

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলায় মাটির নিচে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভোটের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এ ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি নির্বাচনী সহিংসতা বা ভোটকেন্দ্র ঘিরে নাশকতার পূর্বপ্রস্তুতি?
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি ) সকালে শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের বালুন্ডা গ্রামে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন নূরজাক সরদারের ছেলে আব্দুল কাদের (৪২), আব্দুল বারিকের ছেলে জাকির হোসেন (৪৫) এবং সুলতান আউলিয়ার ছেলে আব্দুল কাদের (৪০)। তাঁদের মধ্যে জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ননী ঢালির ছেলে প্রবাসী জাকির ঢালির বাড়িতে বাথরুমের সেফটি ট্যাংকের জন্য গর্ত খননের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। এ সময় কোদালের আঘাতে মাটির নিচে আগে থেকে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাক্তার এস কে শরিফুল ইসলাম শাপলু জানান, সকালে বোমা বিস্ফোরণে দুই ব্যক্তি ভর্তি হয়েছেন। এদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও মুখে বোমার স্প্লিন্টার লেগেছে। আহতদের মধ্যে জাকির হোসেনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় ভীতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সালেহা বেগম বলেন, ভোটের আর এক সপ্তাহ বাকি। এখন যদি মাটির নিচে বোমা পাওয়া যায়, তাহলে ভোটের দিন কী পরিস্থিতি হবে—এটা ভেবেই মানুষ আতঙ্কিত। আরেক বাসিন্দা বিকাশ দত্ত বলেন, এই এলাকায় আগেও বোমা তৈরির ঘটনা ঘটেছে। এমন বিস্ফোরণ মানেই মানুষকে ভয় দেখানো। এটা নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার কোনো পরিকল্পনা কি না, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।
স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচন ঘিরে বালুন্ডা ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে। সম্প্রতি বোমা তৈরির সময় একজনের সহযোগীর হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান। এসব ঘটনায় সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের বিস্ফোরণ শুধু আইনশৃঙ্খলার ঘাটতি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত দেয়। অতীতে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের আগে সহিংসতার নজির থাকায় মানুষের সন্দেহ আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বোমাটি কারা পুঁতে রেখেছিল এবং এর পেছনে কোনো নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।