রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে মাজার জিয়ারতে প্রধানমন্ত্রী মব জাষ্টিস বন্ধ না হলে বাংলাদেশ জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিনত হতে পারে —ব্যারিস্টার সারা হোসেন মে দিবস উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যোগে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের ২০ বছর পূর্তি উদযাপিত বিএটি বাংলাদেশ পিএলসির ৫৩তম এজিএম অনুষ্ঠিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা জাতিসংঘে পার্বত্য চুক্তির অগ্রগতি উপস্থাপন সাধু বাবুর অভিনয়ে কুমিরের পিঠে দেশ

বিজয় দিবসের অঙ্গীকার

স্বাধীনতা বিরোধীদের নির্মুল করা

দেওয়ান রফিকুল হায়দার
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৩৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

লেখার শুরুতেই আমার সম্মানিত পাঠকদের প্রতি রইলো বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। বিজয় দিবস আমাদের জন্য গর্বের একটি দিন। এই দিনে আমরা ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে তাদের আত্মসমর্পনে বাধ্য করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছি, তাই এই দিনটি আমাদের কাছে আনন্দের এবং দু:খেরও। এই যুদ্ধ করতে গিয়ে আমরা হারিয়েছি দেশপ্রেমী অনেক মা, ভাই, বোন, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব। আমরা শহীদ মিনারে গিয়ে ফুলের তোড়া দিয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, মসজিদে, ঘরে বসে তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোয়া করি।

এই বিজয় অর্জন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় জেলে বন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী লাহোরে বিরোধী জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালী জাতির মুক্তি সনদ।

১লা মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় তাঁকে সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বারবার গ্রেফতার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আটবার গ্রেফতার হন। ৮ মে নারায়নগঞ্জ পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাঁকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬৮ সালে ৩ জানুয়ারী সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫জন বাঙালী সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে রাষ্টদ্রোহী হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেট থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক করে রাখা হয়।

১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারী ৬ দফা ও ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারী গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তি দান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারী জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ অন্যান্য আসামীকে দুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ”বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভুষিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু রেসকোর্সের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ’বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, ”একসময় এদেশের বুক হইতে , মানচিত্রের পৃষ্ঠা বইতে ”বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। …..একমাত্র ’বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ’বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। …..জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি-আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ’পূর্ব পাকিস্তান’-এর পরিবর্তে শুধুমাত্র ’বাংলাদেশ’।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলায় অনুবাদ হচ্ছে : এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ, তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্য্যন্ত দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্য্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।” এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ওয়্যারলেস, টেলিফোন ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রেরিত হয়। এর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাংলায় নিম্নলিখিত একটি বার্তা পাঠান: ”পাকিস্তানী সেনাবাহিনী অতর্কিত ভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমন করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছি।

আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভুমি মুক্ত করার জন্য শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রুকে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।’

২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আওয়ামী নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা পত্রটি পাঠ করেন। (তথ্য সংগ্রহ: শেখ মুজিবুর রহমান: অসমাপ্ত আত্মজীবনী থেকে) ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারী ৬ দফা ও ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়।

এই আন্দোলনে ছাত্রলীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এর (পরবর্তীতে ডাকসুর ভিপি) নেতৃত্বে বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। আমি তখন মৌলভী বাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে নিজের জীবনকে বাজি রেখে যে আন্দোলন করে দেশকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তার ঋণ আমরা কোনদিন শোধ করতে পারবো না।

১৬ই ডিসেম্বর পাকবাহিনীর আত্মসমর্পনের মাধমেই আমাদের পূর্ণ বিজয় পেয়েছি। এজন্য দিতে হয়েছে অনেক রক্ত, ইজ্জত হারাতে হয়েছে ৩০ লাখ মা-বোনকে। আজ যখন দেখি এই পাকবাহিনীর দোসরা এখনও বাংলাদেশের মাটিতে গর্জন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চেষ্টা করছে, তখন মনে হয় যেন এদের বিরুদ্ধে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ আমাদের করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করতে পারছে না স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত, বিএনপি চক্র।

এই বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ১০ই নভেম্বর বিএনপি ঢাকায় দলীয় সমাবেশের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ঘোষণা দেয়। সমাবেশে তারা জামায়াত’কে সাথে নিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে চেয়েছিলো কিন্তু সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে তাদের ঘোষণা ব্যর্থতায় পরিণত হয়।

