

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় আবারও ঝড়লো তিনটি প্রাণ!। হবিগঞ্জ জেলার নবীগন্জ উপজেলার দেওপাড়া এলাকায় সৌদিয়া বাসের চাপায় মা ও তার ছেলে নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মহাসড়কের হাফিজপুর এলাকায় ঢাকাগামি শ্যামলী বাসের চাপায় ভ্যান চালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নবীগঞ্জ দিনারপুর কলেজের সামনে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায় , সিলেট গামী সৌদিয়া পরিবহনের দ্রুতগতিতে আসা বাস (চট্ট-মেট্রো-১১-১০৭৪) একটি সিএনজিকে চাপা দিলে সিএনজি এর যাত্রী মা ও তার ছোট ছেলে নিহত হন। স্থানীয়রা জানান, বাসটি এত দ্রুতগতিতে ছিল যে চাপা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মা-ছেলের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন, শামীমা আক্তার (৪৫) স্বামী সৈয়দ আলী এবং তার শিশু পুত্র তোকি আহমেদ (৪)। তাদের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার সাগরদিঘীর পশ্চিম পাড় গ্রামে। জানা যায়, তারা আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরে বাড়ি যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে এবং ঘাতক বাস আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অপরদিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে বাহুবলের হাফিজপুর নামক স্থানে সকার ১০টায় ঢাকাগামি শ্যামলী পরিবহনের চাপায় ভ্যান চালক ফোরকান আলী গুরুতর আহত হলে, তাকে হবিগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ২টি জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।