

যশোরে একদিনের ব্যবধানে দুইটি সহিংস ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে গুলি করে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যা করার পর আজ (রোববার) সকালে জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ এনাম সিদ্দিকির ওপর ছুরিকাঘাতের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। গুলিতে বেঁচে ফেরা এনাম সিদ্দিকির ওপর এই হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তার নিরাপত্তা এবং জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে এনাম সিদ্দিকির ওপর হামলা চালানো হয়। প্রতিদিনের মতো হাঁটাহাঁটির জন্য বাড়ি থেকে বের হলে এনায়েতপুর পীরবাড়ির সামনে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রথমে লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে, পরে ডান বুকে, বাম হাতের ডানা ও কাঁধে চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্র মল্লিক জানান, এনাম সিদ্দিকির শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। তবে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ায় তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত। এনাম সিদ্দিকি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত খন্দকার আমিনুল্লাহর ছেলে।
উল্লেখ্য, এনাম সিদ্দিকি এর আগেও জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তার ওপর প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনা এলাকায় নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, একবার গুলিতে বেঁচে যাওয়া একজন মানুষকে আবার এভাবে টার্গেট করা নিছক ঘটনা কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
এদিকে এই ঘটনার ঠিক আগের দিন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর যশোর শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৩)। মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন কিনি। তিনি সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
এনাম সিদ্দিকির ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তার নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহত এনামের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
একদিনের ব্যবধানে দুটি সহিংস ঘটনায় যশোরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এনাম সিদ্দিকির মতো একজন আগেও গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ওপর ফের হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, এনাম সিদ্দিকির ওপর ছুরিকাঘাত এবং বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ড দুটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্তে প্রশাসনিক অভিযান চলছে।