

ছেলেটা
ছেলেটা পাগল ব’লে মাটি ফুঁড়ে উঠতে চায় ,—– গোলাপচারাকে সিরিঞ্চ – সিরিঞ্চ জল দান করে , স্বপ্নের প্রোদ্ভিন্ন চমক নিয়ে উঠে আসে দুর্ঘটনা মাড়িয়ে !
ছেলেটা ধোঁয়া আর অন্ধকারকে ব্লেড দিয়ে আড়ালে কাটতে চায় ,
বৃষ্টির ভিতর পৌরুষত্ব দেখিয়ে সোজা হেঁটে যায় স্মৃতি যেখানে গিয়ে ঠেকেছে ,—–
ছেলেটা পাগল ব’লে চতুর্দিকে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ,
ওখানে যে সুস্থ মানুষের নিঃশ্বাস ছড়িয়ে !
ছেলেটা দূরের কথা শোনার তাগিদে
বাতাসে নিঃশ্বব্দে কান পাতে !
ছেলেটা ভাঙতে পারে না পালোয়ানের দাঁত ,
মাটির ভাবনাগুলো সন্তর্পণে মিলিয়ে নেয় মনের আঙ্গুল গুণে ——–
মহাশূন্যে টুপি ছুঁড়ে দিয়ে মহাকাশকে জানায় স্বার্থপর হয়নি সে !
ছেলেটা পাগল ব’লে গোরস্থানে মৃতের কাছে শেখে শব্দহীনতার কৌশল ,
ছেলেটা দেবতার মতো একবিন্দুও সাড়া দেয় না জটিল মানুষের উপেক্ষায় !!
___________________________________
অন্যবেলা
অপ্রমেয় গভীরতা শান্ত ; তবু বাহির থেকে অশান্ত রূপরেখা গোল বাধায় ইচ্ছাকৃত নষ্ট আবেগে !
এই নে বিকলাঙ্গ সময়
বুক ভর্তি স্বপ্নগুলোে জানলা খুলে উড়িয়ে দে ,
দেখিস ভালোবাসা প্রিয় মৃত্যুর শরীরে চুম্বন না দেয় !!
___________________________________
নিছক
ফিরে তাকাতেই
ভালোবাসার পাখিটা
ফুড়ুৎ ! তখন হীম স্পর্শতে
চোখ বুজে এলে ; ঠোঁটে
বেমালুম কথা
আটকিয়ে যেত ,….
তবু তোকে দেখবো বলে
সূর্য মাথায় নিয়ে নিছক
এখনো আগের মত
রোদ পোড়া বারান্দায়
ভালো মানুষের ছদ্মবেশ
নিয়ে
নিঃশব্দ নীরবতায়
দাঁড়াই ; যে রাস্তায় রোজ
স্কুল ফেরত তুই হেঁটে
যেতিশ !!
___________________________________
এক নামহীন স্টেশনে আমি
একমাত্র ঈর্ষণীয় কিছুর জন্য ভেতরে ভেতরে মন নিয়ে পুড়ছিলাম ; অথচ সেই এক রাস্তায় বহুবার মৃত্যু এসে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গেছে অপ্রমেয় এক নামহীন স্টেশনে ! তখন ঠিক স্বপ্ন ছিল .ঘুমহীন রাতগুলোর কাছে , …. যদিও আমি যতটা যেভাবে এতকাল ধরে ক্ষয়েছি ;
তবু মৃত্যুর খবর টুকু অনুধাবনে মনকে সক্ষম করে নি একবারও ! শেষ পর্যন্ত ঐ যে চেনা মুখ , চেনা শরীর , ঘর-বাড়ি , হৃদয় ছড়ানো রাস্তা , কিছু কিছু সুখ ; এদের মধ্যে বহু পুরুষের জন্মের দাগ নিয়ে আমি একজন ! এই আমি হাওয়াময় একক এভাবেই , ….. নজর ছড়ানো পাপ , তাপ , দুঃখ এবং বিরহ ; বেশ কিছু নতুন নতুন অসুখ পোড়া প্রহরের স্মৃতি বিজড়িত ! এই আমিটার মধ্যে আদ্যোপান্ত জন্মগত , ……
অন্তঃস্থলে নির্ঘুমের আঠা লেগে আছে ! রক্তের ভেতর ঘুরছে গত জন্মের স্মৃতি হয়ে যাওয়া চেনা মুখ গুলো ,
এই পাঁচকোনা ঘরে আমি দরজার পাল্লা ধরে দাঁড়িয়ে বহুদিন বান্ধবহীন একা ; তবুও তাকিয়ে থাকা খোলা চোখে বেশ কিছু ভালোবাসার শূন্যে ওড়াউড়িতে তালিয়ে যাই , ……
আমি এভাবেই মৃত্যুর কাছে ঋণী ! মধ্যরাতে নিঃশব্দে এভাবে চুপিসারে মনের ক্যানভাসে আঁকি নদীর তরঙ্গ ; জলের দর্পণে ভাসে রমণীর জটিল লাস্য ৷ এভাবে কত রাতের অন্ধকারের মধ্যে মৃত্যুর সম্মুখে শোকশীর্ণ হয়ে মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার ইহকালের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি ! এটাই আমি ; আমার দীর্ঘশ্বাসের গন্ধ সমর্পণ করতে তারা খসা আকাশটাকে ! অথচ নবনীতা নাম্নী নারীটি খারাপ ইঙ্গিতে নিরস্ত্র করেছে অলৌকিক ক্ষমতায় ম্যাজিক ফিগারের কল ঘরের স্নানের দৃশ্য দেখিয়ে !
