

সিলেট অফিস: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ঘর থেকে দুই শিশু ও তাদের মায়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন- উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)। হিফজুর রহমান ঘরে আহতাবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকৎসকরা। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ৩টি একই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ এবং হিফজুর রহমানই পুলিশের প্রধান সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ জানান, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ভোরে আত্মীয় ফয়েজ মিয়াকে মোবাইলে কল দিয়ে হিফজুর রহমান বলেন, আমি অসুস্থ হাসপাতালে নিতে হবে, টাকা-পয়সা নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। এ খবর পেয়ে তিনি (ফয়েজ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাড়িতে পৌঁছেন। সেখানে পৌঁছে ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন তিনি (ফয়েজ)। পরে কাঁচা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একই বিছানায় ৪ জনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় চারজনকেই মৃত মনে হয়। স্থানীয়রা ছবি তুলতে গেলে ক্যামেরার ফ্লাশে চোখ খুলে আবারও চোখ বন্ধ করে ফেলেন হিফজুর। স্থানীয়রা তখন তার কাছে গিয়ে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক। তার শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন আছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশি প্রহরায় তার চিকিৎসা চলছে। হিফজুর শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত নেই। কিন্তু তার জ্ঞান ফেরেনি।
স্থানীয়রা জানান, ভোর সোয়া ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আরও দুজনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন হিফজুর। তাদের একজন পান বিক্রেতা তাজ উদ্দিন জানান, হিফজুর প্রতিদিন তাকে পান সরবরাহ করতেন। তাকে ভোর ৫টা ১৪ মিনিটের দিকে ফোন দিয়ে হিফজুর বলেন, আজ পান দিতে পারবে না। কারণ শরীর খারাপ।
ইসলাম নামের এক প্রতিবেশী জানান, হিফজুর পরিবারে কলহ ছিল। গত দুই মাসে দুবার সালিশ করেছেন তিনি। শুক্রবার হিফজুরের শ্যালিকার বিয়ে হওয়ার কথা। সেই বিয়েতে যাওয়া না যাওয়া নিয়েও তাদের মধ্যে সোমবার ঝগড়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ দুটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয় দুটি হলো- জমি ও পারিবারিক কলহ। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত এবং ফোন কলের বিষয়গুলো দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে- পারিবারিক কলহের কারণেই হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও জবাই করে খুন করে। এরপর নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরে। স্থানীয় বিরোধের বিষয়েও বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করেনি পুলিশ। জ্ঞান ফিরলে হিফজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।