সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন

রংপুরে একদিনে ৩টি হত্যা মামলা, হাসিনাসহ আসামি ৭৮, অজ্ঞাত ৩৩৫

রংপুর প্রতিনিধি
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৪
  • ১৪৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সহিংসতায় নিহতের ঘটনায় রংপুরে পৃথক তিনটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক আইজিপি, বেরোবির শিক্ষক, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ নামীয় আসামির সংখ্যা ৭৮ জন। এতে অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) রংপুর অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে এই তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পারস্পারিক যোগসাজসে নির্দেশ দিয়ে গুলি করে আবু সাঈদকে হত্যার মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঠেকানোর চেষ্টা করে। গত ১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের সামনে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ।

RR

৩২ দিন পর আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমানসহ সাবেক রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ ১৭ জনকে আসামি করে তাজহাট মেট্রোপলিটন আমলি আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ৷

এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার এ এস আই আমীর আলী, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, কোতয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সহকারী কমিশনার মো. আল ইমরান হোসেন, উপপুলিশ কমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান রাসেল। এছাড়া অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে তাজহাট থানাকে মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী নিহত আবু সাঈদের ভাই রমজান আলী সাংবাদিকদের বলেন, ১৬ জুলাই পুলিশ নির্মমভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। শুরু থেকে মামলা করতে চাইলেও নানা কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।

একই দিনে ১৯ জুলাইয়ের সহিংসতায় শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তাহির নিহতের ঘটনায় বাবা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন কোতয়ালীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, রংপুর রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন, সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী মিলে ৪০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় আরও অজ্ঞাত ২০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে নিহত আব্দুল্লাহ আল তাহিরের বাবা আব্দুর রহমান বলেন, আমার নিষ্পাপ ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি ছেলে হত্যার সর্বোচ্চ বিচার চাই। যারা এই হত্যার সাথে জড়িত কেউ যেন ছাড় না পায়।

RR2

একই আদালতে ১৮ জুলাই পুলিশের গুলিতে ফল বিক্রেতা মেরাজুল ইসলামের নিহতের ঘটনায় মামলা করেন নিহতের মা আম্বিয়া খাতুন। মামলায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার পাল, সহকারী কমিশনার মো. আল ইমরান হোসেন, সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান ও তিনজন এস আইসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাকি আসামিরা সবাই রংপুর জেলা ও মহানগর  আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা।

মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে করার দাবি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এসএম মfহামুদুল হক সেলিম বলেন, সাবেক সরকার ও রংপুরের নেতৃত্ব পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতা ও পরামর্শে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জনকে আসামি করে আমরা মামলা দায়ের করেছি। আদালত সেটি আমলে নিয়েছেন। আমরা চাই নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে আদালত।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102