শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ যুবক আটক দেশ রক্ষায় প্রগতিশীল সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ -মহিবুল হাসান চৌধুরী আহলে সুন্নাত এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান শিক্ষিকার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বিমানের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্রীড়া সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠিত ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে প্রধান শিক্ষক জহির আলী লন্ডনে চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত লন্ডনে এস৯ ফিল্মস টেপ বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নতুন ধরন ‘ভয়াবহ’ত, দ. আফ্রিকার সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করছে বহু দেশ

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২১
  • ২৯৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় আবিষ্কার হওয়া করোনা ভাইরাসের নতুন ধরনটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার এ ধরন মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনটির খবরে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশ তাদের যোগাযোগ বন্ধ করেছে। 

ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও জাপান দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর আশাপাশে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের এ ধরনটি ব্যাপকভাবে মিউটেট (আচরণ পরিবর্তন) করেছে। এ ধরনের নাম এখনও ঠিক করা হয়নি। তবে আপাতত এটিকে বি.১.১.৫২৯ নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে দ্রুতই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটির গ্রীক নাম (আলফা, ডেল্টা) নির্দিষ্ট করবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি প্রদেশে কিছু সংখ্যক মানুষ এ ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাস্তবে এটি আরও ছড়িয়ে গেছে।

এ ধরনের (ভ্যারিয়েন্ট) সংক্রমণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্য আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি দেশ- দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো, এসওয়াতিনি- থেকে সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।

এটি কতটা দ্রুত ছড়াতে পারে, প্রচলিত টিকার মাধ্যমে এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ থেকে কতটা রক্ষা পাওয়া সম্ভব এবং এই ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা পেতে কী করা যেতে পারে- তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

কী জানা যাচ্ছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে? যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের সংক্রামক রোগ বিষয়ক সংস্থা ইমপেরিয়াল ডিপার্টমেন্ট অব ইনফেকশাস ডিজিজের একজন ভাইরোলজিস্ট নতুন এ ধরনকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে খারাপ ধরণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকংয়ে মোট ৫৯ জন বি.১.১.৫২৯ দ্বারা সংক্রমিত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলছেন, এ ধরন ‘মিউটেশনের ধারা অস্বাভাবিক’ এবং অন্যান্য ভ্যারিয়েন্ট থেকে এটি ‘অনেক ভিন্ন।’ তিনি বলেন, ‘এ ভ্যারিয়েন্ট আমাদের অবাক করেছে। বিবর্তনের হিসেবে এবং পরবর্তী মিউটেশনের হিসেব করলে এটি কয়েক ধাপ লাফ দিয়েছে।’

এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক অলিভিয়েরা বলেন, সব মিলিয়ে ৫০টি মিউটেশন রয়েছে যার মধ্যে ৩০টি মিউটেশেনই স্পাইক প্রোটিনে। অধিকাংশ টিকাই স্পাইক প্রোটিনের এ ধরনগুলোকে আক্রমণ করে।

ভাইরাসের যে অংশটি- রিসিপটর বাইন্ডিং ডোমেইন- আমাদের শরীরের কোষের সাথে প্রথম সংযোগ ঘটায়, নতুন ভ্যারিয়েন্টে সেটির ১০টি মিউটেশন রয়েছে। ভয়াবহ ক্ষতিকর হিসেবে আলোড়ন তৈরি করা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে এ মিউটেশন ছিল মাত্র দুটি।

অনেকগুলো মিউটেশন থাকা মানেই যে তা ক্ষতিকর, তা নয়। কিন্তু মিউটেশনগুলো আসলে কী ক্ষতি করছে- তা জানা জরুরি। চিন্তার বিষয় হলো, চীনের উহানে উদ্ভূত ধরণের চেয়ে এটি অনেক ভিন্ন।

এর অর্থ হলো, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে তৈরি হওয়া টিকা- যেগুলো মূল ধরণটি ব্যবহার করে বানানো হয়েছিল- নতুন ধরণের জন্য সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে।

অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের সাথে এর পার্থক্য? এ ভ্যারিয়েন্টটিতে দেখা যাওয়া কয়েকটি মিউটেশন এর আগে অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।

যেমন, এন৫০১ওয়াই করোনা ভাইরাসকে সহজে সংক্রমিত হতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়। নতুন ভ্যারিয়েন্টে আরও কিছু মিউটেশন রয়েছে, যার ফলে শরীরের অ্যান্টিবডি ভাইরাসকে শনাক্ত করতে পারে না এবং ভ্যাকসিনকে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর করতে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলেন, ‘মিউটেশনগুলো ভাইরাসকে সংক্রমণে, এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী করেছে বলে আশঙ্কা করছি আমরা। ইমিউন সিস্টেমের বিভিন্ন অংশকে পাশ কাটিয়ে শরীরে প্রবেশ করার সক্ষমতাও থাকতে পারে এগুলোর।’

এর আগেও করোনা ভাইরাসের নতুন আবিষ্কৃত হওয়া ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে আতঙ্ক শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এ বছরের শুরুতে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক তৈরি করেছিল বেটা ভ্যারিয়েন্ট। কারণ, ইমিউন সিস্টেমকে পাশ কাটিয়ে শরীরে প্রবেশ করার সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ছিল এ ভ্যারিয়েন্টের। কিন্তু পরবর্তীতে দ্রুত সংক্রমিত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি ভয়াবহ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাভি গুপ্তা বলেন, ‘বেটা শুধু ইমিউন সিস্টেমকে ফাঁকি দিতো, আর কিছু না। ডেল্টার সংক্রমণের ক্ষমতা ছিল বেশি। নতুন ভ্যারিয়ন্টের এ দুই ধরণের ক্ষতি করারই সামর্থ্য রয়েছে।’

ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় গবেষণার মাধ্যমে নতুন এ ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে। কিন্তু প্রকৃতিতে এই ভাইরাস কেমন আচরণ করে, তা পর্যবেক্ষণ করলে আরও দ্রুত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

দক্ষিণ আফ্রিকার গওতেং প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৭৭ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে এ ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া বতসোয়ানায় চার জন এবং হংকংয়ে একজন এ ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হয়েছেন।

পরীক্ষায় এই ভ্যারিয়েন্টটি কিছুটা অদ্ভুত ফল দেয় (এস-জিন ড্রপ আউট নামে পরিচিত) এবং তার মাধ্যমে এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের ধারা অনুসরণ করা সম্ভব।

তাই ধারণা করা হচ্ছে, গওতেং প্রদেশের ৯০ শতাংশ ঘটনাই আসলে এ ভ্যারিয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ‘অধিকাংশ প্রদেশেই এর উপস্থিতি রয়েছে’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে এখনো ধারণা দেয়া যাচ্ছে না যে ভ্যারিয়েন্টটি ডেল্টার চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়াবে কিনা বা এটি ভ্যাকসিনের মাধ্যমে পাওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতার বিরুদ্ধে কার্যকর কিনা।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102