

তেতুলিয়া সংবাদদাতাঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে,মেয়েদের বাল্য বিবাহ নিরুৎসাহিত করন, মাসিক স্বাস্থ্যবিধি, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম ও বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) আজিজ নগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ অনুষ্ঠানে আজিজ নগর দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুলতানা রাজিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামরিগুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আকরাম হোসেন জাকারিয়া।
অনযান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আজিজনগর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুফিয়া খাতুন,
নারী বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা মুনমুন।
মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এবং পরামর্শ দিয়েছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল এ্যাসিট্যান্ট মুন্নি আক্তার বৃষ্টি।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মোঃ আব্দুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক,উৎস (একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন)
অনুষ্ঠানে প্রায় ৫ শত স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানেটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যেক নারীর পিরিয়ড স্বাভাবিক জীবনচক্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি নিয়ে এখনো আমাদের দেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি স্বাভাবিক নয়। তবে বর্তমানে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও দারিদ্রতার কারণে এখনও বহু নারী মানসম্মত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে পারছেন না। শিশুস্বর্গের এ কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসাজনক।
শিক্ষার্থীরা বলেন শিশুস্বর্গের এমন আয়োজন সত্যিই অসাধারন। আমরা শিশুস্বর্গের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারলাম। ডাক্তার মুন্নি আক্তার বৃষ্টি আপার কাছ থেকে মেয়েদের পিরিয়ড হলে কি কি করণীয় তা জানতে পারলাম।
শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কবীর আকন্দ বলেন, সীমান্ত জনপদের দরিদ্র পীড়িত পরিবারের মেয়েরা মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন নয়। সামাজিক লজ্জায় অনেক কিছু গোপন করে। সামান্য একটু অসচেতনতার কারণে শরীরে বড় বড় রোগের বাসা বাধে। আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাল্য বিয়ে নিরুৎসাহিত করন এবং মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনা কার্যক্রম বিভিন্ন সচেতনাতা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের সুবিধার জন্য।নেপকিন ভেন্ডিং মেশিন প্রদান করা হবে।
কবির আকন্দ আরও বলেন, ‘ন্যাশনাল হাইজিন সার্ভে ২০১৮’ অনুযায়ী, দেশে মাসিকের সময় ৪৩ শতাংশ কিশোরী ডিসপোজিবল প্যাড, ৫০ শতাংশ পুরোনো কাপড় এবং বাকিরা নতুন কাপড় ও তুলা ব্যবহার করে। ভালো মানের প্যাড ব্যবহারে একজন কিশোরীর মাসে ১শ টাকার মতো লাগে। গ্রাম অঞ্চলের অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য মানসম্মত স্যানিটারি প্যাড অনেকটাই দুষ্প্রাপ্য। এক্ষেত্রে শিশুস্বর্গের মাধ্যমে আমরা স্কুলে স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপদ স্যানিটারি প্যাড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ইতিমধ্যে আমরা এ উপজেলায় তিনটি বিদ্যালয়ে সহ একাধিক নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সীমান্তের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করা হয়।