

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান অবাস্তব দাবি করছে, এ অভিযোগ তুলে এক সপ্তাহ আগে ভেস্তে গিয়েছিল পরমাণু চুক্তির আলোচনা। বৃহস্পতিবার আবার তা চালু হয়েছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি এবং চীনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। মধ্যস্থতা করছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এনরিক মোরা। খবর ডয়চে ভেলের।
গত সপ্তাহে দীর্ঘ পরমাণু চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কিন্তু সেই আলোচনা ভেস্তে যায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলো অভিযোগ করে, বৈঠকে অবাস্তব দাবি করছে ইরান।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মোরা বলেন, পরমাণু চুক্তির প্রয়োজনীয়তা সবাই অনুভব করছেন। সে কারণেই আবার আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন সকলে। সকলেই আশা করছেন সমাধানসূত্রে পৌঁছানো যাবে।
২০১৫ সালে ইরানকে নিয়ে অন্য দেশগুলো পরমাণু চুক্তিতে সই করেছিল। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা যায়, এমন পরিমাণ ইউরেনিয়াম ইরান জমা করতে পারবে না। জাতিসংঘ ইরানের পরমাণু পরীক্ষাগারে নজরদারি চালাতে পারবে।
কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তার পক্ষে ওই চুক্তিতে থাকা অসম্ভব। ইরানের বিরুদ্ধে এরপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন তিনি। ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরব হয়।
ট্রাম্প সরে যাওয়ার পর ইরান জানিয়ে দেয়, আগের চেয়ে বহু গুণ বেশি ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করবে তারা। জাতিসংঘের কাছে তথ্য দিতেও তারা দায়বদ্ধ নয়। এরপরই বাইডেন সরকার নতুন করে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে উদ্যোগী হয়। গত সপ্তাহে সেই প্রক্রিয়ায় শুরু হয়েছিল। কিন্তু সে আলোচনাও মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
কূটনীতিকদের একাংশের বক্তব্য, ইরানের উপর চাপ তৈরি করতেই গত সপ্তাহে পরমাণু আলোচনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নতুন করে চুক্তি যাতে হয়, সকলেই তা চাইছেন। তবে ইরানের সরকারি প্রতিনিধিকে যে সহজে চুক্তিতে সই করানো যাবে না, সে কথা এখন সকলের কাছেই স্পষ্ট।