

কয়েক মাস অপেক্ষা, বিতর্ক এবং টেকসই প্রচারণার পর, প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ অবশেষে মঙ্গলবার তার জন্মস্থান যুক্তরাজ্যে প্রকাশ ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ১৯৯২ সালে হ্যারির মা প্রিন্সেস ডায়ানা ও অ্যান্ড্রু মর্টনের লেখা ‘ডায়ানা: হার ট্রু স্টোর ‘ পর থেকে সবচেয়ে বড় রাজকীয় বই এটি। যা ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য আরও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরীর আশঙ্কা জাগিয়েছে।
প্রকাশক সংস্থা পেঙ্গুইন জানিয়েছে, প্রিন্স হ্যারির লিখিত স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ মোট ১৬টি ভাষায় পাওয়া যাবে। এছাড়াও ইংরেজি ভাষার একটি অডিওবুক হিসাবেও পাওয়া যাবে। তবে ভুলবশত বইটির কিছু কপি স্পেনে বিক্রি হয়েছে, যার ফলে ব্যাপকভাবে বইয়ের তথ্য ফাঁস হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছে সংস্থাটি।
প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী ‘স্পেয়ার’ মঙ্গলবার প্রকাশ হলেও এটি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিতর্ক হচ্ছে। এছাড়াও বই প্রকাশের আগে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে রাজপরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রিন্স হ্যারি। যেখানে বাবা চার্লস ও ভাই প্রিন্স উইলিয়াম সর্ম্পকে আরও ভয়াবহ অভিযোগ করেন প্রিন্স হ্যারি।
নিজের আত্মজীবনীতে প্রিন্স হ্যারি লিখেছেন, তার বাবা কিং চার্লস তাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, কে বলতে পারে আমি তোমার সত্য়িকারের বাবা কিনা।
বইটিতে হ্যারি দাবি করেন, তার ভাই প্রিন্স উইলিয়াম তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছিলেন, যখন তারা হ্যারির স্ত্রী মেঘান সম্পর্কে তর্ক করেছিলেন।
স্পেয়ারে হ্যারির কাছ থেকে আরও একটি দাবি রয়েছে, যেখানে ১৯৯৭ সালে তার মা ডায়ানার প্রিন্সেস অফ ওয়েলসের মৃত্যুতে শুধুমাত্র একবার কেঁদেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি। হ্যারি জানান, যখন তার মাকে কবর দেয়া হচ্ছিল শুধুমাত্র সেসময়ই কেঁদেছিলেন তিনি।
আইটিভির সাক্ষাত্কারের প্রিন্স হ্যারি সেই দিনের কথা বর্ণনা করেছেন, কীভাবে তিনি এবং প্রিন্স উইলিয়াম জনসমক্ষে শোককারীদের সাথে দেখা করার সময় কোনও আবেগ দেখাতে অক্ষম ছিলেন।
এছাড়াও বইটিতে হ্যারি তার কুমারত্ব হারানোর বিবরণ, কিশোর বয়সে মাদক সেবনের স্বীকারোক্তি এবং আফগানিস্তানে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করার সময় ২৫ জনকে হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেন।সূত্র: বিবিসি, এএফপি
নিউজ/ যুক্তরাজ্য / কেএলি