

যুক্তরাজ্য অফিস: দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের পেকহামে নিজের ফ্ল্যাটে দুই বছরের বেশি সময় ধরে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন ৫৮ বছর বয়সী শেইলা সেলোয়ান। আর বিষয়টি না জেনেই স্থানীয় হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন পিবডি তার কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করেছে বলে একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আজ শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই নারীর মরদেহ দাঁতের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লিভিংরুমের একটি সোফায় তার কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। তবে মরদেহ পচে যাওয়ার ফলে ময়নাতদন্তে সেলোয়ানের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লন্ডনের সাউথ করোনার আদালতে জানানো হয়, তিনি ক্রোনের রোগ এবং অন্ত্রের প্রদাহে ভুগছিলেন।
সেলোয়ানের মৃত্যুর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে না চাপা থাকার কারণে বিষয়টি সাধারণ জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০১৯ সালের আগস্টে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় সর্বশেষ তাকে জীবিত অবস্থায় দেখা যায়। এ ব্যাপারে স্বতন্ত্র তদন্তও পরিচালিত হয়েছে। অপরদিকে ভাড়াটিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি না জানায় পিবডির সমালোচনা করেছেন আদালত।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ভাড়া পরিশোধ করেননি সেলোয়ান। সময়মতো ভাড়া না পেয়ে সেলোয়ানের সামাজিক সুরক্ষা বিমা থেকে ভাড়া সংগ্রহের জন্য আবেদন করে পিবডি। তারা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয় এবং ২০২০ সালের জুন মাসে ওই ফ্ল্যাটের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তবে সেলোয়ানের ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে বারবার পিবডি ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল প্রতিবেশীরা। কিন্তু এক পুলিশ কন্ট্রোলারের ভুলের কারণে তাকে জীবিত হিসেবে দেখানো হয় এবং তা পিবডিকে জানানো হয়।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে পিবডির ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অ্যাশলিং ফক্স বলেন, যেকোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। আমরা স্বীকার করি আরও বেশি কিছু করতে পারতাম।
ইউকেবিডিটিভি/ যুক্তরাজ্য / কেএলি