

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা হাওড়পারের অন্তেহরি গ্রাম। সংসারের কাজকর্ম শেষে অবসরের সময়টুকু রঙিন কাপড়ে বাহারি রঙের সুতোয় দৃষ্টিনন্দন কাঁথা সেলাই করে এখন স্বাবলম্বী হাওরপারের নারীরা। নান্দনিক নকশীকাঁথা তৈরি করে হাওরপারের নারীরা কাজ করে যাচ্ছেন উদ্যোক্তা সম্পা দাশের হাত ধরে। রাজনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা হাওরপাড়ের অন্তেহরি গ্রাম।
হিজল-তমালে ঘেরা একটি বাড়ির উঠোনে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নকশিকাঁথার কাজ করছেন নারীরা। নকশিকাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। কেউ সেলাই করছেন, কেউ কাঁথার ওপরে বাহারি নকশার ফুল তুলছেন একাগ্রচিত্তে।
সেখানকার বাসিন্দা সম্পা দাশ পনেরো জন নারীকে নকশিকাঁথা তৈরির বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেন। এখন বাণিজ্যিকভাবে নকশিকাঁথা তৈরি হচ্ছে তাদেরই হাত দিয়ে।
সম্প্রতি ছায়া সুনিবিড় অন্তেহরি গ্রাম গিয়ে দেখা যায়, হিজল-তমালে ঘেরা একটি বাড়ির উঠোনে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে নকশিকাঁথার কাজ করছেন নারীরা। নকশিকাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা। কেউ সেলাই করছেন, কেউ কাঁথার ওপরে বাহারি নকশার ফুল তুলছেন একাগ্রচিত্তে।
নকশিকাঁথা উদ্যোক্তা সম্পা দাশ বলেন পনেরো জন নারীকে নকশিকাঁথা তৈরির দুই বছর আগে করোনার সময় এ গ্রামের কয়েকজন অসহায় ও দুস্থ নারীদের বিনামূল্যে নকশিকাঁথা তৈরির কাজ শেখানো হয়। যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন। সেই থেকে যত সময় যাচ্ছে গ্রামের অনেক নারীরা এগিয়ে আসছেন। সংসারের কাজ শেষে তাদের বাড়তি আয় হচ্ছে।
শিক্ষার্থী উমা দাশের বলেন, ‘আমি পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে এসে কাজ শিখেছি। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি। পাশাপাশি আমার পরিবারকেও সহায়তা করতে পারছি।’
দিদির আরেক নারী কারিগর বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেন। এখন বাণিজ্যিকভাবে নকশিকাঁথা তৈরি হচ্ছে তাদেরই হাত দিয়ে।
আমি আগে ঘরের কাজ করতাম। এখন সম্পা দিদির সঙ্গে কাজ করছি। ঘরের কাজ শেষে অবসর সময়ে নকশিকাঁথা সেলাই করি। আমার বাড়ির উঠোনে অন্যঘরের নারীরাও আসেন। সবাই মিলে কাজ করি। বেশ ভালো যাচ্ছে দিন। আমাদের গ্রামের অনেকের মেয়ের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে।
আমি পড়ালেখার পাশাপাশি এখানে এসে কাজ শিখেছি। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারছি। পাশাপাশি আমার পরিবারকেও সহায়তা করতে পারছি।
সুপ্তি, রাহেলা ও আসিয়া বেগমসহ বেশ কয়েকজন গৃহিনী জানান, নকশা অনুযায়ী নকশিকাঁথা তৈরি করতে বেশ সময় লাগে, কষ্টকর কাজ। সপ্তাহে দুই থেকে তিনটি নকশিকাঁথা তৈরি হয়। পাঁচ হাত বাই ছয় হাতের নকশিকাঁথা তৈরিতে ১১ গজ মলমল কাপড়ের প্রয়োজন। নকশা অনুযায়ী নকশিকাঁথা তৈরি করতে নানান রঙের কাপড়ের পাশাপাশি লাচিসুতা, ফ্রেইম ও বিভিন্ন সাইজের সুঁই তিনি সরবরাহ করেন। প্রথমে তিনি নিজে কাপড় আকার অনুযায়ী সেলাই করে সেখানে মুছনীয় রঙ দিয়ে নকশা আঁকেন। তারপর সেই কাপড়ে শৈল্পিক সুইসুতোর নকশা ফুটে তুলেন নারীরা।
মৌলভীবাজার বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো. বেল্লাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, উদ্যোক্তাদের আমরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছি। তাদের ট্রেনিং এর আওতায় এনে বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী কাজে যুক্ত করছি, পাশাপাশ বিভিন্ন পণ্য তৈরির সাথে যুক্ত উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হয়।
নিউজ /এমএসএম