

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ঠাকুরগাঁও-এ অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ ঘোষণা করেছে হোটেল মালিক ও শ্রমিক সমিতি।
জেলার বেকারিগুলোতে শ্রমিক না থাকার শঙ্কায় সেগুলোও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকেরা। মঙ্গলবার রাতে জেলার হোটেল রেস্তোরাঁ ও বেকারি শ্রমিক সমিতির সাথে হোটেল মালিক সমিতি একযোগে এই ঘোষণা দেয়।মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জয়নাল আবেদিন।অস্বাস্থ্যকর খাবার রাখার দায়ে দুই হোটেলের ম্যানেজারকে জেল-জরিমানা দেয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলার সব খাবার দোকান বন্ধ ঘোষণা করেন তারা।
জয়নাল আবেদিন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার বিকেলে শহরে অভিযান চালিয়ে হোটেল রোজ ও হোটেল গাওসিয়াকে ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এই সময় রোজ হোটেলের ম্যানেজার রুবেল হোসেন ও গাওসিয়া হোটেলের ম্যানেজার পলাশকে আটক করা হয়।তিনি আরও বলেন আমরা গরীব হোটেল শ্রমিক। দিন রোজগার করি দিন খাই। আমাদের উপর জেল জুলুম কেন? আমাদের মালিকদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হোটেলে কাজে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত আমরা আর কাজে যাব না। কোনো হোটেলে কাজ করব না।
হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অতুল কুমার পাল বলেন নিরাপদ খাদ্য আইনে তুচ্ছ ভুলের কারণে হোটেল রোজ ও গাওসিয়াকে ৩ লাখ করে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিত্যানন্দ সরকার । হোটেল দুটির ম্যানেজারকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ কারণে কর্মবিরতি দিয়েছেন শ্রমিকরা। তারা হোটেলে না আসলে হোটেল খোলা রাখা বন্ধ রাখা সমান কথা। আমরা তাদের সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করছি।
কী কারণে সাজা দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে রোজ হোটেলের মালিক আবুল কাশেম বলেন, ‘শহরের সুপরিচিত ও রুচিশীল হোটেল রোজ। এখানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসে ফ্রিজে আধা কেজি ওজনের একটি আটার খামির দেখে সেটিকে ময়লা দাবি করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আমার ম্যানেজারকে ১ বছরের সাজা দেন। আমি মনে করি এ রায় অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
গাওসিয়া হোটেলের মালিক ওয়াসিম আকরাম বলেন একটি দইয়ের বাটির উপর সামান্য পানি জমেছিল আমার হোটেলে। সেটিকে কেন্দ্র করে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ও ম্যানেজারকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।আমরা আমাদের জরিমানা মওকুফসহ দুই হোটেলের ম্যানেজারের মুক্তি দাবি করছি।এ রায়ের পরপরই ক্ষিপ্ত হয়ে দুই হোটেলের অর্ধশত হোটেল শ্রমিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও চৌরাস্তা ট্রাফিক মোড়ে রাস্তায় খাবার ফেলে প্রতিবাদ করেন।
এ বিষয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিত্যানন্দ সরকার এ প্রতিনিধিকে জানান,নিরাপদ খাদ্য আইন- ২০১৩ এর অধীনে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করা হয় মঙ্গলবার বিকেলে সে সময় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা খাবার রাখার দায়ে ওই দুই হোটেলকে জরিমানা ও ম্যানেজারদের সাজা দেয়া হয়।তিনি আরও জানান জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।