

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ৩ তরুণ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ ৬৪ জনের নামে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মো. সফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে মামলাটি গ্রহণ করেন। এ ছাড়া উক্ত ঘটনায় ইতোপূর্বে কোনো মামলা হয়েছে কী না তার অবস্থা জানাতে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়ে গৌরীপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।’
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ডৌহাখলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্মআহ্বায়ক আবদুর রহিম আকন্দ বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, সাবেক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোমনাথ সাহা, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ ৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে আরো ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত ২০ জুলাই জেলার গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতপাড়া এলাকায় চূড়ালি গ্রামের বিপ্লব হাসান (২০), নূরে আলম সিদ্দিকী ওরফে রাকিব (২০) ও জোবায়ের আহমেদ (২১) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিপ্লব কলতাপাড়া বাজার এলাকায় চূড়ালি গ্রামে বাসিন্দা ও স্থানীয় তেলের মিলের শ্রমিক, নূরে আলম সিদ্দিকী রামগোপালপুর ইউনিয়নের দামগাঁও গ্রামের ও মাদ্রাসা শিক্ষক এবং জোবায়ের মইলাকান্দা ইউনিয়নের পূর্ব কাউরাট গ্রামের শম্ভুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন।
সেদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধলে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই তিন তরুণ মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষী করে আদালতে মামলাটি করা হয়।
এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় গৌরীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল আলম বাদী হয়ে ২২ জুলাই থানায় একটি মামলা করেন। অজ্ঞাত পরিচয় ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলার ধারায় সেটি নথিভুক্ত হয়।
নিউজ /এমএসএম