

বিলেতের বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সেতুবন্ধন রচনা করে এই বহুজাতিক সমাজে বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারকে আরো বেগবান করতে ২০০৯ সালে গঠিত হয় সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মাথায় ২০১০ সালে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে আয়োজন করা হয় তিন দিনব্যাপী প্রথম বাংলা একাডেমি বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব। তখন থেকে শুরু হয় লন্ডনে বই মেলার।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩ টায় মাইল এন্ড পার্ক এর দ্য আর্ট প্যাভিলিয়ন সেন্টারে ২০২৪ সালের দ্বাদশ বাংলাদেশ বইমেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হেমলেটস এর স্পিকার সাইফ উদ্দিন খালেদ, বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি শামিমা আজাদ সহ লন্ডন এবং অন্যান্য দেশের বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক এবং গুণীজনরা।
দুইদিন ব্যাপী বইমেলায় ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লেখক-সাংবাদিক, পাঠক এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি মেলাতে প্রাণবন্ত করে তুলে।
বইমেলা একটি জাতির কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং সেই জাতিকে করে সম্মানিত। নানান প্রতিকূলতার মুখে বিদেশের মাটিতে যারা এ আয়োজন করেন তাদেরকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ তারা মহতী কাজ করে যাচ্ছেন। এবারের মেলায় মোট ১২ টি বইয়ের স্টল রয়েছে। এখানে সব বয়সের মানুষের সমাগম ঘটেছে। কেউ বই কিনছেন, কেউ নাচ দেখছেন, কেউ বা কবিতা আবৃত্তি শুনছেন, কেউবা আবার স্বরচিত কবিতা পাঠ করছেন । সব মিলিয়ে মেলা একটি উৎসবে পরিণত হয়।
মেলার প্রথম দিনে, আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা পদক, নগদ অর্থ ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরীছ বন্যা এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের স্পিকার ব্যারিস্টার সাইফুদ্দিন খালেদ।
দুদিন ব্যাপী বইমেলার বিভিন্ন আলোচনা সভায় সংগঠনের সভাপতি কবি ময়নুর রহমান বাবুল বলেন, নিষিদ্ধ জামায়াত শিবিরকে খুনি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেছে এবং রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে। জামায়াত ইসলামের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগে দুইবার নিষিদ্ধ হয়েছিল সংগঠনটি। স্বাধীনতার আগে পাকিস্তান সরকার তাদের নিষিদ্ধ করেছিল। এখন বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য এই জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই নিষিদ্ধ দলের সাথে যারা সম্পৃক্ত জঙ্গিবাদী তাদের আইনের শাসন রক্ষার জন্য সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে। এটি না করলে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যাবে না।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি একেএম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিনাশী, মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক জামায়াত-শিবিরচক্রের সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের জন্য এ দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ দীর্ঘকাল আন্দোলন করছে। বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। জামায়াত-শিবিরের সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসের রাজনীতি আমাদের জননিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ হুমকি হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিসহ এই দলের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের ঘোষণা নিঃসন্দেহে সময়ের দাবি।
একেএম আব্দুল্লাহ আরো বলেন, আমরা গত দুবার আমাদের মেলায় বঙ্গবন্ধু কর্নার করেছিলাম। এবছর সেটি করতে পারিনি বলে একটা কষ্ট অনুভব করছি। তবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের লেখক-সাংবাদিক, পাঠকদের উপস্থিতি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ।
বাংলা একাডেমির পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি কবি ফারুক আহমদ বলেন, প্রবাসীরা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আগামীমতে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের ডাক এই লন্ডন থেকেই শুরু হবে। এখানে পাকিস্তানের দোসরদের কোন স্থান নেই।
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌছ সুলতান বলেন, বাংলাদেশ বার বার মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আক্রান্ত হয়েছে। জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্ত কোন কিছুই স্থায়ী হয়নি। বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আর এজন্য সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী বলেন, লন্ডন লেখক সাংবাদিকরা জামাত শিবিরের রক্তাক্ত হাতকে প্রতিহত করতে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ আজ আক্রান্ত। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা এবং তার পরিবারকে হত্যা করে স্বাধীন দেশকে যেভাবে ধ্বংস করার স্বপ্ন দেখেছিল জামায়াত শিবির, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সেই স্বপ্ন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের লেখক-সাংবাদিকরা মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এদের প্রতিহত করতে হবে।
বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা ও লেখক সাংবাদিক শেবুল চৌধুরী বলেন, দেশ ও দেশের পতাকা, মানচিত্র কিংবা আমাদের আত্ম পরিচয়কে যখন ধরে শকুন, তখন আমরা আরো দ্বিগুণ শক্তিতে আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির প্রচার প্রসারে এগিয়ে আসি।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা হিমাংশু গোস্বামী, কবি আবু মকসুদ, আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা ও সাংবাদিক সুজাত মনসুর, কবি মিল্টন রহমান, কবি ফারুক আহমদ রনি প্রমুখ।