

সিলেট অফিস:সিলেটে শনিবার অন্তত ছয় থেকে সাতবার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া অংশর পর আজ রোববার ফজরের নামাজের সময় আবারও হলো ভূমিকম্প। আতংকে সিলেটবাসী হেলে পড়েছে দুটি ৬ তলা ভবন। নগরের পাঠানটুলা দর্জিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভবন দুটি পরিদর্শন করেছেন।এসময় তারা ভবনের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে পাঠানটুলা দর্জিপাড়া এলাকার ব্লক সি এর ১৬ ও ব্লক ৩ এর ৩ নম্বর বাসা হেলে পড়ার খবর পাওয়া যায়। বাসা দুটি ৬ তলা বিশিষ্ট। খবর পেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিসিকের প্রকৌশলী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এসময় ভবন দুটির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।এর আগে শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটের সময় প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভব হয়। এ কম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই ১০টা ৫০ মিনিটে ফের কেঁপে ওঠে সিলেট।

এরপর সকাল সাড়ে ১১ টায় ও ১১ টা ৩৪ মিনিটে দুটি ভূ-কম্পন অনুভূত হলে সিলেটজুড়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।এই আতংকের মধ্যে আজ ফজরের নামাজের সময় আবারও হলো ভূমিকম্প এতে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সিলেটে শনিবার অন্তত পাঁচ থেকে ছয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্বল্প সময়ে স্বল্প মাত্রার কয়েক দফার এই কম্পনে বড় কোনো ভূমিকম্প হওয়ার বার্তা বহন করছে কিনা এমন প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। তবে এমন কম্পনে আতঙ্ক হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি প্রস্তুতি এবং সতর্ক থাকার কথাও বলছেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁঞা বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট জৈন্তা এলাকায় এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। যেটিকে ‘ডাউকি ফল্ট’ বলা হয়। এটি পূর্ব পশ্চিমে প্রায় তিনশ কিলোমিটার বিস্তৃত। যা দেশের অভ্যন্তরে পলিমাটি দিয়ে ঢাকা আছে। আজ সেখানে বেশ কয়েকবার স্বল্প মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। এটি আসলে অস্বাভাবিক কিছু নয়। অদূর ভবিষ্যতে বড় কোনো ভূমিকম্পের বার্তাও এটি নয়। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও সতর্ক থাকতে হবে।’
‘ডাউকি ফল্টের’ সামগ্রিক বিষয় ব্যাখ্যা করে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুইশত বছর আগে ১৭৯৬ সালে এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হয়েছিল। রিসার্স অনুযায়ী বড় মাত্রার ভূ-কম্পন থেকে আরেকটি বড় মাত্রার ভূ-কম্পন হতে ৫০০ থেকে ২০০০ হাজার বছর সময় নেয়। এ হিসেবে বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে আরো ৩০০ বছর লাগার কথা। তবে প্রকৃতির খেয়ালে যেকোন সময় বড় ধরনের ভূ-কম্পন হতে পারে।’
দফায় দফায় স্বল্প মাত্রার ভূ-কম্পনে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রতিদিন অন্তত ৫০ বার ভূ-কম্পন হয়। কিন্তু কম মাত্রায় হওয়ায় সেটা আমরা বুঝতে পারি না। তবে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার বেশি হলে সেটা আমরা বুঝতে পারি। আজকের সিলেটের ঘটনাটাও এমনই স্বাভাবিক।’
বার বার ভূ-কম্পনের ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘সাগরের ঢেউ বড় তবে সেটি আস্তে আস্তে আসে। এটি তৈরি হতেও সময় লাগে। আবার কোনো পুকুরে ছোট ঢেউ হয় তবে এটি খুব দ্রুত পাড়ে আঁচড়ে পরে। ঠিক তেমনি বড় কম্পন হলে সেটি সময় নিয়ে আসে। ছোট কম্পন খুব দ্রুতই তৈরি হয়। তাই দফায় দফায় স্বল্প মাত্রার কম্পন বড় কোনো ভূমিকম্পের বার্তা বহন করে না। তবে সিলেটের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন আছে।’
শনিবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে, ১০টা ৫১ মিনিটে, বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে, ১১টা ৩৪ মিনিটে দুবার ও বেলা ২টায় এভাবে মোট ছয়বার কেঁপে ওঠে সিলেট। প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে চারবার কম্পনে অফিস-আদালতে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কর্মস্থল থেকে বের হয়ে খোলা স্থান ও সড়কে চলে যায়। তবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, সিলেটের ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। এছাড়া রিখটার স্কেলে ৪, ৩ ও ২.৮ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। আর অন্যগুলোর মাত্রা এতো মৃদু ছিলো যে তা রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।