

আদালত রির্পোটার: দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় একটি মামলায় কর্নেল (অব.) মো. শহিদ উদ্দিন খানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার শেষে আজ মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাজিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে একইসঙ্গে আদালত আসামি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে তার আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রফিকুল হক বেনু। দুদকের আরেক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, আদালত মামলাটি মাত্র চার কার্যদিবসে বিচার শেষ করে রায় দিয়েছেন। মামলাটিতে আদালত গত ৮ আগস্ট চার্জগঠনের পর গত ২৩ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২ কার্যদিবসে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় কর্নেল (অব.) শহিদ উদ্দিন খান, তার মিসেস ফারজানা আনজুম খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর একই বছর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় কর্নেল (অব.) শহীদ উদ্দিন খানের নয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি কর্নেল মো. শহিদ উদ্দিন খানকে ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনীতে ৮ম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদি কোর্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে মোসাম্মৎ ফারজানা আঞ্জুমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার শেহতাজ মানসী খান ও ফারিসা পিনহাজ খান নামের দুই কন্যা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। রাজধানীর বারিধারা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে, যার মূল্য কম-বেশি মোট ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
তাছাড়া তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। স্ত্রী-কন্যার নামে ঢাকাস্থ প্রচ্ছায়া লিমিটেডের নামীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শেয়ার ১০০/-হিসাবে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ শেয়ার এবং কুমিল্লায় কোটি টাকা মূল্যের বন্দীশাহী কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। লন্ডনেও তাদের নামে জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাইপ্রাসেও ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে।
কর্নেল (অব.) শহিদের সহোদর ভাই মোহাম্মাদ আলী খানের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইস্থ ব্যাংকে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার দিরহাম জমা ছিল। যা জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা যায় যে, শহিদ উদ্দিন খানের নিজ নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে কম-বেশি ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করাসহ বিদেশে তাদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে অস্বাভাবিক।
অর্থাৎ তার বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। সে কারণে তাকে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আসামি সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ মামলাটি দাখিল করেন। মামলায় একই কর্মকর্তা তদন্ত করে গত বছর ১৪ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম