

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি , আজ থেকে ৭১ বছর পূর্বে যে সকল ভাষাপ্রেমী সংগ্রামী রফিক, জব্বার, বরকত সহ যারা আমাদের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের স্মরণে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক সর্বস্তরের জনগণ দলমত নির্বিশেষে রাত ১২টা ০১ মিনিটে কার্ডিফে তাদের নিজস্ব শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পনের মধ্য দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। লক্ষণীয় যে, গত বছরের তুলনায় এবারের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রায় দ্বিগুণ মানুষের উপস্থিতি সবার মনে উৎসাহ জাগিয়েছে। উদ্যোক্তারা আশা প্রকাশ করছেন আগামীতে আরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে।
উল্লেখ্য যে, কার্ডিফে প্রতিবছরই দু’টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথমটি শুধুমাত্র বাঙালী কমিউনিটির জনগণ রাত ১২টা ০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করেন এবং দ্বিতীয়টি এ বছর ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ১টা পর্য্যন্ত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাসুদা আলী। উক্ত অনুষ্ঠানে আইএলএম ফাউন্ডার ট্রাষ্ট এর চেয়ারম্যান জনাব আনোয়ার আলী অনুপস্থিত থাকায় স্বাগতম ব্ক্তব্য রাখেন ডেপুটি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শেরুল ইসলাম (সাবেক কাউন্সিলার)। এ ছাড়াও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাইট অনারেবল লর্ড মেয়র অব কার্ডিফ কাউন্সিলার গ্রাহাম হিনচলি, হিজ এক্সেলেন্সি আশেকুন নবী চৌধুরী-মিনিষ্টার ফর প্রেস (বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন), লিডার অব কার্ডিফ কাউন্সিল হিউ থমাস, ডেপুটি মিনিষ্টার ফর সোশ্যাল সার্ভিস জুলি মর্গান এমএস, মিনিষ্টার ফর জাষ্টিস জেইন হাট এমএস, মার্লিজ হোচার্ট – অনারারী কাউন্সেল অব সুইজারল্যান্ড ফর ওয়েলস, জুলিয়ান ফিলিপস-অনারারী কাউন্সেল অব ফিনল্যান্ড ফর ওয়েলস, থিও কলিয়ানড্রিস-অনারারী কাউন্সেল অব রয়েল থাই, এইচ, রয়েল নেভি’র রিপ্রেজেন্টিটিভ সহ কাউন্সিলার, বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও রিপ্রেজেন্টিটিভগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বক্তব্য রাখেন রাইট অনারেবল লর্ড মেয়র অব কার্ডিফ কাউন্সিলার গ্রাহাম হিনচলি, , হিজ এক্সেলেন্সি আশেকুন নবী চৌধুরী-মিনিষ্টার ফর প্রেস (বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন), লিডার অব কার্ডিফ কাউন্সিল হিউ থমাস, ডেপুটি মিনিষ্টার ফর সোশ্যাল সার্ভিস জুলি মর্গান এমএস এবং মিনিষ্টার ফর সোশ্যাল সার্ভিস জেইন হাট এমএস, সাংবাদিক মকিস মনসুর ( আইএলএম এর ফাউন্ডার ট্রাষ্ট সেক্রেটারী), শেখ তাহির উল্লা, আনহার মিয়া।
বক্তারা একুশে ফেব্রুয়ারি পালনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য্য নিয়ে আলোচনা করেন। আগামীতে আরও বেশি করে বিশেষ করে বাংলাদেশী কমিউনিটির ছাত্রছাত্র ও সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার উপর গুরুত্বরোপ করেন। বিদেশী বক্তারা একুশে ফেব্রুয়ারি উপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন কমিউনিটির তাদের নিজস্ব ভাষার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
কাউন্সিলার দিলওয়ার আলীর পরিচালনায় শহিদ দিবস এবং দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
নিউজ/ যুক্তরাজ্য / কেএলি