

জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে ‘স্মার্ট জেলা’ গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসকদের জন্য ‘স্মার্ট ডিস্ট্রিক্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এক বা একাধিক জেলা প্রশাসক স্মার্ট জেলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে এক কোটি টাকা ‘সিড ফান্ড’ পাবেন
এই প্রতিযোগিতায় শুধু জেলা প্রশাসকরা অংশ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট জেলা গঠনে নাগরিকরা সম্পৃক্ত হতে চাইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসপায়ার টু ইনোভেশন (এটুআই) জানায়, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলজেন্স, বিগ ডাটা এনালাইটিক্সসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, উৎপাদন, সেবা খাত, প্রশাসন, পরিষেবাসহ নাগরিকবান্ধব সেবা বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে জেলা প্রশাসকগণের কাছ থেকে উদ্ভাবনী আইডিয়া জমাদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। জনবান্ধব ও উন্নত সেবার মাধ্যমে জেলার আধুনিকীকরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট জেলা তৈরিতে জেলা প্রশাসকরা নিজেদের উদ্ভাবনী পরিকল্পনা এটুআইর চ্যালেঞ্জ ফান্ড ওয়েবসাইটে (challenge.gov.bd) জমা দিতে পারবেন। পরিকল্পনা জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৫ এপ্রিল ২০২৩।
এ বিষয়ে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ সফলভাবে বাস্তবায়ন না করলে করোনাকালীন সময়ে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শিক্ষা-বাণিজ্য-বিচারব্যবস্থা চলমান রাখতে পারতাম না। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক এবং উন্নত আয়ের উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এটি বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনকে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে স্মার্ট জেলা প্রতিষ্ঠায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
পলক আরও বলেন, ‘আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বল্প ও দীর্ঘ পরিকল্পনা প্রণয়ন করছি, যার মূল স্তম্ভ চারটি। এগুলো হলো—স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটি। আমাদের সব পেশার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিকদের বুদ্ধিদীপ্ত ও উদ্ভাবনী মানসিকতা তৈরি করে স্মার্ট সিটিজেন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
‘লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্যাশলেস, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে দুর্নীতিমুক্ত জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রণয়ন করে একটি স্মার্ট ইকোনমি তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকারের সব কার্যক্রমে পেপারলেস অফিস বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি স্মার্ট গভর্নমেন্ট তৈরি করতে হবে। স্মার্ট এগ্রিকালচার, স্মার্ট হেলথ কেয়ারসহ সব কার্যক্রম নিয়ে আমরা একটি স্মার্ট সোসাইটি গঠন করব। জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে গঠিত আইসিটি কমিটির সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের সংযুক্ত করে ডিজিটাল সেবার মানোন্নয়নে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়কমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান; মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন; আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ /এমএসএম