়ে , বেড়েই চলে সর্বনাশের মতো আয়ু
এখানে প্রভূত কষ্টে অন্ধকার গর্ভের ভেতর একাই নিঃশব্দ ;
নির্জনতা !
অথচ শরীরহীন স্বপ্নগুলো প্রতিদিনের কানাকড়ি নিয়ে
বিস্মৃতির ভেতর ডুবে গেলে বুকের ড্রয়ার খুলে
কেউ একজন দেখে নিজের কঙ্কাল ! বেশ বিষজ্বালায় অনন্ত গভীর অতল , সেও মৃত অন্তহীন অবুঝ – নির্বোধ
পরের বাক্য কবিতার কাছাকাছি চোখ ভরা বহতী নীরবতা
সেটাও ইচ্ছা হলে ছুঁয়ে থেমে যায়

খ )  নতুন স্মৃতিতে ছায়ারাও অবাক
শিকড়ের টানে শুরু হয় অলীক আক্রোশ
প্রতিটা জন্মের মৃত্যু মহাকাশ থেকে ম্যাকডেভিড মহাশূন্য
ছিমছাম অথচ সতত যন্ত্রণা ভোগে ! বেশ কিছু অভুক্ত চোখ
কবিতার ভেতর সময় কাটায় — এই হোলো জীবন ;
জরায়ুর মধ্যে খোঁজে কবেকার প্রাচীন খোলোস ।
যদি মরে যাই, — অথবা জ্বর থুতু , শ্লেষ্মা , — এদেরকে ভিখারি
করে রেখে যাব !
পথ পৃথিবীময় , গোপনতা আরও ভেতরে অনন্ত বিস্মৃত !

গ ) হয়তো সারারাত আত্মঘাতী স্মৃতিরা
নিজস্ব নিয়মে দিক চিহ্নহীন — ঘৃণা এবং অস্থিরতা
প্রতিদিন সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে মধ্যরাতের চাঁদ চোখচুপ প্রণয়ে
বুকের মধ্যে রাখে বিশ্বাসী হাত ! অহর্নিশ এই দুর্দিনে এই আমিত্ব
ভরা নিঃশব্দ ; স্বভাবতই ক্যালেন্ডারে দোল খেতে খেতে
অন্ধ হয়ে গেছে !
শেষ রাতে অভিমানের তালা খুলে যায়
ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় মনে মনে কথা বলাবলি ,
এরপর কবিতা থেকে দু’চোখ তুলে নিয়ে নিজের কপালে মাখি
নষ্ট আকাশের সর্বনাশী জ্যোৎস্না —
( এটা অবশ্য সখ করে নয় ; আবার সান্ত্বনা পাব বলে নয় )
কিছু কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয়
সেজন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে যাওয়া
পাগল বৃষ্টির দল অবুঝ শিকারী, সেখানে বিচ্ছেদ জ্বালায়
নির্জন হয়ে থাকে পূর্ব পরিচয় । ( নির্ঘুমের উপাখ্যান ) —

ঘ ) বেঁচে থাকতে তোমার অতীব কাছে চোখ ছিল সততই ঈশ্বরীও
বুকের ভেতরে এক সমুদ্র ঢেউ ; নতুন আকাশ থেকে
নতুন তারাদের বিজ্ঞাপন অন্তর লজ্জায় ঘুমের মতন একদলা স্বপ্ন
গন্ধে বহতাময় ! কেমন সহজ সেই ছবি এঁকে ভাসমান সুখ দেখতে চেয়ে ওষধি স্মৃতির ভেতর চোখাচোখি ; ‘
চোখের মধ্যে ছুটে আসা স্পষ্ট ছায়া চুম্বন মুছে—
তুমি এই মৃত্যুর আগেও শ্মশান যাত্রীদের নাম বাতাসে লিখেছো
সেই সারাদিনের বৃষ্টি স্পষ্ট কথাগুলোকে ইস্ত্রি করা পোশাক
পরিয়ে কবিতা করেছি !

ঙ ) এই একবারই বৃষ্টি এনেছি চোখে ; তোমাকে দিয়েছি অরণ্য
উপহার ! এই একবারই নরকের পথ ঘুরে লক্ষ্যশিরা – উপশিরায়
জন্মঋণের রহস্য খুঁজেছি, অতলমন্ত্রে শূন্য নামে পায়ের নীচে
বৃষ্টির গোপন ধারায় এলোমেলো হয় আয়নার তেপান্তর —
তবুও এই একবারই শ্রাবণ এনেছি অন্তরীক্ষ ভেঙে !
বেশ কিছু মৃত্যু আমার চেনা হয়ে গেছে , —
আমার প্রতিজন্মের মৃত্যু আক্ষরিক এবং ভালোবাসাহীন
এই জন্যেই মুছে দিতে হয় প্রতিটা মাতৃগর্ভের স্মৃতি
মনের ভেতর থেকে যাবতীয় স্তব্ধতা ;
আদেশ দেয় তুমি পদবী ভুলে যাও !

