সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

পঞ্চগড়ে লাম্পি স্কীন রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০ টি গরুর মৃত্যু

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৫৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ায় গরুর শরীরে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৭০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।প্রতি গ্রামে গড়ে ৫-১০ টি, গরু মারা গেছে।

এছাড়াও উপজেলায় প্রায় ১২শত গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। পল্লী চিকিৎসক, কবিরাজ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের দেখালেও সারছে না এ রোগ। ফলে গোয়ালঘর শূন্য হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় খামারি ও কৃষক গৃহস্থরা।

তেতুলিয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, রোগটি দ্রুত ছড়ায়। এ রোগ উপজেলার ৭ ইউনিয়নে মধ্যে দেখা দিয়েছে। এটি আফ্রিকান রোগ। এ রোগের কোন প্রতিষেধক নাই। ফলে গোট পক্স ভ্যাকসিন দিয়ে রুগটির প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে
উপজেলার তেতুলিয়া সদর, বাংলাবান্ধা,তিরনই হাট, শালবাহান, বুড়াবুড়ি, ভজনপুর, দেবনগড়সহ
৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে তিরনই হাট ইউনিয়নের পিঠাখাওয়া গ্রামের গেসুর ১ টি, আক্কাস আলির ১টি, ডেমগছ গ্রামের জিয়ার ১টি বাবুয়ানীজোত, খয়খাটপাড়া, দরগাসিংহ
গ্রামে গ্রামে প্রায় ২০ টি গরু মৃত্যু হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত পাঁচ দিনে তিরনই হাট, পিঠাখাওয়া, ডেমগছ গ্রামে প্রায় ২০ টি গরু লাম্পি রোগে মারা গেছে।

খামারি ও গৃহস্থদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। তাই তারা পল্লী চিকিৎসক, কবিরাজ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু তাদের দেওয়া ওষুধে কাজ হচ্ছে না বলে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

গৃহস্থ মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার দেড় লাখ টাকা দামের একটি গাভীর সমস্ত শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। অনেক চেষ্টা করেছি বাঁচানোর। কিন্তু শেষে গরুটি জবাই করে মাটিতে পুতে রাখি। আরেক গৃহস্থ মো; আলেফ আলী বলেন, ‘ভালো গরু দেখে ঘুমাইছি। সকালে উঠে দেখি গরুর গায়ে পক্সের মতো গোটা। বিকেল না হতে সারা শরীর ঘিরে রেখেছে এ রোগ। শুনেছি এ রোগ হলে নাকি গরু মারা যায়। গরু দুটো মারা গেলে বিপদে পড়বো।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কৃষকরা এ ব্যাপারে জানতে অফিসের সাথে যোগাযোগ করলে কোন প্রানী সম্পদ চিকিসৎকের সাক্ষাত পাওয়া যায়নি।

পঞ্চগড় তেতুলিয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো; রতন কুমার ঘোষ বলেন, এটি নতুন রোগ। মশা-মাছির মাধ্যমে এক গরু থেকে আরেক গরুতে ছড়ায়। লাম্পি স্কিন রোগের কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি। আমরা পক্স ভ্যাকসিন দিয়ে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করছি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102