

আনসার আহমেদ উল্লাহ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া মোকাবেলা করার জন্য স্থানীয় উদ্দোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ডক্টর কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ইউরোপ ভিত্তিক বাঙালিদের জলবায়ু পরিবর্তন ক্যাম্পাইনিং সংগঠন ‘ইউরোপিয়ান অ্যাকশন গ্রুপঅন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘হাউলিং অফবাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সদ্য সমাপ্ত গ্লাসগো কপ ২৬ এর ব্যার্থতা, অর্জন এবং ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে আলোচনা কালে উপরোক্ত কথা বলেন খলীকুজ্জামান।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অনক্লাইমেট চেঞ্জ-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলের সমন্বয়ক। তিনি আরও বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাটা বৈশ্বিক যা সৃষ্টি করেছে শিল্পোন্নত দেশগুলি তাই এর সমাধানও হতে হবে বৈশ্বিক উদ্যোগের দ্বারা। তবে একই সাথে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়েও কার্বন নির্গমন কমানো, দুর্যোগ ঝুকি কমানো ও দুর্যোগ অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে চলার সক্ষমতা কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর সাসটেনবল রুরাললাইভলিহুডস এর কর্মকর্তা জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ জিয়াঊল হক মুক্তা।
তিনি বলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার উপায় নিয়ে বিভিন্ন পলিসি পেপার তৈরি করেছে, তৈরি করেছে নিজস্ব ফান্ড, তবে সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপারে ঝুঁকিপুর্ণ এলাকা গুলিকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচক বৃন্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে, দেশ আরও বেশী বেশী ও ভয়াবহ আকারের ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙনের মুখোমুখি হবে।
তাই আমাদের অস্তিত্বের হুমকির বিরুদ্ধে আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে হবে।
ইউরোপিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের গোলাম রব্বানী পরিচালিত একটি ভিডিও ফিল্ম হাউলিং ফ্রম বাংলাদেশ:ক্যান ইউ হিয়ার ইট? বাংলাদেশের আর্তনাদ: শুনতে কি পাও?দেখানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউরোপিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন ইউরোপিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের সদস্য ডক্টর রায়হান রশিদ এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউরোপিয়ান অ্যাকশন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক মুরাদ কোরেশী।
এছাড়াও প্রশ্ন-উত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন ইমতিয়াজ আহমেদ, মারুফ আহমেদ চৌধুরী, আয়ুব করম আলী প্রমুখ।
অনুষ্টানটি ছিল বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী আলোচনা। একই সময়ে আলোচনায় চলে আসে যে উদ্বেগ গুলি প্রবাসী এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তর করার প্রয়োজনীয়তা।