শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন

মার্কিন-তুর্কি অ্যাক্টিভিস্ট আইগির মৃত্যুতে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্য অফিস
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৩০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) গুলিতে নিহত মার্কিন-তুর্কি অ্যাক্টিভিস্ট আইসেনুর এজগি আইগির মৃত্যুতে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন।

লন্ডনে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডে ‘মূলগত পরিবর্তন’ আনার আহ্বান জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় নিহত হন আইগি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

আইডিএফ জানায়, এজগি সম্ভবত আইডিএফের গুলিতে পরোক্ষভাবে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাদের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, গুলিটি সরাসরি তার দিকে চালানো হয়নি বরং একটি ‘সহিংস দাঙ্গার’ মূল প্ররোচনাকারীর দিকে চালানো হয়েছিল, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ ও টায়ার পুড়িয়েছিল। তবে ওই প্ররোচনাকারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

লন্ডনে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্লিঙ্কেন বলেন, এজগির হত্যাকাণ্ড ছিল ‘অপ্ররোচিত ওঅন্যায়’। কেউই কেবল মতামত প্রকাশের জন্য গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবে না। আরেকজন আমেরিকান নাগরিক ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের নিয়মে পরিবর্তন করতে হবে। আমরা ইসরায়েলি সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের কাছে এটি পরিষ্কার করে দেবো।

ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি বাহিনীর দ্বারা চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার প্রতি অবজ্ঞা ও অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

২৬ বছর বয়সী এজগি তুরস্কে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ফলে তিনি তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। পশ্চিম তীরে বিইতা গ্রামের কাছে একটি ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে একটি সাপ্তাহিক বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি মুভমেন্টের (আইএসএম) স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০০৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি বুলডোজার থামানোর চেষ্টা করার সময় নিহত মার্কিন অ্যাক্টিভিস্ট রাচেল করিরও এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আইডিএফ জানায়, সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (এমপিসিআইডি) ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের ফলাফল সামরিক আইনজীবী পর্যবেক্ষণ করবেন।

আইগির পরিবার ইসরায়েলকে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করেন যে, ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন তদন্ত যথেষ্ট হবে না।

গাজায় হামাসের নেতৃত্বাধীন ৭ অক্টোবরের আক্রমণের পর থেকে ইসরায়েলি সহিংসতা পশ্চিম তীরে ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি সেনা এবং বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৬৯২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৫৮ জন শিশু রয়েছে।

নিউজ/ যুক্তরাজ্য / কেএলি

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102