শেষটুকু ভীষণ কষ্ট করে লিখেতে হয়েছে ! রাতের ভেতর আমার পশ্চাৎদেশের ছায়া বালি-সিমেন্ট খসা দেওয়ালে অমাইক সভ্যতা নিয়ে স্থির হয়ে জেগে আছে ,……
এই মৃত্যু কতবার সিঁড়িভেঙে অসাবধানে নিচে নেমে গেছে ; আমিও ডুবেছি বহুবার প্রায়ই ৷ হৃদয় যেখানে নিছক এঁকেছে কল্পনায় আমার অতীতের নারী মুখ গুলো ; সেই সব দিনগুলো মৃত্যুর ভেতর ফিরে আসে হঠাৎ করেই অজান্তে ! শেষে কারা যেন ঐ শ্মশানের কাছে এসে ফুল চন্দনের সোহাগ মিশিয়ে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস হীন শরীরে আগুন এঁকে দিতে দিতে বলে ওঠে ; এবার তুমি সোজা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে স্মৃতি হয়ে ওঠো ! এবার তোমার কায়াহীন আজন্মের বিশ্রাম ! ভালো থেকো ; ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি ! ওঁ শান্তি সর্ব ভূতেষু নমঃ !!
___________________________________
শব্দ বিজ্ঞাপণ ও মৃত্যুঘুম
জাগো , এভাবে চলতে চলতে ঘুমন্ত নির্ঘুমে নিরব নির্জনে একাকি ! জাগো , মৃত্যুর খবর পেরিয়ে শব্দ সন্ধি মেলাতে মেলাতে অন্য কোন শরীরে ! এই একবারই মনের কথা খুলে বললাম তোমায় ; যদি আত্ম সমর্পন করি বেঁচে থাকতে থাকতে ৷
জাগো , নতুন নতুন কথা ছড়িয়ে ফুল – পাখি – আকাশ – বাতাসকে আত্মীয় স্বজন বানাতে বানাতে ! সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর বৃষ্টির ধ্বনী এঁকেছি চোখে ; তবুও মনগল্পের টানে এই রাস্তায় রোজ প্রতিদিন মধ্যরাতে ঠিক এই সময় পথ অবরোধ করে না ফেরার দেশের সঙ্গী সাথীরা !
চল , বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে মৃত্যুর দরজা খুলে ; অন্য কোন খানে !
শেষটুকু লিখতে চেয়েছি মরা মানুষের পাশে বসে শব্দহীন জোছনা মেখে ,…… বহুদিন ধরে মন ভালো নেই ; গভীরে ডুবে গেছে বেশ কিছু স্মৃতি ! তবু শেষবারের মতো নিজেকে আঁকড়ে ধরতে চেয়ে আমি থেকে ছায়াটাও দৃশ্যের জ্ঞানগম্য ভুলে ভিষণ অন্ধকার মিশেছে !
জাগো , তবু একবার বাঁচার জন্য জাগো ; এই যে বহুকালের দর্পণে ভেসে উঠছে বেশ কয়েকটি কষ্টের দাগ ৷ ওধারে বৃষ্টিহীন মেঘ গর্জনে আকাশটা আজও নির্বাক হয়ে চেয়ে আছে , ….. তবু মরে যেতে ইচ্ছা করে ; যদি মৃত্যুর আগে ও পরে রাজি হয়ে গেলাম এই আমিটার কাছে ; আবার নতুন শরীর নিয়ে জন্মে ওঠার !
এই মুহূর্তে কতজন হাসছে আড়ালে ; কতজন ভিতরে ভিতরে পুড়ছে জ্বলনে ও জ্বালায় ! তবু শেষ পর্যন্ত ঐ যে সময় ভালোবাসাহীন নির্বিকার ভঙ্গিতে চুপশব্দে বোবা শয়তানের ছদ্মবেশ নিয়ে শ্মশান অপেক্ষা করে আমারই জন্যে !!
ঘরে ফেরার সময় হতেই মৃদু কান্নার শব্দে মনে হয় ; কিছু ফেলে যাচ্ছি না তো ? নীলফুল – টকঝাল স্বপ্ন – ছদ্ম আদর্শ , কিম্বা রূঢ় অস্বীকারে বিমুখ প্রেম ! অগাধ ধোঁওয়া বুক ভাড় করে তোলে ,….. লোকে ভাবে কিছু দোষ করে ফিরছি !
তাকিয়ে দেখি পড়ে আছে আমার জন্মঋণ ; আমার এতকালের স্মৃতিছুট্ সময় !!