আমাদের নওজোয়ান দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনী সহ সশস্ত্র বাহিনীর জোয়ানদের কড়া নজর রাখার কারণে তারা উশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করার সুযোগ পায়নি। এ দিন ঢাকার জনগণ রাস্তায় বের হয়নি। রাস্তাঘাট ছিলো নীরব। তার কারণ হচ্ছে, দেশের শান্তিপূর্ণ জনগণ কোন সময়ই বিশৃঙ্খলা চায় না, তারা চায় শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে। সুতরাং বলা যায়, জনগণ বিএনপি’র এই সমাবেশকে প্রত্যাখান করেছে।

এ দিকে বিএনপি এই সমাবেশে ব্যর্থ হয়ে অর্থাৎ সরকারতো উৎখাত করতেই পারেনি বরং তাদের ৭জন এমপি’ই এমপি পদ থেকে লজ্জায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তদের মধ্যে স্পীকারের কাছে সশরীরে পদত্যগপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। মোট ৭ জনের জমা দেয়া হলেও সশরীরে যাওয়া ৫ জনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হযেছে। বাকী দুইজন সংসদ সদস্যদের মধ্যে আব্দুস সাত্তার অসুস্থ থাকায় এবং হারুনুর রশিদ বিদেশ থাকায় আসতে পারেননি।

স্পীকার জানান, এরমধ্যে আব্দুস সাত্তার অসুস্থ থাকায় সংসদ সচিবালয় তার স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখবে ও কথা বলবে। সব ঠিক থাকলে তার আবেদনও গৃহীত হবে। তবে ই-মেইলের মাধ্যমে দেয়ায় হারুনুর রশিদের আবেদন গ্রহণ হবে না, তাকে পরে এসে জমা দিতে হবে।

এদিকে রুমিন ফারহানা বলেছেন, এই সংসদ অবৈধ তাই পদত্যাগ করেছি। এখন জনগণের প্রশ্ন, সংসদ যদি অবৈধ হয় তাহলে এই সংসদে তারা কেন যোগদান করলেন এবং সরকারের দেয়া সব ধরণের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেন? এদিকে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী মিলে তাদের ’ভাষায় গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে ও দেশব্যাপী যুগপৎ গণআন্দোলন গড়ে তুলতে ১০ দফা আমরা ঘোষণা করছি’।

এতদিন আমার ধারণা ছিল, যেহেতু জামায়াতে ইসলামী একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত দল, কাজেই তারা যে ভাবে বিএনপি’র সাথে গোপনে আঁতাত করে কাজ চালিযে যাচ্ছিলো সে ভাবেই যাবে। এখন বাস্তাবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি’কে সাথে নিয়েই জামায়াতে ইসলামী সরাসরি মাঠে নেমেছে। এখন শুধু আমার কাছে নয়, সারা দেশবাসীর কাছেই পরিস্কার হয়ে গেলো, বাংলাদেশে এখন দু’টো দল। একটি হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষের আর অন্যটি হচ্ছে স্বাধীনতার বিপক্ষের দল।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজকার আলবদর গঠন করে পাকিন্তানী হানাদার বাহিনীকে খুশী রাখার জন্য আমাদের মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছিলো, মুক্তি যোদ্ধাদের ধরিয়ে দেয়ার কাজ করেছিলো, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিলো, লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করিয়েছিলো সেই জামাতীদের সাথে বিএনপি হাত মিলিয়ে এক্ই সাথে ১০ দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেমেছে।

তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় শ্লোগান “জয় বাংলা’ শ্লোগানকে ধূলিস্যাৎ করে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান বাংলাদেশের মাটিতে বাস্তবায়িত করতে। ভাবতেও আশ্চর্য্য লাগে, তাদের এই সাহস দেখে।

তারা কি জানেনা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আপামর জনগন মুক্তিযুদ্ধ করে যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে দেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়বে।

তারা কি ভুলে গেছে, তাদের নেতাদের দেশদ্রোহিতার অভিযোগে এই শেখ হাসিনা তাদেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিলেন। তাদের ভুললে চলবে না বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা এখনও বেঁচে আছেন, তাদের নেতৃত্বে যদি জনগণ আবার অস্থ্র হাতে নিয়ে মাঠে নামে তাহলে স্বাধীনতা বিরোধীদের মূলোৎপাটন করতে সময় লাগবে না। সুতরাং সাবধান।

