

যুক্তরাজ্য অফিস: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বক্তব্য দিয়েছেন লিজ ট্রাস। বক্তব্যে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। ট্রাস জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অর্থনীতি, জ্বালানি ও স্বাস্থ্য-এ তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন তিনি।
ট্রাস জানান, অর্থনীতিকে আরও বড় করে তোলা, বর্তমান জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান ও জাতীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়া তার প্রধান তিনটি কাজ।
কর কমানোর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনকে আবার সক্রিয় করে তুলব।’
নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নাগরিকদের জন্য উচ্চ বেতনের চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘সেই লক্ষ্যে আমি আজ থেকেই পদক্ষেপ নেব।’
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ব্রিটেন তার বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।
মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার বিষয়েও জোর দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ট্রাস। তিনি বলেন, ‘বিদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসল প্রাসাদে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ট্রাস। এরপরই লন্ডনে ফিরে আসেন তিনি। পরে ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে বক্তব্য দেন।
বক্তব্যের শুরুতেই সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ট্রাস। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস তাকে একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণ করবে।’
কয়েক সপ্তাহের নেতৃত্বের লড়াই শেষে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান নির্বাচিত হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। একদিন পরই দায়িত্বগ্রহণের জন্য স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে যান লিজ ট্রাস।
এদিন প্রথমে বালমোরাল প্রাসাদে আসেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সেখানে রানির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পেশ করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই প্রাসাদে পৌঁছান লিজ ট্রাস। দেখা করেন রানির সঙ্গে। এ সময় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দেন রানি।
বাকিংহাম প্যালেসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে রানি লিজ ট্রাসের বক্তব্য শুনেছেন এবং তাকে নতুন সরকার গঠনের অনুরোধ করেছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ট্রাস রানির এ প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি রানির হাতে চুমু দিয়েছেন।
এনিয়ে ৭০ বছরের রাজত্বকালে মোট ১৫ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিলেন ৯৬ বছর বয়সী রানি। ট্রাসের আগের সব প্রধানমন্ত্রীর বেলায় নিয়োগ ও পদত্যাগ সম্পন্ন হয়েছে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে। তবে দীর্ঘদিনের সেই প্রথা ভেঙে এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও নিয়োগ সম্পন্ন হলো বালমোরাল প্রাসাদে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, খুব শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করবেন ট্রাস। দলের অনুগত এমপিদের নিয়েই নিজের মন্ত্রিসভা সাজাবেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনমতে, ট্রাস জেমস ক্লেভারলিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করতে পারেন। ক্লেভারলি বর্তমানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সুয়েলা ব্রাভারম্যান ও কোয়াসি কোয়ার্টেংকে যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী নিয়োগ করা হতে পারে।
অক্সফোর্ডের মেরটন কলেজে পড়াশোনা করেছেন ট্রাস। সেসময় লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের প্রেসিডেন্ট ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট যুব ও ছাত্রদের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন লিজ ট্রাস। তবে ১৯৯৬ সালে স্নাতক হওয়ার পর যোগ দেন কনজারভেটিভ পার্টিতে।
২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন লিজ ট্রাস। নির্বাচিত হয়েই শিশুযত্ন, গণিত শিক্ষা এবং অর্থনীতিসহ দেশের বেশ কয়েকটি নীতির ক্ষেত্রে সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় আসেন।
এরপর ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী এবং ২০২১ সাল থেকে কমনওয়েলথ, উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাস। অর্থনৈতিকভাবে নব্য উদারনীতি ও সামাজিকভাবে রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গির ধারক ৪৭ বছর বয়সী লিজ ট্রাস ব্রিটেনের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।
ইউকেবিডিটিভি/ যুক্তরাজ্য / কেএলি