

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ সংযোগ সড়ক না থাকায় ৩৩ বছর ধরে একা দাঁড়িয়ে আছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার আমসারা খালের ওপর একটি সেতু। ১৯৮৭-৮৮ সালের বন্যায় সেতুটির দুই পাড়ের মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়কই ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বিচ্ছিন্ন সেতুটি একা দাঁড়িয়ে আছে। বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে ১২টি গ্রামের লোকজন চরম ভোগান্তি নিয়েই ৩৩ বছর ধরে এই স্থান দিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় খাড়িপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, এই স্থান দিয়ে চলাচল করতে বর্ষায় নৌকা অথবা বুক কোমর পানি পাড়ি দিতে হয়। আর শুকনো মৌসুমেও খাল পাড়ি দিতে নৌকা লাগে। অথবা পাশেই কোনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে খাল পার হতে হয়। সড়ক মেরামতের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে,পাওয়া গেছে শুধুই আশ্বাস।
সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় খালের পূর্ব পাড়ের গ্রামের সঙ্গে পশ্চিম পাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও সড়ক আর মেরামত করা হয়নি। খালের মাঝখানে দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে একা দাঁড়িয়ে সেতুটি। সংযোগ সড়কের কারণে ১২টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়লেও সংস্কারে নজর নেই কারো।
এলাকাবাসীরা জানান, ১৯৮৭-৮৮ সালের বন্যায় সেতুর দুই পাশের সড়কের মাটি খালে বিলীন হয়ে গেছে। তারপরে সড়ক আর মেরামত করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১২ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।সেতুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় খালের পূর্ব পাড়ের কয়েকটি গ্রামের সাথে জাবরহাট ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম দিক এবং বোচাগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে যাতায়াতে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।ওই এলাকার ফাইদুল ইসলাম, আবু তারেক বাঁধন, বাদল হোসেনসহ অনেকেই জানান, সড়ক না থাকায় ছেলে মেয়েদের বর্ষাকালে অনেক পথ ঘুরে স্কুলে যেতে হয়।
সেতুটি মেরামতের জন্য বিভিন্ন দফতরে যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় সংস্কারের আশ্বাস দিলেও পরে খোঁজ নেন না।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন বলেন, আগের যে প্রকৌশলী ছিলেন শুনেছি তিনি সেতুটির অবস্থা দেখে এসেছেন। আমি পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কান্তেশ্বর বর্মণ এ প্রতিনিধিকে বলেন , পরিত্যক্ত ব্রিজটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ব্রিজটির পরে সে নদীতে আরও একটি বড় ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। সেটা করা না হলে এই ব্রিজটি মানুষের কোন উপকারে আসবে না। ব্রিজটির অনেকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।