

অর্থনৈতিক রিপোর্টার: ব্যবসা ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতেই মহামারীর অভিঘাত প্রকট। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরে (২০২১-২২) ব্যবসায়ীদের করের বোঝা লাঘবের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজই জাতীয় সংসদে এ ঘোষণাসংবলিত বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করতে যাচ্ছেন। ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার এ বাজেট প্রস্তাবে করপোরেটসহ ব্যবসায়িক অনেক ক্ষেত্রেই করহার কমানোর ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি বাজেট প্রস্তাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা আসারও কথা রয়েছে।চলতি অর্থবছরের (২০২০-২১) বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয়ের পরিমাণ রাখা হয়েছে ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মহামারী পরিস্থিতিতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে।শুল্ক-কর ও ভ্যাট অপরিবর্তিত রাখায় আগামী অর্থবছর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে না। এদিকে অধিক ব্যবহূত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি আমদানিতে রাজস্ব মওকুফ সুবিধা দিয়ে দাম কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া আজকের বাজেট প্রস্তাবে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ‘বিশেষ সুযোগও’ থাকছে না। তবে আগের মতো নির্ধারিত করের অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে বৈধ করার পদ্ধতি বহাল থাকছে।জাতীয় সংসদে আজ বেলা ৩টায় এ বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটের শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’।বাজেট প্রণয়নসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এনবিআর ও অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত প্রাক-বাজেট বৈঠকগুলোয় ব্যবসায়ীরা নতুন অর্থবছরে ভ্যাট ও শুল্ক-করে বড় ধরনের ছাড় চেয়েছেন। একই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন রফতানিমুখী ও আমদানি বিকল্প শিল্প খাতগুলোর বাড়তি প্রণোদনা অব্যাহত রাখার। আগামী অর্থবছরের বাজেটে নতুন করে কোনো প্রণোদনা না থাকলেও ভ্যাট ও করে ছাড় দেয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য কভিডের অভিঘাত মোকাবেলার কাজটি সহজ করে দিতে যাচ্ছে সরকার।এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইউকেবিডি টিভিকে বলেন, সংগত কারণেই আগামী বাজেটে প্রাধিকার পাবে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। পাশাপাশি কৃষি খাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থানকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এজন্য বাজেটে দেশী শিল্পের সুরক্ষায় নেয়া পদক্ষেপ থাকছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পুনরুদ্ধারসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেরও প্রতিফলন থাকছে বাজেটে।এনবিআর-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, সরবরাহ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে পুঁজিবাজারের তালিকাবহির্ভূত প্রতিষ্ঠানের করপোরেট করহার ২ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট (সাড়ে ৩২ শতাংশের ওপর) কমানো হতে পারে। এছাড়া নতুন বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধ করা, কোম্পানি সম্প্রসারণ ও এফডিআই আকর্ষণের জন্যও করপোরেট করে ছাড় দেয়ার পরিকল্পনা করেছে এনবিআর। এর বাইরেও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকে করপোরেট কর কমানোর দাবি উঠেছে। এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটে ছয় বছর পর করহার আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে আজ উত্থাপন হতে যাওয়া বাজেটে তা আরো আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।বিদ্যমান কর কাঠামো অনুযায়ী, করপোরেট করের স্তর আটটি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে ২৫ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৩২ দশমিক ৫, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া নতুন ব্যাংককে ৩৭ দশমিক ৫, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংককে ৪০, মার্চেন্ট ব্যাংককে ৩৭ দশমিক ৫০, সিগারেট-জর্দা-গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে ৪৫, তালিকাভুক্ত মোবাইল কোম্পানিকে ৪০ ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিকে ৪৫ ও লভ্যাংশ আয়ের ওপর ২০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দিতে হয়। এর বাইরে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানকে ১০ ও ১২ শতাংশ এবং সমবায় প্রতিষ্ঠানকে ১৫ শতাংশ হারে করপোরেট কর পরিশোধ করতে হয়।এনবিআরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বারধারী (টিআইএন) কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই রিটার্ন জমা দেয়। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) এ খাত থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এ হার কমানোর ফলে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব কিছুটা কমলেও বিনিয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ইউকে বিডি টিভিকে বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করপোরেট ট্যাক্স অনেক বেশি। সুতরাং করপোরেট ট্যাক্স কমাতে হবে। আগামী বাজেটে কমানোর যে উদ্যোগ, এটা অবশ্যই ইতিবাচক। ট্যাক্স কমলে ব্যবসায় কিছুটা গতি আসবে। আমরা চাই যিনি কর দিচ্ছেন তার ওপর যাতে আর কর চাপানো না হয়। আমরা সবসময়ই বলেছি, করের আওতা বাড়িয়ে করহার কমাতে হবে।এদিকে বিদ্যমান ভ্যাট আইনটিকে আরো ব্যবসাবান্ধব ও যুগোপযোগী করতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাটের আগাম কর (এটি) হার কমানো হচ্ছে। ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদ দুটোতেই ছাড় দেয়া হচ্ছে। আগাম করহার ৪ থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৩ শতাংশে। ভ্যাট ফাঁকির জরিমানা ও সরল সুদহার দুটোকেই বাণিজ্য সহায়ক করতে যৌক্তিক করা হচ্ছে। বর্তমানে ফাঁকি দেয়া ভ্যাটের দ্বিগুণ জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এটি কমিয়ে ভ্যাট ফাঁকির সমপরিমাণ জরিমানার বিধান করা হচ্ছে। এছাড়া সময়মতো ভ্যাট না দিলে ভ্যাট আইন অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে সরল সুদের বিধান রয়েছে। আজকের বাজেটে তা ১ শতাংশ করা হচ্ছে।