___________________________________
স্তবকে নির্ঘুম আদরের ওষ্ঠ
প্রিয় পুরুষ অচম্বিতে তোকে ছুঁলেই ; কপাল জুড়ে ঘাম ঝরাচ্ছে মহত্ প্রেমার্ত ! তবু শেষ আদরটুকু মৃত্যু দিয়ে সোদ কী হবে তায় , ….. বুকের ভেতর মন হারানোর কথা ; সাত সমুদ্রে কত দূরে ভেসে যায় ! সেই বয়সটা এভাবেই আঁকে ছবি ; সেই ছবিতে নেইযে অসুখ – বিসুখ , …. তবুও তুমি একাই একক নারী প্রেম-অপ্রেমে অদেখা অনেক কিছু !
অনেকটা পথ একটানা চলে চলে ; মন হারানোর পদ্য বলি তোকে ,
অনেকটা রাত জেগে বসে শেষকালে , এ’মন শুধু ডুবেছে গভীর শোকে ! অন্য পুরুষ আমার মতন করে হঠাৎ তোকে স্বপ্নে চুমু খেলে ; লজ্জায় তুই শেষ করে দিশ কথা , ….. তোর অভিমানে অন্য নারীর চোখে তাকিয়ে দেখি ভাঙাচোরা নীরবতা !
এই যে আমার অতীত হয়েছে শুরু ,
চোখের পাতায় ভাসছে টলোমলো ; ওই যে আমার কত কবিতার বাণী চিরন্তনী অথচ এলোমেলো !
যদিও ঠিক প্রেম বোঝেনা রাত ; শরীর যেন অন্য কথা বলে ,….
মেঘের বুকে কাপুরুষ তারাগুলো মান-অভিমানে এভাবেই পথ চলে !
আমিও ভাবিনি শেষ স্তবকের মত গোপন করি অদেখা পুরুষটাকে ;
সাদাপৃষ্ঠায় বর্ণিত করি যত
মৃদু হাসি হেসে নীরবতা নিয়ে থাকে !
তবুও কেন অপেক্ষায় বসে থেকে ; চুপ হয়ে যাই শরীর থেকে নিজে , …..
নিপুণ ভাগ্যে চিতার আগুনে জ্বলি , দর্পণে দেখি দু’চোখ উঠেছে প্রত্যন্তে ভিজে !!
___________________________________
দেহভাজন
মেঘ সরিয়ে আকাশপুরের
চাঁদকে কাছে ডেকে নিতেই
হিতাকাঙ্খী এক
বনফুল গন্ধ আঁকলো
শ-রী-র , … এ !
তখন প্রসিদ্ধ স্বপ্নের
মেধাবী
সহপাঠিনী ইচ্ছায় নগ্ন হয়ে
রাত ভাসিয়ে দিল
এই চোখে !
কিছু কিছু দোষ এ’ভাবেই
আমাকে দিয়ে কবিতা
লিখিয়ে নিতে
সাহায্য করেছে ; তাই
রাত আয়োজনে স্মৃতি ও
সঙ্গীনিদের স্পর্শদোষ
মেনে নেয়া চরিত্র নষ্টের
মধ্যে না নিলেও ;
কাছের চোখগুলো
বিপরীত মেরুকরণের
দলিল নিয়ে নিভৃত যতনে
চাপা দীর্ঘাশাসে বলে ওঠে
কবির কলম ও হৃদয়
নষ্ট অ-সু-খ পেতে
দেহভাজন — এ
ভীষণ অকৃত্তিম !!
___________________________________
দহন
অন্য
কোথাও
আর্তনাদ হলে ; আমি ভেঙে
অতলান্তে চুড়মার হই !
এই
এক
অথৈ ভাসমান ভাবাবেগ ,
কিম্বা ভিন্ন জীবনের
অচেনা শব্দের
নিভৃত অভিমান !
তবু
ভিতরের বিরল আমিটার
ভেতর মাঝেমধ্যে
কিছু একটা পুড়ে ওঠার
গন্ধ পাই ;
হদয় মেলে দিতেই
অনুভবে মেলে
পুরোনো ভা-লো-বা-সা !!
___________________________________
পোশাকি প্রেম এবং মৃত্যু
ঘুমের দরজায় লাথি মারে স্মৃতি ৷ সেই যে বহুকালের প্রিয় স্বপ্নগুলো ঘুমালো ; চোখের সম্মোহনে অন্তর হয়েছে পাথর ,—– তালাবন্ধ প্রেম এভাবেই বসিয়েছে পোশাকি কবিতার হাট !
এই যে অন্য এক অচেনা ছায়ার পাশে পাশে হৃৎপিন্ড হাঁটে মার খাওয়া মানুষের দেশে ,—–
ধনুকের মতো বেঁকে যায় প্রেমিকের প্রার্থনা ; তবে কি এ’সময়টা ঝুটো ? হয়তো হবে …..
দশদিক থেকে মৃত্যুর বিলাপ শুনি ! প্রত্যন্ত ভেতর দিয়ে স্বপ্ন শ্মশান হাতছানি দেয় , …..
