

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বালুবোঝাই ট্রাক, মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে কুলাউড়ার প্রবাসী পরিবারের শিশুসহ নিহত ৫ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার বাদ আসর জানাজা শেষে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জে নিহতদের বাড়িতে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ মৃত্যুর খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বাড়িতে জড়ো হতে থাকে এলাকার লোকজন। স্বজনদের আহাজাড়িতে শোকে নিঃস্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
বাকি তিনটি লাশ কমলগঞ্জের ভেড়ারচর গ্রামে দাফন করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম (৩২), তার স্ত্রী সাদিয়া (২১) ও তাদের শিশুসন্তান হাবিবা (২)। তারা প্রবাসী রাজুর ভগ্নীপতি, বোন ও ভাগ্নি।
নিহতদের আত্মীয় আশরাফুল মামুন জানান, সকালে সাদিয়া (২১) ও শিশু হাবিবার (২) লাশ বাড়িতে এলে গোসল করিয়ে রাখা হয়। দাফনের জন্য অপেক্ষা করা হয় বাকি লাশগুলোর। দুপুরের পরে বাকি লাশগুলো এলে তাদেরকেও গোসল করিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের মাদানগর গ্রামে প্রবাসী রাজুর ছোট ভাই সিহাবের (১৩) জানাজা শেষে তার লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। একই উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গাড়িচালক সাদিরের (৩২) লাশও তার এলাকায় জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী রাজুকে ঢাকা বিমানন্দর থেকে মাইক্রোবাসযোগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বাড়িতে নিয়ে আসার সময় রাজু ও তার পরিবারের সদস্যরা মাধবপুরের নোয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছলে বিপরীতদিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাকের সাথে তাদের মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ রাজুর পরিবারের চার সদস্য ও মাইক্রোবাস চালক নিহত হন। এ সময় রাজু ও তার পিতাসহ ৩ জন গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, এ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন প্রবাসী রাজু (২৯), তার পিতা নুরুল ইসলাম (৫০) ও চাচাতো ভাই নিশাত (১৮)।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
নিউজ /এমএসএম