

সংবাদদাতা : জয়তুন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উদ্যোগে “লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও অসহায় জনসাধারণের মধ্যে এবং পবিত্র ঈদুল আযহা” উপলক্ষে সিলেট নগরী বিভিন্ন স্থানে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নসহ মোগলাবাজার ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
জয়তুন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও পৃষ্ঠপোষক লন্ডন প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ (লাল মিয়া) ও উনার সহধর্মিণী জয়তুন হস্তশিল্প সেলাই প্রশিক্ষণ একাডেমী, জয়তুন বয়স্ক নারী শিক্ষা কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন রোটারিয়ান রাবেয়া তাহেরা মজিদ এর অর্থায়নে ২ হাজার পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।
উল্লেখ্য যে, “জয়তুন ওয়েলেফেয়ার ট্রাস্ট” ২০০৯ সাল থেকে যেভাবে মানবতার কল্যানে করে আসছে ঠিক একইভাবে এই দুর্যোগময় মুহূর্তে বিশেষ করে “লকডাউনের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও অসহায় জনসাধারণের মধ্যে এবং পবিত্র ঈদুল আযহা” উপলক্ষে প্রতিবারের ন্যায় এবারও অসহায় হতদরিদ্র ২ হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী (চাল- ৯কেজি, ডাল- ২কেজি, পিয়াজ- ৩কেজি, লবণ- ১কেজি, সোয়াবিন তেল- ২লিটার ও আলু- ৮কেজি) মোট ২৫কেজি করে বিতরণ করা হয়।
ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা বৈশ্বিক এক মহা সঙ্কটের মুখোমুখি অবস্থান করছি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্বেই অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হচ্ছে।দেশে দেশে লকডাউনের ফলে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের লোকগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ছে। অনেকের ঘরেই খাদ্যসামগ্রীর সঙ্কট প্রকটভাবে দেখা দিচ্ছে।যারা দিনমজুর, তারা পরিবার নিয়ে অভুক্ত থাকছে। ঘর বাজারসদাই শূন্য। আয়ের সবরকম উৎস বন্ধ। কোত্থেকে দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা হবে তা তারা নিজেরাও জানে না।তাই বাধ্য হয়ে অপেক্ষার প্রহর গোনছে, কেউ এসে দু’মুঠো খাবার তাদের দেয় কিনা!সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি, টানা দু’দিন না খেয়ে থাকা বৃদ্ধের খাবারের জন্য আহাজারির দৃশ্য। এরকম এক-দু’জন নয়, হাজার হাজার দরিদ্র দিনমজুর অনাহারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।এই সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে ইসলাম আমাদের শেখায় মানবিক হতে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তাদের দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা করে দিতে।
মানবতার মুক্তির দূত, বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) মানব সেবার জন্য আরবের যুবকদের নিয়ে গঠন করেছিলেন হিলফুল ফুজুল। দরিদ্র ও দুস্থদের সহায়তা করেছেন নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে। মানব সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন চূড়ান্ত পর্যায়ের।তাইতো তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের আসনে আসীন হয়েছেন।আসলে আমাদের সৃষ্টিই করা একে অপরের কল্যাণকামীতার জন্য। বিপদে-আপদে একে অন্যের পাশে থাকা ও সহযোগিতার হাতকে সম্প্রসারণের জন্য।আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির পরিচয় এভাবে তুলে ধরেছেন, তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণের জন্য তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০)
রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, ‘কোনো বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যরত থাকে, আল্লাহ তায়ালাও ততোক্ষণ তাকে সাহায্য করতে থাকেন।’ (তিরমিজি)
আজ আমাদের আশপাশে কত অভুক্ত, কত অসহায়, কত দরিদ্র, কত দিনমজুর, কত বৃদ্ধ, কত কৃষকরা হাহাকার করছে। রোদন করছে।তারা যখন কাজ করার সুযোগ পেত, তখনই তো পরিবার নিয়ে দিনাতিপাত করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যেত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের পিঠ আজ দেয়ালের সঙ্গে ঠেকে গেছে। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে তারা । অভুক্ত-অনাহারে মৃত্যুর প্রহর গোনা ছাড়া তাদের কোনো গত্যন্তর নেই ।আজ তাদের পাশে দাঁড়ানো, দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়া, আমাদের নৈতিক দায়িত্ব! মুক্তির ধর্ম ইসলাম আমাদের এই শিক্ষাই দেয়!
আজই আমাদের মোক্ষম সময়, রাসূলের মহানুভবতা, মানবতা ও আতিথেয়তার নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের এবং বৃদ্ধ, দিনমজুর, মিসকিন ও শিশুদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর।
আসুন সবাই মিলে সমাজের দরিদ্র অবহেলিত লোকদের সাহায্য এগিয়ে আসি।