কবিবাবু প্রবেশ নিষেধ ; ভিতরে অনিদ্রিত লাথ খাওয়া এক প্রেমিকের বক্তৃতা চলছে ! তবুও ঘুমের মধ্যে ঘুম নিয়ে রসিকতা চলে ,….
কেউ অকস্মাৎ সদোর দরজায় কড়া নেড়ে সুখ ভিক্ষা করে ; ছদ্মবেশে !
লাথি খাবার প্রকৃত ভিক্ষুক আসলে আমিও ! মজার মানুষ খায় প্রতিপলে লাথি ; চারপাশ ঘুটঘুটে আধাঁর , ভিতরে মৃত প্রজাপতি !
ভাবছি ; স্তব্ধ উচ্চারণগুলি মৃত মানুষের পড়ে থাকা শোকের কাছে রেখে চিতায় ওঠার আগেই নবনীতাকে বলব ; আমার বালিশের নীচে শ্মশান খরচটাও রাখা আছে , …..
এবার নিশ্চিন্তে কেঁদো !!
——————————————————————————
স্বপ্নদ্বীপ এবং অন্যান্য নিরীহ শব্দেরা
যেটুকু বাকি ছিল
তার সবটা দিয়ে সময়লগ্নের তিথিক্ষণে মৃত্যু ঠেকানো কবচ গড়লাম ; তবু সে অপঘাতে অকস্মাৎ মরলো ! ছেলেটা যাদের জ্বালায় মনে মনে এতকাল জ্বলছিল ; সেই সব বকে যাওয়া অসভ্য ঘৃণ্য ছেলে গুলোর অন্যায় – অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মৃত্যু নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো চির দিনের জন্য !
দেখে নিও সময় ওদের ক্ষমা করবে না , …..
এখন শহরের সব রাস্তায় চিরকালের অসুখ ; এখানে নির্বোধ হয়ে ঘুরছে স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা , …..
অন্য দিকে ব্যাথা নিংড়ানো মন নিয়ে আসে-পাশের রাস্তায় কেউ – কেউ ওই সব কুচক্রি বর্বর হিংস্র অকর্মণ্য জানোয়ারদের ভয়ে ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দ নিরবতা নিয়ে চুপ করে ছিল ! এটাই ঘটে যাওয়া বহতা সময়ের করুণ পরিণতি ; সেই কারণে প্রতিবাদ – সভা – সমাবেশ দিন কেটে যাচ্ছে সংবাদে সংবাদে এভাবে চিরাচরিতের মত ! অন্যদিকে দল বাঁচানোর কৃত কৌশল পরিপাটি উক্তি কিম্বা তর্ক-বিতর্ক টিভিতে টিভিতে ; এরই মধ্যে নানান বিজ্ঞাপন রিরোতি ! কী এক দুর্বোধ্য স্বপ্নের মত লাগছিলো স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যুটা ; যাদের কারণে ছেলেটা অকালে শেষ হয়ে গেল সেই সব খুনি ইপ্টেজারদের জন্য অগুন্তি ছি ছি কিম্বা নতুন আবিষ্কৃত খিস্তি-টিস্তি পরিপটি ভব্যতায় দিয়েছি কত – শত বার ; প্রকাশ্যে নয়তো মনে মনে ! স্বপ্নদ্বীপের নির্মোহ মাখা গাঢ় নিঃসঙ্গ ছায়া-ছায়া অস্পষ্ট কায়া অস্ফুটে বলতে চেয়েছে “আমাকে মেরোনা , আমি বাঁচতে চাই , আমাকে বন্ধুরা বাঁচতে দাও ! যারা ছেলেটাকে মারলো ; এদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে কেঁদেই চলেছে অহর্নিশ ,…. ভেতর থেকে নির্জন রাতের অন্ধকারে সভ্য-ভদ্র সেজে থাকা ছদ্মবেশী বর্বর জানোয়ার গুলো মাথা উঁচু করে প্রকাশ্যে ঘুরছে ফিরছে হাসছে নির্ভয়ে কথা বলছে বিদ্যাস্তম্ভের চাতালে !
চিত্রপট এভাবেই বদলে যায় , গেছে সময়ে ; বিচ্ছিরি স্বপ্ন নিয়ে মজে আছে এ দেশের প্রতিটা ঘর – বাড়ি এবং অন্য কোনো অন্তরের অন্তঃস্থল ! তবু উদ্ভিন্ন চোখের ভাষায় ভালোবাসা মাখা মন আমার মতো প্রতিবাদি বোকাকে নরকে পাঠায় !
শেষবার এই রাজপথে
গত জন্মের আয়না ভাঙার শব্দ পেয়েছিল স্বপ্নদ্বীপ ! ওর মৃত চোখ দুটো নিষ্পলক ছিল অনেকটা সময় ধরে , সেখানে মৃদু কান্নার চাপা আওয়াজ কেউ শুনতে পায়নি ; শোনার চেষ্টাও করেনি !