’বিএনপির ১০ দফা হলো সংবিধানের কবর দেয়া’ শিরোনামে জাসদ সভাপাতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপির ১০ দফা হলো সংবিধানের কবর দেয়া। ষড়যন্ত্র ও দূর্নীতিবাজ, চিহ্নিত জঙ্গী রাজাকারদের মুক্তি আবদারের দলিল। এই ১০ দফা মিথ্যার দলির, চক্রান্তের ও অপরাধীদের রক্ষার দলিল।
তিনি বিএনপির ১০ দফাকে প্রত্যাখান করে বলেন, এই ১০ দফা দিয়ে বিএনপি আরেকবার প্রমাণ করলো তারা দেশটাকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিতে চায়। অস্বাভাবিক সরকার গঠনের রাজনীতিতেই থেকে গেলো তারা। কোন আদালতই মানেন না তারা।

ইনু বলেন, বিএনপি যাদের আলেম বলছে তারা কেউই আলেম নন, আলেম হবার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা কারাগারে আছে তারা নারী ধর্ষণকারী, জঙ্গী সন্ত্রাসী, খুনি। অর্থ পাচার নিয়ে ১০ দফায় যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে তা হাস্যকর। কারণ তারা ক্ষমতায় থাকতে হাওয়া ভবন বানিয়ে অর্থ পাচার করেছেন তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই ফেরত এসেছে।
ইনু আরও বলেন, অথচ ১০ দফায় বৈশ্যিক সংকট নিয়ে কিছু বলেনি তারা। তাদের কাছে সবই সম্ভব, এতো সমালোচনার পরেও তাদের বগলে জামায়াত যুদ্ধাপরাধী। ”

গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ একটি রোড মডেল হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

বাংলাদেশে রাস্তাঘাট, সেতু নির্মাণ নির্মান করে যেমন যানবাহন চলাচলে সুবিধা করে দিচ্ছেন ঠিক তেমনি কৃষি বিপ্লবকে সফল করে তোলার জন্য কৃষি খাতের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন, যাতে দেশের মানুষের পেটে খাবার থাকে, না খেয়ে যেন মরতে হয় না। যে কোন একটা দেশের উন্নয়নের মূল অবকাঠামোই হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর চট্টগ্রামের টানেলের কাজও শেষ হয়ে গেছে, আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই এর উদ্বোধন হবে। তাহলে চট্টগ্রামের সাথে ঢাকা সহ অন্যান্য জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে, ব্যবসা বনিজ্যের প্রসার ঘটবে সারা দেশে। দেশের মানুষ আর গরীব থাকবে না। বিভিন্ন ধরণের কাজ করার সুযোগ হবে, ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, কেউ আর বেকার থাকবে না। একটা সুখী সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী দলকে শক্তি এবং সাহস যোগাচ্ছে আমেরিকা। যে আমেরিকা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিলো। সেই মুক্তি যুদ্ধের সময় থেকেই আমেরিকা বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার এবং চেষ্টা চালিয়েছিলো যাতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ না করে। এ সময় তারা সেই জামায়াতে ইসলামী দলকে দিয়ে যুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন অপকর্ম করিয়েছে। আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশের উপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আমেরিকা আবারও জামায়াতে ইসলামীকে ব্যবহার করছে।

আমার লেখার উপরের অংশটুকু লেখার উদ্দেশ্যই হলো, বাংলাদেশ কি ভাবে স্বাধীন হয়েছে তার একটু ইঙ্গিত দিয়েছি এ কারণেই যে, যারা বিএনপি নামক দলটি করছে, আমার জানামতে তাদের অধিকাংশ কর্মী এবং নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস জানেনা। বিভিন্ন দল থেকে আনা নেতাদের নিয়ে গড়া বিএনপি’র এসব নেতৃবৃন্দ গদিতে যাওয়ার জন্য নিজেদের স্বার্থে ভুল তথ্য দিয়ে এবং দলে বড় পদের লোভ দেখিয়ে তাদের দলে ভিড়িয়েছেন। তবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, পাকিস্তান হানাদার বাহিনী যে ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, ঠিক সে ভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদেরও একদিন স্বাধীনতার পক্ষের সৈনিকদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

লেখকঃ দেওয়ান রফিকুল হায়দার ফয়ছল , কলামিষ্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্নাব

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102