শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

বিএনপি’র জন্য অশনিসংকেত!

বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন ও বিএনপির পল্টিবাজি

দেওয়ান ফয়সল
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ মে, ২০২৩
  • ৩২৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি’র অভ্যন্তরের নেতৃত্বের প্রশ্ন নিয়ে গুঞ্জন চলে আসছিলো। এক পক্ষ দলের প্রধান নেতা তারেক রহমানের পক্ষে এবং অন্য পক্ষ ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে। এই রেষ কাটতে না কাটতেই আওয়ামী লীগ সরকার ঘোষণা দিলো এ বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জানুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষণার পরপরই প্রত্যেকটি দলের নেতারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলো।

আওয়ামী লীগ সরকরের পক্ষ থেকে প্রতিটি দলের নেতাদের আলাদা ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হলো আলোচনায় বসার জন্য। সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো কি ভাবে সম্মিলিত ভাবে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জনগণকে গ্রহণযোগ একটি সুন্দর এবং সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা। অনেক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করে তাদের মতামত প্রদান করেন কিন্তু বিএনপি সে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে। তারা সরকারকে শর্ত দেয়, তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে, নির্বচনের আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের এ প্রস্তাব আওয়ামী লীগ সরকার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

জাতীয় সংসদের এই নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে বিএনপি আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু এই আন্দোলন তাদের অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে বেগবান হতে পারেনি। এ নিয়ে দলের মধ্যে যে কোন্দলের সৃষ্টি হয় তা এতদিন রাখঢাক করে চললেও বর্তমানে তা প্রকাশ্যে বেরিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকেই দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে চলেছে। দলকে সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বয়ং তারেক রহমান সহ দলের হাইকমান্ড। উপায়ান্তর না দেখে দলের হাই কমান্ড থেকে সম্প্রতি জারী করা এক নোটিশে বলা হয়েছে, যারা এই নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে অংশ গ্রহণ করবেন, তাদেরকে দল থেকে চিরতরে বহিস্কার করা হবে। এই নোটিশ প্রচারিত হওয়ার পরপরই দলের একপক্ষ বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য হলো, আমরা আমাদের এলাকার জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এখন যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করি তাহলে জনগণ আমাদের বিরুদ্ধে যাবে। আমাদের রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটবে, জনগণের কাছে আমরা গিয়ে আর কোনদিন ভোট চাইতে পারবো না। তাহলে এই রাজনীতি করার স্বার্থকতা কোথায়? রাজনীতিতো জনগণের জন্য। সুতরাং দেখা যায়, আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে বাধা প্রদান করার মাধ্যমেই বিএনপি’র তৃণমূল পর্য্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দিন দিন তা প্রকট হয়ে ওঠছে।

সম্প্রতি তা দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রসারিত হচ্ছে। গত ১৬ই মে গাজিপুরে ২৯ জন নেতাকর্মীকে আজীবন বহিস্কার করেছে বিএনপি। এই বহিস্কৃত নেতারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেন এ কথা নির্দ্ধিধায় বলা যায়, তবে কোন দল থেকে অংশ গ্রহণ করবেন তা এখনও জানা যায়নি। এছাড়াও ২১মে ’দৈনিক জনকন্ঠ’ পত্রিকার এক খবরে পড়েছি, পাকুন্দা-কটিয়াদি উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ ২ আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বিএনপি থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পর পর দু’বার এমপি নির্বাচিত মেজর (অব:) আক্তারুজ্জামান রঞ্জন রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বর্তমানে বহিস্কৃত। তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার হলে তিনি শক্ত প্রতিপক্ষ হতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর জন্য।” এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরণের একজন জনপ্রিয় প্রতিনিধির যদি বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার না করা হয় তাহলে কি তিনি বসে থাকবেন? নিশ্চয়ই না। হয়তো তিনি স্বতন্ত্র অথবা অন্য কোন দলের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচন করবেন এ কথা সত্য।

উপরের ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশ গ্রহণ না করায় তৃণমূল পর্য্যায়ের নেতৃবৃন্দ জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এবং জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। যার ফলে তাদের মনের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে উঠছিলো এখন তারই বহি:প্রকাশ ঘটতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৪ বছর ধরে দেশ শাসন করে আসছে এবং দেশের যে উন্নয়ন সাধন করেছে তা কল্পনাতীত। বাংলাদেশের এ উন্নয়ন দেখে বিশ্বনেতৃবৃন্দও হতবাক হয়ে গেছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে যেখনে প্রতিনিয়তই চলছে খাদ্য সংকট, বাজারে জিনিসপত্রের মূল্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানী তেল সহ বিভিন্ন জিনিসের মূল্য বেড়েই চলেছে, এই অবস্থায় বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের কাছে স্বীকৃতি লাভ করেছে এটাই বিশ্ববাসীর কাছে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য করতে এগিয়ে আসছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের একজন যোগ্য শাসক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন। জনগণের মৌলিক চাহিদা ভাত, কাপড়, গৃহহীন মানুষের জন্য ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করা সহ যাবতীয় এই সরকার মেটাতে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে জনগণের পূর্ণ আস্থা সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসির্না উপর। শুধু দেশের জনগণই নয়, সম্প্রতি বাংলাদেশে অভুতপূর্ব উন্নয়নের ভুয়সী প্রশংসা করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেছেন, সব বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব প্রয়োজন।

