মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট

সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩
  • ২৩৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন
Exif_JPEG_420
ঈদুল আজহা উপলক্ষে পঞ্চগড়  জেলার সব
চেয়ে বড় হাট শালবাহানে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট এবং তেতুলিয়ায় উপজেলার  সদর চৌরাস্তা বাজারে খন্দকার মার্কেটের সামনে ক্রেতা-বিক্রেতায় ভরে গেছে  শালবাহান এবং চৌরাস্তা বাজার জেলার সবচেয়ে বড় নতুন হাট। হাটের বিভিন্ন অলি-গলিতে বিক্রির জন্য গরু-ছাগল রাখা হয়েছে। তবে এবার কোরবানির পশু বেচাকেনা আমদানির তুলনায় কম । হাটে ছোট গরুর দাম বেশি বলছেন ক্রেতারা। আর খামারিদের অভিযোগ গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম মিলছে না। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানি উপলক্ষে চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯২টি গরু লালন পালন করা হয়েছে।
সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা গরু কিনতে আসছেন। খামারিরা গরুবাহী ট্রাক ও ভটভটি নিয়ে হাটে প্রবেশ করছেন। হাটের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দলে দলে মানুষ হাটে প্রবেশ করছে। হাটে এবার আকারভেদে গরু বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারা বলেন, এবার খামারিরা গরুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন। বিশেষ করে ছোট গরুর দাম অনেক বেশি।
তবে চাহিদা অনুযায়ী গরুর কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার দাবি খামারিদের। তারা বলেন, এবছর গরুর খাবার, ওষুধসহ অন্যান্য আনুসাঙ্গিক খরচ বেড়েছে। এতে বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়। তবে সে অনুযায়ী মিলছে না পশুর দাম।
এবার গরুর হাটে ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর চাহিদা ও দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গো-খাদ্যের দাম বাড়ার তুলনায় গরুর তেমন দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। আর ক্রেতারা বলছেন, এবারও গরুর দাম বেশি।
স্থানীয়রা জানান, শুধু উপজেলার আশেপাশে নয়,পঞ্চগড় সদর, বোদা থেকেও  বিক্রির জন্য এ হাটে গরু আসে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলার পাইকাররা ট্রাক নিয়ে আসেন গরু কিনতে । এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গরু ওঠে। এবার ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১  লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের গরু কেনা বেচা হচ্ছে।
গরু ক্রেতা মহসিন আলী জানান, প্রতিবছর টার্গেট থাকে নতুন হাট থেকে পশু কেনার। তার মতো অনেকেই বলছেন যেহেতু নতুন হাটে পশুর সরবরাহ বেশি তাই এখান থেকে পশু কেনা সহজ হবে।
বোদা উপজেলা থেকে আসা বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর আমদানি বেশি। ফলে দাম কিছুটা কম। বাজারে দেশীয় জাতের গরুর চাহিদা বেশি। দেখি কি হয়।
শালবাহান হাটের ইজারাদার মো.রফিকুল ইসলাম জানান, হাটে গরু বেশি উঠলে দাম কমে। মাঝারি সাইজে গরুর চাহিদা বেশি।তবে জেলার অন্য উপজেলায় লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এ হাটে নেই।
এদিকে গবাদি পশু পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ জাকির হোসেন মোল্লাহ। তিনি বলেন, মহাসড়কে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, এবার কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদা ৯০ হাজার ৬২টি। আমাদের ১৩ হাজার ৬৭০ জন ছোট-বড় খামারির মাধ্যমে কোরবানি যোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯২টি।
তিনি আরও বলেন, জেলায় কয়েকটি এলাকায় গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তা এখন নিয়ন্ত্রণে। লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে এক লাখ ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯০ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাই কোরবানির ক্ষেত্রে এই রোগ কোনো প্রভাব ফেলবে না। আর অসুস্থ ও গর্ভবতী গাভি শনাক্তের জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ভেটেরিনারি ক্যাম্প বসানো হয়েছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102