___________________________________
পরবাস্তব এবং হৃদয়তান্ত্রিক পদ্য
চোখের কাছে অচেনা সর্বনাশ
ভেতর থেকে দৃশ্যের বিচ্ছেদ
মনের মধ্যে যন্ত্রণার অলি-গলি
নামহীন যত কান্নার নির্দেশ !
এখন থেকে অন্তরে তুমি থাক ; বিম্বা অতলে হৃদয় মেলে রাখ ….
এইবেলা যদি স্পর্শে ওঠো কেঁপে , আকাশ থেকে বৃষ্টি আসুক ঝেঁপে ,—
গভীরের সুখ সময়ের পথ ধরে
চলতে – চলতে কোন অতলান্ত ভোরে
স্বপ্নের কথা নিজেকে বলতে – বলতে ; ঘুম ভেঙে যায় মনের অজান্তে !
কোথায় যেন পুড়ছে অচেনা স্মৃতি , মিথ্যে – মিথ্যে বিষণ্ন দুটি চোখ ,—-
কোথায় যেন নামহীন পৃথিবীতে
ভোরে আছে যত মৃত্যুর প্রতিশোধ !
হঠাৎ যদি ফুল – পাখি – চাঁদ দেখে ; সময়ের সাথে একা একা পথ চলি ,—-
কবিতার কাছে আশ্রয় খুঁজে নিয়ে ; তিন প্রহরের যন্ত্রণা তাকে বলি !
এসব কথা আত্মায় ঘোরে – ফেরে ; তবুও কেন মন বোঝে না তাকে ,—– চতুর্দিকের অগণন স্মৃতিগুলো আদিগন্ত ভালোবাসা হয়ে থাকে !
চলে যাব ব’লে চোখ ভিজে আসে জলে ; চুপচাপ শুধু নীরবতা নিয়ে থাকি ,—-
চেনা – অচেনার অনেকেই কাছে থাকে
মৃত্যুর পাখি করে যায় ডাকিডাকি !
নতুন ক’রে আসব আবার ফিরে ; ডাকবে কাছে নতুন নামে যখন , সেই পুরাতন স্মৃতির ফাঁকে – ফাঁকে
আগের আমিকে পড়বে কি মনে তখন ?___________________________________
আমি ও আমার ছায়া
শেষ পর্যন্ত
আমি থেকে বেরিয়ে এসে
অন্য এক বর্ণনায় গড়া পথে
চলতে চলতে ভুলেই গিয়েছি
সে–ই আমিটা
স্বপ্ন শুরুতেই অশরীর
অবয়বহীন এ-ক-ক ! তবু
মৃত্যুর পরও পিছু ফিরে
দেখার অভ্যাস গভীরে ঢুকে
আছে ; শেষটুকু না পুড়ে
জ্বলছে স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে ,…..
শেষ
একবার শুধু চোখ মেলে
তাকাতেই ; আজীবনের
কথা গুলো শুনতে শুনতে
বায়ুবেগে ছুটছে
আমিরি এতকালের
আতিত্ব !
আমার নশ্বর শরীরের পাশে
আমি ও আমার ছায়া
অশ্রুহীন কেঁদেছে
বহুক্ষণ ; অন্যদিনের মতো
নির্বাক তারারা ভিজেছে
রাতভোর বৃষ্টির ভেতর ……
কিছু কিছু দুঃখ এভাবেই
মনেতে মুগ্ধতা ছড়ায় , অন্য
রাস্তায় যত্নে থাকুক দীর্ঘদিন
আমার কষ্ট ; আজ থেকে
প্রিয় ঘরটায় চেনা মুখগুলো
ঘুরে – ফিরে চলে আসে
অবুঝের ছদ্মবেশে !
আমি মৃত্যুঘুমে ছড়াই
স্মৃতির মুগ্ধতা ; বেঁচে না
থাকার দুখটান মনে মনে
বুক ভাঙে ছায়াসঙ্গীর
কথা মনে করে !
ডুবে যাই মৃত্যুর মধ্যে
বাঁচার ইচ্ছায় ; শেষটুকু
অভিন্ন স্বপ্নের মতো
মনে হয় , …..
ঘুম থেকে জেগে উঠেছে
নানান জিগ্যাসা ; প্রেমটুকু
মৃত্যুফুল কুরিয়ে এনে অন্য
কোন পরিচয়হীন জীবনকে
বন্ধুত্ব উপহার দেয় !
যদিও এই পথে একাই
চলেছি আমি ; অনেকটা
দূরে বিস্মৃতির অতলে
মিলিয়ে যাচ্ছে আমার
অভিন্ন অশরীর ছায়া !!
___________________________________
শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল
ৎ থেকে ৺
সাদা পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ- এ অমাইক তারা ! তবুও শব্দের শেকড়ে আদুরে এ – কার , উ – কার বিমূর্ত এলেবেলে দু’জন পরকীয়া দোষে প্রাচীন দ্রাঘিমা থেকে বেরিয়ে এসে ভাষার উঠনে সহজ কিস্তিতে ব্যাভিচার বর্তমানকে নষ্ট অতিতের গল্প শোনায় !
