বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ন

‘হাই-প্রোফাইল’ রাজনীতিবিদদের শেষ ঠাঁই যে দেশ

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১
  • ২৬০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলতি সপ্তাহের শুরুতে তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব-আমিরাতে আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি। এরপরই ‘হাই-প্রোফাইল’ রাজনীতিবিদদের শেষ ঠাঁই হিসেবে পরিচিত আমিরাত ফের আলোচনার চর্চা হয়ে ওঠে।

এখন পর্যন্ত দেশটিতে বিশ্বের অনেক দেশের রাজনীতিবিদরা আশ্রয় নিয়ে দিনপাতিত করছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত- দেশটিতে আশ্রয় নেয়া হাই-প্রোফাইল রাজনীতিবিদ আফগানিস্তানের উৎখাত হওয়া প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি।

আমিরাতে আশ্রয় নেওয়া কিছু প্রাক্তন বিশ্বনেতাকে নিয়ে ছোট্ট লেখনী

আশরাফ গানি

তালেবান কাবুল দখল করার পরই প্রতিবেশি দেশ তাজিকিস্তানে পালিয়ে যান আশরাফ গানি। পরে অবশ্য কিছু গণমাধ্যম দাবি করে, তাজিকিস্তান অনুমতি না দেওয়ায় ওমানে চলে গেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট। এরপর তিনি কোথায় আছেন, এ নিয়ে নানা বরাতে ভিন্ন ভিন্ন দেশের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়।

আশরাফ গানি

সকল ধোঁয়াশা কাটিয়ে ১৮ আগস্ট নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে আশরাফ গনি জানান তিনি আরব আমিরাতে আশ্রয় নিয়েছেন। আমিরাত এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবিক কারণে আশরাফ গানি ও তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।

পারভেজ মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০০৮ সালে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর মোশাররফ যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে যান।

পারভেজ মোশাররফ

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পাকিস্তান ফিরলে তাকে বেনজির ভুট্টোর হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। চিকিৎসার জন্য ২০১৬ সালে তাকে দুবাই যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়৷ বর্তমানে দুবাইতে বসবাস করছেন তিনি। 

বেনজির ভুট্টো

দীর্ঘদিন দুবাইতে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীত্বের দ্বিতীয় মেয়াদে বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফারুক লেগারি সরকার ভেঙে দেন।

বেনজির ভুট্টো

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর বেনজির স্বেচ্ছানির্বাসনে যান। প্রায় এক দশক পর ২০০৭ সালে পাকিস্তান ফেরার পর আততায়ী তাকে হত্যা করে৷ আল কায়েদা হত্যার দায় স্বীকার করে।

ইংলাক সিনাওয়াত্রা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্যাপক গণবিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে সেনা অভ্যুত্থানে ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যূত হন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা। তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চান-ওচা।

ইংলাক সিনাওয়াত্রা

২০১৭ সালে ইংলাকের অনুপস্থিতিতে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ জানান, ইংলাক দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা

ইংলাক সিনাওয়াত্রার মতো তাঁর ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রার ভাগ্যেও একই পরিণতি ঘটেছে৷ ইংলাকের আগে থাকসিনও ছিলেন থাইল্যান্ডের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ২০০৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে তাকেও সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যূত হতে হয়।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা

থাকসিনও এরপর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বাস করছেন।

মোহাম্মদ দাহলান

গাজা উপত্যাকায় ফাতাহ সংগঠনের নেতা ছিলেন ফিলিস্তিনি রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ দাহলান। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আন্দোলনে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ১১ বার আটক হন তিনি।

মোহাম্মদ দাহলান

পরবর্তীতে বিভিন্ন নীতি নিয়ে ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়। দাহলানের বিরুদ্ধে ইয়াসির আরাফাতকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়৷ এখন আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে বাস করছেন দাহলানও।

স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস

বর্তমানে উপসাগরীয় দেশটিতে অবস্থান করছেন স্পেনের সাবেক রাজা হুয়ান কার্লোসও৷ নানা দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত হয়ে ২০১৯ সালে হুয়ান রাজা হিসাবে নিজের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা ধরনের কথা শোনা যাচ্ছিল।

স্পেনের রাজা হুয়ান কার্লোস

শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের আগস্টে হুয়ানের পরিবার নিশ্চিত করে তিনি আরব আমিরাতে বাস করছেন। সূত্র- ডয়েসে ভেলে

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102