

নবীগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে পৃথক স্থান থেকে একদিনের ব্যবধানে একজন চালকসহ দু’টি মিশুক গাড়ী নিয়ে উধাও হয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এঘটনায় নবীগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ থেকে আউশকান্দি ভাড়া নিয়ে চালককে ফেলে ১টি মিশুক গাড়ী নিয়ে উধাও হয়েছে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্ত। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে মিশুক চালকসহ অপর একটি মিশুক নিয়ে উধাও হয় একদল দুর্বৃত্ত।
তিনদিন অতিবাহিত হলেও কোন সন্ধান মিলেনি মিশুক চালক আবিদুর ইসলামের। এতে তার পরিবারে শংকা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- নবীগঞ্জ পৌর এলাকার মদনপুর গ্রামের মিশুক চালক কুদরত আলী (৪০) গত বুধবার দুপুরে নবীগঞ্জ শহর থেকে ৩ জন যাত্রী নিয়ে উপজেলার আউশকান্দি যায়। সেখানে যাওয়ার পর যাত্রী গাড়ীতে রেখে প্রশ্রাব করতে গেলে ফিরে এসে দেখেন যাত্রীসহ গাড়ী উধাও। আশপাশে অনেক খোজাঁখুজি করেও তার মিশুক গাড়ীর সন্ধ্যান পান নি। খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে মিশুক গাড়ী নিয়ে ওই যাত্রীরা চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখলেও তাদেরকে পরিস্কার সনাক্ত করতে পারেননি।
অপর দিকে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ শহর থেকে ২ জন যাত্রী নিয়ে উপজেলার গুজাখাইড় গ্রামে যায় পৌর এলাকার কেলী কানাইপুর গ্রামের মিশুক চালক আবিদুর রহমান (১৮)। ফায়ার সার্ভিস যাবার পর ওই যাত্রীরা কাগাপাশা নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়না ধরেন। কিন্তু চালক যেতে অনিহা জানালে তারা পুণরায় নবীগঞ্জ শহর এসে নতুন বাজার মোড়ে মাছ ক্রয় করে। এক পর্যায়ে হবিগঞ্জ সড়কে গড়মুড়িয়া ব্রীজে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। সেখানে যাওয়ার পর গাড়ী ও চালক আর ফিরে আসেনি।ওই মিশুক চালক আবিদুর পৌর এলাকার কেলী কানাইপুর গ্রামের পাতা মিয়ার ছেলে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ চালক ও গাড়ীর সন্ধানে অভিযান শুরু করেছেন। নানা স্থানে খোজঁখবর নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তবে ৩ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও চালক আবিদুর ইসলামের কোন সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের মাঝে শংকা ও উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে শহর থেকে দু’টি মিশুক গাড়ী ও চালক আবিদুর ইসলাম নিখোঁজের ঘটনায় মিশুক চালকদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। শহরজুড়ে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
এব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমদ বলেন-মিশুক উধাও চালক নিখোঁজ বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে ও তাদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।