এমতাবস্থায় বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তাহলে তারা ভাল করেই জানে যে, জনগণের কোনো সাপোর্ট তারা পাবে না, পরাজয় হবে নিশ্চিত। সুতরাং নির্বাচনে না যাওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। অর্থাৎ জনগণকে দেখানো যে, আমরা জনগণের কল্যানের জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু দেশের জনগণ ভুলে যায়নি তাদের শাসনামলের কথা। এ কথা তাদের মনে রাখা উচিৎ।

এবার আসা যাক সিলেটের বিএনপি নেতা মেয়র আরিফুল হকের ’মঞ্চ নাটকে’র কথায়।গত রবিবার (২১ মে) লন্ডনের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক জুয়েল রাজ ফেইসবুক-এ ”সিলেটে আরিফুল হকের রেড সিগন্যাল গ্রিন সিগন্যাল থিওরি” হেড লাইন দিয়ে লেখার একটি অংশ এখানে তুলে ধরছি। তিনি লিখেছেন, অনেক জল ঘোলা করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে সর্বশেষ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী ২০ মে সিলেটে সমাবেশ করে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর নির্বাচন করবেন না। তিনি মোটা দাগে যে অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন বর্জন করছেন সেই অভিযোগগুলো হলো, নির্বাচনের পরিবেশ নেই. ইভিএম-এ ভোটের প্রতি অনাস্থা, দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানীর অভিযোগ।

সর্বোপরি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থেকে নির্বাচন থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। মেয়র আরিফুল হক নির্বাচন করবেন না, সেটি গত ২ এপ্রিল যখন তিনি লন্ডন এসেছিলেন তখনই নির্ধারিত হযে যায়। ২ এপ্রিল লন্ডনে এসে প্রায় ১৫ দিন অবস্থান করেন। আর তখনই গল্পের গরু আকাশে উড়ার মতো অবস্থা শুরু হয়। একবার তিনি নির্বাচন করবেন, আরেকবার তিনি নির্বাচন করবেন না। একবার বিএনপি ছাড়ছেন, আরেকবার বিএনপি তাকে বহিস্কার করছে-নানা আলোচনা ছিল দেশে বিদেশে। আরিফুল হক চৌধুরী কিংবা তার নেতা তারেক রহমান এ ব্যাপারে টু শব্দটি করেন নি। লন্ডন ছাড়ার আগে এক ইফতার পার্টিতে তারেক রহমান সহ তিনি আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। সেখানেই প্রথম উল্লেখ করেন, ’আমার নেতা আমাকে একটি সিগন্যাল দিয়েছেন। সেটি গ্রীন না রেড তা সময়মতো সবাই জানবেন।’ এরপর দেশে ফিরেও তিনি একই কথা বলেন। এরপর একের পর এক অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন কেন্দ্রীক কোন প্রচারণা, জনসংযোগ, সভা সমিতি কিছুই করেন নি। সিগন্যাল আসলে কি ছিলো?

সিলেটে তার জনপ্রিয়তার হিসাব নিকাশ দেখিয়ে ভোটে দাঁড়াতে লন্ডন থেকে গ্রিন সিগন্যাল চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আরিফুল হককে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ভোটে দাঁড়ালেই রেড সিগন্যাল! কারণ আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোন নির্বাচনেই যাবে না বিএনপি। এটা একদম পরিস্কার বলে দিয়েছিলেন তারেক রহমান। তাই যারা বিদ্রোহী হয়ে ভোটে দাঁড়াচ্ছে তাদেরকে আজীবনের জন্য দল থেকে বহিস্কার করা হচ্ছে। মূলত: এই রেড সিগন্যাল নিয়েই দেশে ফিরেছিলেন আরিফুল হক।

সাক্ষাতের এই সুযোগে বিএনপির রাজনীতির মাঠে চমক  আরিফ, তার নেতা তারেক রহমানের সাথেও রাজনৈতিক বাজি খেলে নিয়েছেন। তিনি নিজের জনপ্রিয়তার ইতিহাস পুঁজি করে, সেই বাজি জিতে আসেন। জাতীয় নির্বাচনে তাকে নমিনেশন দিতে হবে এবং কেন্দ্রীয় বিএনপি’তে সহ সভাপতি পদ দিতে হবে। তারেক রহমান বলেছেন, সময় হলে দেখবেন।
তাহলে দীর্ঘ এক মাস এতো নাটকীয়তা কেন! কোন গ্রিন সিগন্যালের জন্য? তিনি তো এসেই ঘোষণা দিতে পারতেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আমি নির্বাচন করব না। কিন্তু তিনি তা না করে, বিগত এক মাস নির্বাচনী মাঠ জরীপ করেছেন- তিনি কতটা ঝুঁকি নেবেন।”

