

অবশেষ নিশি মধ্যরাতে এই একা এভাবে এখানে ,—
যদিও
মহাবীজ মন্ত্রভাঙা গোপন শব্দগুলো নিরবে অবাক ! তবু এসময়ে আমার এতকালের আমিত্বহীন শরীর ভাসছে না বলা কথায়,—-
স্মৃতি স্মৃতি কিছু কিছু
মন খারাপে ডুবেছে
জানলার ওধারের চাঁদ ; এটাও এক বিষ্ময়ে স্বপ্ন পাতা
প্রত্যন্ত এই এখানে !
#
আজ থেকে শেষ সপ্তাহে
নির্ভুল অঙ্কের হিসেব রেখেছে
হদয় ৷ মৃত্যুর শেষ এক ঘন্টা পরে সমস্ত পৃথিবী যেন
আমার মতোই অভাগা ;
আমি এক ডিভিয়ে যাওয়া শেষ জিজ্ঞাসা ,—-
ভালোবাসা ছাড়া মন
একবারও শ্মশানে পোড়েনি !
অথচ এই মন নিয়ে চলে কষ্ট পাবার বিবর্ণ পাগলামী !
মরি ; যতবার মরি
তারপর থেকে জ্বলি
স্মৃতি ভালোবাসায় !
#
আমিও যে থাকতে পারিনি
সখ করে কেনা এই দর্পণে ,
তবু মরি কত শত বার
এভাবে কাউকে না ব’লে |
#
সব নিয়ে প্রতিটা জন্মের স্মৃতি
আমার সাথে জ্বলেছে ; এটা
একেবারে পৃথিবী ছাড়ার শেষ
না হওয়া আমিকে আলাদা
করার চিরকালীন কৌশল !
এই ঘর ; এখানে আমার শেষ দীর্ঘশ্বাস এখনো মৃত্যুহীন একা ,—-
এই ঘরে বারেবারে
শরীরহীন ফিরে ফিরে আসা !
#
যদিও বেঁচে থাকা
অন্য কোন জন্মের স্মৃতি
শোকহীন , অসুখহীন , কিম্বা বিবেকহীন না বলা কথায়
আমার পরবর্তী মৃত্যুর
আগাম খবর পৌঁছে দিয়েছে
ঈশ্বর এবং প্রেত’- কে !
অথচ আমিও প্রতিটা মৃত্যুর একেবারে কাছে বসে ;
অতলান্তে মন হারিয়ে ভালোবাসাকে দিয়েছি
কথা না বলে ; আমি যেন
পৃথিবী”- কে জানিয়ে নিয়ে
#
আজ এই পর্যন্ত ; আমি এই
হঠাৎ করে চলে যাওয়া প্রেম”-
সবাই যেন বিবেক হীনের
মতই মৃত্যু নিয়ে মরি আর বাচি !
লেখক : কলকাতার জনপ্রিয় কবি ও
বাচিক শিল্পী ~ বিদ্যুৎ ভৌমিক