

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতি সব ধরনের গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দেয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য প্রচারে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রিটকারী আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রুল ও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।
তিনি আদালতে বলেন, আমি আদালতে এই রিট মামলা আর চালাতে চাই না। এ সময় আদালতে তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, এ মামলাটি আজকের কার্যতালিকায় ছিল। এ দিন রিট পিটিশনার আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকা লিনা হাইকোর্টে এসে বলেছেন, এ রিট আর তিনি চালাতে চান না। এ কারণে এ রিট পিটিশনের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। আদালত বলেছেন, তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল আজ থেকে তার আর কোনো কার্যকারিতা নেই। অর্থাৎ তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে আর আইনগত কোনো বাধা নেই।
এর আগে, ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিটে বলা হয়, তারেক একজন ফেরারি আসামি। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে ও বেআইনিভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন। একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়। রিটে কোনো পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুনঃউৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরদিন ৭ জানুয়ারি রিটের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেকের বক্তব্য প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রুল জারি করেন।
রুলে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রচার নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, আইজিপি, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আদালতে সেদিন রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (প্রয়াত), অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট এস এম মুনীর, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম (তৎকালীন এমপি)।
নিউজ /এমএসএম