সাংবাদিক জুয়েল রাজের লেখা থেকে বুঝা গেল, বিগত নির্বাচনগুলোতে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন সিলেট আওয়ামী লীগের গ্রুপিং এর সুযোগে। কিন্তু এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাছাইকৃত প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিলেটে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করার জন্য নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করার পর এই হেভিওয়েটের সাথে পাল্লা দিয়ে ওঠা কোনমতেই সম্ভব নয় বলেই আরিফুল হক চৌধুরী পিছপা হয়েছেন। নতুবা তিনি স্বতন্ত্র হলেও প্রতিদ্বন্ধিতা করতেন। এই গেল আরিফুল হক চৌধুরীর নাটক।

এবার আলোচনা করবো বার্মিংহামের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক সাহিদুর রহমান সুহেল, হেড অব নিউজ ’এলবি টুয়েন্টি ফোর মিডল্যান্ডস-এ তার একটি অন লাইন টিভি’র সাক্ষাৎকার নিয়ে। এই সাক্ষাৎকারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তফা লিমন, সাবেক সিলেট সরকারী কলেজের ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। সাহিদুর রহমান সুহেল এর অনলাইন টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম। তিনি উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মোস্তফা লিমনকে প্রশ্ন করেছিলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবেনা। অথচ দেখা যাচ্ছে দলের আদেশ উপেক্ষা করে গাজীপুরে ২৯ জন নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন যার ফলে তাদেরকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে। আগামী ২১জুন সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন সিলেটে একশতের উপর বিএনপি নেতা অংশ গ্রহণ করছেন। যদি তারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন তাহলে কি তাদেরও একই শাস্তি ভোগ করতে হবে?
এর উত্তরে মো: মোস্তফা লিমন বলেন, ”দলের চেয়ে নেতা বড় নয়। দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত মানতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহত্তম দল সারা দেশে।
সুহেল আরেকটি প্রশ্ন করেন, সিলেট বিএনপি’র কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা আছেন ফরহাদ চৌধুরী শামিম, আব্দুর রকিব তুহিন, কয়েস লোদি, নজরুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। তারা যদি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন তাহলে কি তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে? এর উত্তরে জনাব লিমন বলেন, আমি মনে করি দলের হাইকমান্ডের আদেশ অমান্য করলে অবশ্যই তাদেরকেও একই শাস্তি ভোগ করতে হবে। কেননা, হাই কমান্ডের আদেশ মেনেই দল করতে হবে।
জনাব সুহেল প্রশ্ন করেন বিএনপি’র একজন চেয়ারম্যান বলেছেন, আমি দলীয় প্রতীকী নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছি না , আমার প্রতীক ভিন্ন। এ বক্তব্যটি কি সাংঘর্ষিক হলো না? এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?
জনাব লিমন বলেন, শুধু দলের প্রতীক ই নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি সবার কাছেই পরিচিত যে তিনি বিএনপি’র লোক। তিনি নিজে তার এলাকায় একটি বিরাট রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছেন। তারপরও তাকে দলের হাইকমান্ডের আদেশ মানতে হবে।

বাংলাদেশের সম্ভবত: প্রতিটি নির্বচনী এলাকার বিএনপি নেতা কর্মীরা বুঝতে পেরেছেন, আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা নির্বচনে দাঁড়াবার পরিকল্পনা করছেন। এ কথা বিএনপি’কে বুঝতে হবে, তৃণমূলের রাজনীতিবিদরাই একটি দলের প্রকৃত রাজনীতিবিদ। ঢাকা শহরের অট্টালিকায় আর বিদেশে মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়িতে বসবাস করে রাজনীতি করা যায় না। এ রাজনীতি হচ্ছে স্বার্থ আদায়ের রাজনীতি, এ রাজনীতি হচ্ছে নেতা হওয়ার রাজনীতি যা কখনও দলীয় নেতৃবৃন্দ মেনে নিতে পারছেন না।

বিএনপির রাজনীতির বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে বুঝা যায়, যারাই তাদের দলকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যাবার চেষ্টা করবে তারাই দল থেকে বহিস্কার হবে! অদূর ভবিষ্যতে দলের মধ্যে নির্বাচনের সূত্র ধরে একটি বিদ্রোহ ঘটে যেতে পারে যা বিএনপি’র জন্য অশনিসংকেত।

লেখকঃ কলামিষ্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102