যতটা ঋণস্বীকার করা যেত ; হৃদয়তন্ত্রীতে কাব্যের সরিফ যারা অনেক কাল আগে উপনিষদের সারস্বত ছায়া দেখে দেখে চলেছে ভবঘুরে হিজড়ের ছদ্মবেশ নিয়ে ; আকাশ উচ্চতায় উঠে সৃজনের চেহারা দেখে ঘুমহীন নির্ঘুমে ফুঁসলে নিল দৃশ্যের উপমা !
শেষ কথা প্রশাখা মেলেছে উল্টোমুখে ; বুকের মধ্যে জড়িয়ে রাখা নির্নিমেষ স্মৃতি , সেখানে কবিতার আওয়াজ শুনতে পেয়েছে অন্যকোন পৃথিবীর প্রাণীর জীবাশ্ম ! যদিও এই রাস্তাটায় অন্য কোন অচেনা নামের পথ এসে আলাপ করেছে অতিরিক্ত নিঃশব্দে !
কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোলকুঁজো নির্জনতা দৃশ্যত অতীত খুঁড়ে – খুঁড়ে আমার প্রতিটা জন্মের সাদা পৃষ্ঠার পোশাকগুলোকে নিরীক্ষণ করেছে এক পশলা বৃষ্টির ভেতর !
এই সব ৎ এবং ৺ , এরা চোখের মধ্যে দুরত্ব রেখে দাঁড়ায় ৷ তবু বাতাস পঁচা গন্ধ নিয়ে সারারাত জেগে বসে থাকে কাব্যগ্রন্থের দৈন মলাট !
সময় তবু কিছু কিছু সর্বনাশের আয়ু নিয়ে এভাবেই আড়াল হয়ে থাকে ! যদি ভুল না করি ; অক্ষর শ্রমিকেরা এভাবেই ঠকে আদ্যোপান্ত মনভ্রমণে !
চলেছে আমার শরীর স্পর্শ করে বহু জনমের ছায়া ; ভিতরে ভিতরে অপলক তাকিয়ে চেয়ে থাকে আজীবনের কবিতার পংক্তি ; শব্দগর্ভের ক্লিব কঙ্কাল !!
___________________________________
শব্দগুলো রাস্তার মার্জিন মানেনি
কেউ কেউ
জিভ ভেঙিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার মূহুর্ত ক্ষণে স্পর্শটা অবস্থায় পড়ে চোখের নিষেধ মত বেমালুম অস্বীকার করল ; রাস্তার ধারে কাছে অতিরিক্ত নির্জন ছিল , তাই হয়তো ছঁয়ে গেছে সাষ্টাঙ্গ শরীরের ছায়া !
ফুল ফোটার ইচ্ছে না হলেই নিঃশব্দ আহ্লাদে ভাসিয়ে দিল সারারাতের স্বপ্ন ; এই জন্যেই বাতাস অন্যদিনের তুলনায় আজ অনেক বেশি গুরুত্বহীন !
কথা দলবেঁধে চলে
কথা শুনে শুনে কথা বলে , তবুও রাস্তায় ডুবে থাকে অনেক কালের কান্না ; তাই শব্দগুলো মার্জিন মানেনি একবারও , …… শেষ পর্যন্ত জ্যান্ত মানুষের ছায়া শরীর থেকে বেরিয়ে এসে অভিকর্ষ টানে অন্ধকূপে চলে গেলে সখাসঙ্গী কিম্বা সহপাঠীদের ঘুমের জায়গায় প্রেত ও ঈশ্বরের অস্থিত্ব মৃত্যুর মধ্যে কলরব করে ওঠে !
স্মৃতি বিজড়িত স্থান থেকে অর্ধেক মৃত্যু হয় সারাবেলাটার ; স্মরণযোগ্য উচ্চারিত কিছু কিছু দোষ ঈষৎ উষ্ণতায় ভরাট স্বপ্নের অন্ধকার নিয়ে বাকি পথটা কাটায় এভাবেই ,….. অথচ অনাত্মীয় এই শহরে প্রতিদিন অতীতের আঁকিবুকি খেলা চলে !
ঘুমন্ত নির্ঘুমে ভেতরের সবটাই স্তব্ধ হয়ে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিজন্মের ব্যথা গোপন করে ; চোখের মধ্যে স্বপ্ন হারিয়ে যাবার অসুখ বুক ভর্তি ঘোরতর দরোদে অশেষ ভাবে স্বপ্নাতুর হয়ে ওঠে প্রণয়ে প্রণয়ে !
যদিও বহু যুগ ধরে ঘুমিয়ে থাকার অভ্যাস মৃত্যুর আগের মূহুর্তে অবুঝ নির্ঘূমে হেঁটে হেঁটে চলে ;
শেষ একবার পরমুখাপেক্ষীদের চোখে চোখ রেখে কথা হয়ে ছিল , তবু নিঃসঙ্গ অকুলতায় চলতে চলতে রাস্তা হারিয়ে ফেলি অশরীর আমাকে দেখে !!
