

পঞ্চগড় সংবাদদাতাঃ পঞ্চগড়ে ছেলেকে হত্যার দায়ে মায়ের দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে মা হামিদা আক্তারকে এ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে অপর দুই আসামি খোদেজা বেগম এবং হাসান আলীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্র জানায়, আটোয়ারি উপজেলার দোহসুহ গ্রামের বাসিন্দা হাসান আলীর মেয়ের সঙ্গে তেঁতুলিয়া উপজেলার লতিফগঞ্জ এলাকার আক্তারুল হক (২৮) এর বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে আক্তারুল স্ত্রী হামিদা আক্তারকে তালাক দেন। ২০১৭ সালে ৮ এপ্রিল হামিদা ছেলে ইমরান হাসানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। এরপর ১২ এপ্রিল দুপুরে হামিদার বাবার বাড়িতে শিশু হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর চাচা মো. মজনু হক বাদী হয়ে হামিদা আক্তার এবং তার বাবা হাসান আলী ও মা খোদেজা বেগমকে (৪৫) আসামি করে আটোয়ারি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে নিহত শিশুটির মা হামিদা আক্তারকে প্রধান অভিযুক্ত করে তিন জনের নামে ওই বছরের ১৬ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে ছেলের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন মা হামিদা।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার প্রধান আসামি হামিদা ছেলের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন। অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয় এবং হামিদা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিজ্ঞ আদালত প্রধান আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই রায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।