চ ) ফের দুঃস্বপ্ন, ফের ঘুনন্ত অস্তিত্ব শরীরময়
সমস্ত আকাঙ্ক্ষার ঘ্রাণ নিছক অবহেলায় মুছে দেয়
কত পথ, কত প্রেম, কতই যন্ত্রণার অবুঝ অস্থিরতা
এসব আমাকে বোঝায় — আমি প্রাণহীন জীবন নিয়ে
অতৃপ্তির জ্বালায় কত শত বছরের আকাশে ঘুরেছি ;
এই একা একা পোশারহীন পছন্দ – অপছন্দ অথবা ছদ্ম আদর্শ
আমাকে অহর্নিশ অনন্তকাল ঘোরায় – ফেরায় – ভাসিয়ে ছাড়ে !

কোথাও মৃত্যুর ছবি দর্পণে দেখা দিলে ফুল – চন্দনের গন্ধ
পাপমোচনে উৎসাহ পায় !
কী এক দেবতার কাছে আমার প্রতিটা মৃত্যু বিশ্লেষণ ;
অনেকটাই ভাসমান !

ছ ) এরপর যতদিন মনে পড়া পাতা খসা বিকেলে
কে আমার কথা মনে করছে ? সে কি প্রতিটা জন্মের চেনা মুখ ,
চারপাশে অসুখের ভেতর চুপচাপ হয়ে থাকে হেমন্তের চাঁদ
ঘুম কাটেনা দুঃখে – অভিমানে ,
স্বপ্নের পোশাক খুলে স্নান করে অশরীর স্মৃতি ……
কেউ একজন নতমুখে ঘরে বসে থাকে , —
সেই কি প্রেত ? হতে পারে !
এর মধ্যে মন ভেঙে গেলে সমস্ত নির্জনতা হয় খেলার সঙ্গী
কতদিন এভাবে আসি আর যাই
কতদিন রাত ডোবা ভোরে ; মৃত্যুর এক ঘন্টা পরে আবার জন্মাই
তারপর নির্নিমেষ খুঁজি ফিরি পথ, যে পথে দিক চিহ্নহীন
দূরে আমার ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছে !

স-মা-প্ত ___________________________________

কবি পরিচিতিঃ এই সময়কার অন্যতম একজন জনপ্রিয় কবি হলেন বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ ই জুন , ১৯৬৪ পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সাংস্কৃতিক পিঠস্থান শ্রীরামপুরের ঝিলবাগান অঞ্চলের “কুসুম কুঞ্জ”- এ ৷ পিতা ৺পিযুষ কান্তি ভৌমিক এবং মাতা ৺ ছায়ারাণী ভৌমিক ৷ ছাত্র জীবনের হাতেখড়ি শ্রীরামপুরের পূর্ণচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷ মাত্র আট বছর বয়সে প্রথম ছড়া লেখা দিয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ৷ পরবর্ত্তী সময়ে বাংলা কাব্য সাহিত্যের সব শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা , কবিতা সংকলনে একমাত্র কবিতা ও শিশু- কিশোরদের জন্য ছড়া লিখে বিদ্যুৎ ভৌমিক দু’ই বাংলার পাঠকদের মনের মণি কোঠায় পৌঁছে গেছেন ৷ তাঁর কবিতার মধ্যে নিজস্ব একটা ব্যতিক্রমী ঘরানা তিনি সৃষ্টি করেছেন ৷ তাঁর অন্যতম কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ১ ) কথা না রাখার কথা ২) নির্বাচিত কবিতা ৩) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়েছিল ৪ ) নীল কলম ও একান্নটা চুমু ,— ইত্যাদি ৷ কবিতাচর্চা পাশাপাশি তিনি একজন বাচিক জগতের অন্যতম বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ৷ বেতার , দূরদর্শন , বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল , বিভিন্ন youtube channel , মঞ্চ সহ সোসাল মিডিয়াতে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি পাঠক ও শ্রোতাদের মনরঞ্জন করে চলেছেন ৷

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102