___________________________________
হৃদয়তান্ত্রিক নিঃশ্বাস
অ’শব্দে নিবাস আদুল ; তবুও প্রশ্বাসে অলিন্দ আকাশ এ’ভাবেই ছেঁনেছে সাত পাড়ার নীরব উত্তপ ! কেউ একজন জন্মদ্বারে জ্বালিয়ে রেখেছে নতুন নতুন কবিতার লাইন ; যদি মুখ বাড়িয়ে দেখা দেয় সমকামী এক বিবর্ণ প্রেত ,—- লজ্জা শরীর থেকে জেগে ওঠে আয়ুভূক আঁধার ; শেষ পর্যন্ত দুঃখ বইতে বইতে আমিও ঘূর্ণিহাওয়ার ভেতর ভস্মেরমেঘ হলাম !
নির্ধনীয়ার ছদ্মবেশ নিয়েছে কুবের ! চোখের মধ্যে দুরত্ব আঁকা সাধু ও ডাকাতের ছবি ; গা-গতরে জেলে নৌকা ভাসে আশৈশব ,—— ডুব টুকু তার কাজলকালো জলে আজন্মপ্রহর নিয়ে ঘুমন্ত নির্ঘুম একক ; সর্পাঘাতের প্রতাঘ্ন বিষে অনাত্মীয় যেভাবে একাকীত্ব ভোগে ! ঠিক সেভাবেই…….
__________________________________
মিছিলে শয়তান ভদ্র সেজেছে
পরিবর্তিত ঘটনাগুলো স্বপ্নে ঘোড়া ছুটিয়ে মাত্রাবৃত্তে বিদেহী পরিজনের ছবির কাছে এসে দাঁড়াতেই ; দ্বিতীয় অপুষ্টিজাত স্মৃতি অস্তিত্বকে দ্বিচারিতা হতে নিশেধ করতেই ভাষা বিপ্লবের পাঞ্জিকায় ছেঁকা লাগলো !
পৃথিবীর মানুষেরা দর্পণের কাছে যুগে যুগে ক্ষুণ্ণ হতে দেখে গেছে , সে জন্য পাঠশালায় নাগরিক সভার প্রস্তুতি চলছে উদ্বাস্তুদের নিয়ে !
অকস্মাৎ উচ্চারণ হল পিছিয়ে থাকা রূপকথার প্রাচীন নির্দিষ্ট সময়ের ধ্বনি ,—–
ভেতর থেকে সেক্যুলারিজম গন্ধ মিছিলের মধ্যে বাতলে দিল দঙ্গল থেকে অমানুষগুলোকে বুদ্ধিজীবিদের মতোই দেখাচ্ছে !
এই এক স্বপ্ন ধর্মহীনতার জন্ম দিয়েছে ; তাই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে চতুর্দিকের নক্ষত্রগুলো ! প্রাণহীন ছায়া ভাসছে রাতের ভেতর ,—– এভাবেই গোপনে পুড়ছে অন্তর ; এভাবেই আদর্শ রাস্তা পার হচ্ছে বিধাতার ঠেলা খেয়ে !
এটাও এক অচেনা মানুষের কঙ্কাল , গভীরে প্রখর বাস্তরের বিষময় দশা ! তবুও মিছিলের ওপাশে গরু ও শুয়োরের বৃত্তান্ত নিয়ে লড়ছে ধার্মীক লোকজন …..
যতোই তোরা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলিশ ; দেখে নিশ তোদের মুখোশ একদিন খুলবেই ৷
যে বা যারা ঈশ্বর এবং আল্লাকে নির্মাণ করেছে তাঁদেরকে সময় ঠিক খুঁজে বার করে নেবে !
অন্য দরজায় শয়তান এসে দাঁড়ালে অনুমানের ফর্দ ঝাপসা হয়ে যায় ! এটাও আমাদের অস্তিত্বের সংকট ; তা না হলে বিভিষণপ্রথম দল পালটানোর সাহস পায় !
মাঝেমধ্যে মোমবাতির নিচে অন্ধকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে , তাই জ্যোৎস্না পেতে দিয়েছি প্রাচীন বৃক্ষের নিচে ,—– কেউ একজন মনস্তত্ত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষগুলোকে ঠকাচ্ছে সমষ্টির সমর্থন চরিতার্থ করার জন্য !
এভাবেই চলছে দুনিয়া ; যা কিছু পালটেছে সবটাই নড়বড়ে ঘড়ির কাঁটা ! এটাই নাকি ঐতিহাসিক বিপ্লব !!
__________________________________
ছোবল
এই অঘ্রাণেও
বেঁচে থাকবে অগণ্য সরীসৃপ , শীত ও প্রেত চিরহরিৎ বৃক্ষের অতলান্ত নীচে রাত্রির শিশিরের মত প্রতাঘ্ন বিষ গভীরতর দাঁতের দংশনে – পীড়নে সর্বঘ্ন জ্বালায় — এবং স্তব্ধ নির্জন ! এই অঘ্রাণে জানলা ভাঙে ঔষধি রাতের যৌনভূক চাঁদ ; চোখের তলানি ছেঁচে অবিরাম চুম্বনে অনন্ত অতীব সঙ্গম ,—–
এই মেয়েলি বয়স গর্ভের অনন্ত অতলান্ত কালহরণে তুষ্ট !
