

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর আয়োজনে চা স্বাদ নির্ণয় (টি টেস্টিং) ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ৬ দিনব্যাপী “টি টেস্টিং এন্ড কোয়ালিটি কনট্রোল প্রশিক্ষণ কোর্স ২০২৬ শুরু হয়েছে।
শনিবার(১৮ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় পিডিইউ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কোর্সের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ এসপিপি, এএফডব্লিউসি, এনডিপি, পিএসসি।
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন এক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. একেএম রফিকুল হক এবং বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জি এম শিবলী।
বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণে থাকবে প্রাক-মূল্যায়ন, উত্তর-মূল্যায়ন, কালো চায়ের অর্গানোলেপটিক চা আস্বাদন পদ্ধতি, অর্থোডক্স চায়ের অর্গানোলেপটিক চা আস্বাদন পদ্ধতি, সবুজ চায়ের অর্গানোলেপটিক চা আস্বাদন পদ্ধতি, সাদা চা, গোল্ডেন টিপস চা, সিলভার টিপস চা এবং উলং চায়ের অর্গানোলেপটিক চা আস্বাদন পদ্ধতি, আস্বাদন পরিভাষা, শুকনো পাতার রেটিং, ইনফিউজড পাতার শ্রেণীকরণ, লিকার গ্রেডিং, ষোলটি গুণগত বৈশিষ্ট্য, তৈরি চায়ের সাধারণ ত্রুটি, তৈরি চায়ের স্ট্যান্ডার্ড গ্রেড, চা বিপণন ব্যবস্থা, চা নিলাম ব্যবস্থা, চা আইন, ODTS দ্বারা নিয়মিত কাপের গুণমান মূল্যায়ন, ছাঁটাই, টিপিং, পাতা তোলা ইত্যাদির মতো কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ পাতা তোলার মান ও পাতা তোলার ব্যবধান, জাতের উন্নতির মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশীলতা ও গুণমানের উপর বিটিআরআই ক্লোনের ভূমিকা, মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, সার প্রয়োগ, ভারী ধাতু মুক্ত, তেজস্ক্রিয় পদার্থ মুক্ত এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণমুক্ত চা উৎপাদন কৌশল, রোগবালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, পোকামাকড় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ। ভারী ধাতু মুক্ত, তেজস্ক্রিয় পদার্থ মুক্ত এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণমুক্ত চা উৎপাদন, চা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাছাই এবং প্যাকিং এর মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, ছায়া ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, সুষম সার প্রয়োগ, কৃষিজাত জাত ব্যবহার, পাতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে গুণমান নিয়ন্ত্রণ, ব্যালোমেট্রিক কাউন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে ভালো পাতা এবং শক্ত পাতার শতাংশ গণনা, আর্টিজান চা, মূল্য সংযোজিত চা এবং বৈচিত্র্যময় চা পণ্য উৎপাদন। স্বল্প প্রক্রিয়াজাত চায়ের সুবিধাসমূহ, চা জৈব রসায়ন: চা জৈব রসায়ন, চা পরিসংখ্যান ও অর্থনীতি: উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করার কৌশল, বিসিআর, ইটিএল এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির স্তর ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ।
প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ৭০ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকা, পঞ্চগড় ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রতিনিধিরাও এতে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়াও চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক, টি মার্চেন্ট, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং চা বোর্ডের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা চা স্বাদ নির্ণয়, গুণগত মান যাচাই এবং আধুনিক মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করবেন। চা শিল্পের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।