বাজেটে হোম অ্যাপ্লায়েন্স সামগ্রী ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যকে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আরো উৎপাদনমুখী করতে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে। এয়ারকন্ডিশন ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। কৃষি আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে সিগারেটে নকল-জাল ও পুনর্ব্যবহূত ব্যান্ডরোল ব্যবহার বা ব্যবহারে সহায়তা করলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্যাট বিভাগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করে ‘ভ্যাট আইন’ সংশোধন করা হচ্ছে। বাজেটে ভ্যাট আদায় বাড়াতে মূলত মনিটরিংয়েই জোর দেয়া হচ্ছে বেশি।করোনাকালে পাইকারি ব্যবসায়ী, পণ্য পরিবেশক, ব্যক্তিমালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটরশিপ) প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুবিধা দিতে বাজেটে ন্যূনতম আয়কর হার কমানো হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক লেনদেনের ওপর ন্যূনতম কর আরোপ করা হয়। সে সময় ব্যবসায় লাভ বা লোকসান যা-ই হোক, ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়। বর্তমানে যেসব ব্যবসায়ে বছরে ৩ কোটি টাকা বা এর বেশি পণ্য বিক্রি হয়, তার ওপর দশমিক ৫০ শতাংশ ন্যূনতম আয়কর আদায় করা হয়। তবে পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পের ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরুর পরবর্তী প্রথম তিন বছর ন্যূনতম করহার দশমিক ১০ শতাংশ। আগামী বাজেটে শুধু ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম করহার দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।বর্তমানে বার্ষিক ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভারধারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আসন্ন বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এ টার্নওভারে ছাড় দেয়া হচ্ছে। নারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য এ সীমা করা হচ্ছে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত।তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূলধারায় আনতেও বাজেটে করছাড় দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাজেট ঘোষণা কার্যকরের মুহূর্ত থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা অফিসে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে চাকরি দিলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ করছাড় পাবে। এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুবিধা দিয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম রয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানে মোট জনবলের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী নিয়োগ দেয়া হলে প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়। আগামী অর্থবছরে তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই রকম সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বছরের পুরো সময় মোট জনবলের ১০ শতাংশ বা শতাধিক তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের চাকরি দিলে প্রদেয় করের ওপর রেয়াত পাবে ৫ শতাংশ।আগামী বাজেট প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, পুঁজিবাজারের তালিকাবহির্ভূত কোম্পানিগুলোর জন্য যে করের হার সেটা অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। এক্ষেত্রে কমানো যেতে পারে। তবে শুধু কর কমালেই যে বিনিয়োগ বাড়বে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ব্যবসা সহজীকরণ সূচক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের সহজলভ্যতার বিষয়গুলোয় যে ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো না মেটাতে পারলে বিনিয়োগ বাড়বে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের নেই।এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসন্ন বাজেটে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১৬ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। আমদানি ও অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও ভর্তুকি বাবদ এ অর্থ ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় আগামীটিতে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে পৌনে তিনশ কোটি টাকা। সংগ্রহকৃত খাদ্যশস্যের বড় একটি অংশ বিতরণ করা হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে। খাদ্য সংগ্রহ, পরিচালনা ও উন্নয়ন ব্যয়সহ আগামী বাজেটে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ থাকছে ১৯ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৬৭৯ কোটি টাকা ও পরিচালন খাতে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলতে আগামী অর্থবছরে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৩ লাখ টন। এর মধ্যে চাল ও গম সংগ্রহ করা হবে যথাক্রমে প্রায় ২৬ ও ৭ লাখ টন। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে খাদ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২৪ লাখ ৫৫ হাজার টন।আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বরাদ্দ রাখা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা, যা সম্ভাব্য বাজেটের জিডিপির ৩ শতাংশ। চলতি বাজেটের আওতায় ৩০টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় মোট প্রায় ৮৬ লাখ উপকারভোগী উপকার গ্রহণ করছে। আগামী বাজেটে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার ‘বিশেষ সুযোগ’ থাকছে না। তবে আগের মতো নির্ধারিত করের অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার পদ্ধতি বহাল থাকছে। অর্থনীতিবিদ, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। চলতি বাজেটে বিশেষ ‘সুযোগ হিসেবে’ ১০ শতাংশ কর দিয়ে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগ, নগদ অর্থ, স্থায়ী আমানত, জমি-ফ্ল্যাট রিটার্নে দেখানোর সুযোগ দেয়া হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুযোগ রয়েছে। সে সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৩৩ জন অবৈধ অর্থ বৈধ করেছেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ অর্থকে মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে এক বছরের জন্য এ বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এর সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। কারণ দেশে ব্যক্তি শ্রেণীর সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ। এ সুযোগ অব্যাহত রাখা হলে করদাতারা নিয়মিত কর না দিয়ে তা লুকিয়ে রেখে পরবর্তীকালে কম হারে কর দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এ পদ্ধতি চালু রাখলে সৎ ও নিয়মিত করদাতাদের নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিশেষ বিধান বাতিল করে আগের সব পদ্ধতি বহাল রাখা হচ্ছে। সংগৃহীত: বণিক বার্তা