অন্য এক শীতল প্রহর , শেষে ও রাতের পরম আদরে মৃত নখের বিনম্র আঁচোড় —- এটাও অতিরিক্ত তীব্র হলাহলে আদীম বিলাসিতা যেন ৷
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভেঙে রাত ডুবে গেছে ,—- কঠিনতম শোকে ঘুমিয়ে অতি প্রাচীন পরজন্মের দেহের অসুখ – বিসুখ ভেতরের বস্ত্রহীন নগ্ন আবেগ নিঃশব্দে ও ভয়ে চোখে রাখে প্রহরশূন্য শীতল চিবুক !
এখন অঘ্রাণ ; ফুলের পরাগ মেখে ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে — আমার বিপরীতে , কোথাকার চেনা রাতে মৃত্যু এসে উলঙ্গ হয়ে লুকিয়ে ছিল উষ্ণ চাদরে ……
এভাবে গরল জমে শরীরী স্মৃতিতে ; স্বপ্নহীন অথচ নির্ঘুম আঁধার ডুবে মরে স্বপ্নে ও ধ্যানে !
সে কি নারী ? মূর্তিমতী অভাগী ঈশ্বরী ; সে কী ছায়া অথবা অতীব অলীক কল্পনা ?
যাবতীয় অনিয়মে ভীষণ সর্বনাশী ? নিঃসঙ্গ নীরব , —-
ভয় হয় এই বিষ যদি আমাকে অহর্নিশ দংশায় !
বুকময় আগুন সাজিয়ে রাখি রাত ভোর ,—– মধ্যরাতে দরজায় আঘাত ; ক্রমাগত অনন্ত ছোবল !! প্রাণেতে বিষঢালা ঈর্ষার আচোড় !
___________________________________
শরীরী পারফিউমের ঘ্রাণ
এ’ভাবেই
আযোনিসম্ভূত না হবার জন্যেই ; ভাগ্য রেখায় ভাস্বর স্ত্রীঅঙ্গ বস্ত্রহীন অর্ধেক রাতে জন্মদরজার কাছে গোপন সুরঙ্গ অঘোর তপস্যায় অফুরান স্বপ্নতে !
তবুও ছিঁড়েছি আমি মশারির দড়ি কালক্ষেপ না করে ,—– অতি নীরবতায় দেহ গন্ধে ঘুম ভেঙে গেলে মনের সাথে কথা হয় অত্যান্ত শতাব্দীব্যাপী ! কিছু কিছু দোষ চালিয়ে যেতে ভালো লাগে ; এই দোষে পুড়ছি রাতভোর বৃষ্টির ভেতর ,—– অন্য কোনো নিভৃতের অসুখ বিসুখ কপাল রেখায় চিরকাল থেকে যায় , এ’ভাবেই মেয়ে মানুষের নগ্নতায় আমার গৌরব চুম্বন অনুরাগে ভ্রূক্ষেপ করেনা পারিপার্শিক বৃষ্টিতে ভেজা তারাদের !
একটা কিছু ধরতে গিয়ে হাত এগিয়ে দিতেই সর্পাঘাত হয় ! মনের জানালা দিয়ে ভালো-বাসা মধ্যরাতে চুপিসারে শেষ রাস্তায় গিয়ে বৃষ্টির জমে থাকা জলে নৌকো ভাসায় !
একটু একটু করে তোর সমস্ত শরীর চোখ বুলিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি নিঃশব্দে ,
তোর নগ্ন বুকে সাবান সাবান গন্ধ ; এখানেই আমার সারারাতের নির্ঘূম আশ্রয় ! তুই ঘুমিয়ে থাকলে সমস্ত শরীরী ভাষা বোবা হয়ে যায় ; তবুও গোপন দরজা দিয়ে আমার গোপলাঙ্গ হিংশ্র হয় থেকে থেকে ! কতবার আপত্তির কথা বেমালুম ভুলে ভীষণ সতর্কে স্পর্শ করতে করতে রাত হয় নিঃশ্ব ,—– তবুও তুমি ঘুমন্ত ঘুমেও অবুঝ নির্ঘুম একক !
এ’ভাবেই প্রতিরাতে তোর শরীরী সৌরভ মাখি ; ভেতর ভেতর জ্বলে উঠি নষ্ট কাপুরুষের বিবিধ চরিত্র দোষে !!
স-মা-প্ত
___________________________________
কবি পরিচিতিঃ বাংলা কাব্যসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি ব্যক্তিত্ব বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ই জুন ১৯৬৪ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরের এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারে ৷ যাঁর প্রতিটি নির্মাণ কবিতা প্রেমীদের কাছে পরম সম্পদ ৷ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক তাঁর কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পেয়েছেন ২০২২ “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান”। সম্প্রতি ২০২৩ কলকাতার মধুসুদন মঞ্চ মৌললী যুব কেন্দ্রে “ছায়াপথ প্রকাশনী” থেকে তাঁকে দেওয়া হয় বিশেষ সাহিত্য সম্মান।