

অবশেষে হাসি ফুটলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ডাগআউটে। জয়ের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হলো চার ম্যাচ। আগের তিনটিতে বাজেভাবে হারের পর প্রবল সমালোচিত হচ্ছিলেন ক্রিকেটাররা। দলটির কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তিন ম্যাচের পারফরম্যান্সকে বলেছিলেন, ‘জঘন্য’।
একদিনের ব্যবধানে সেই দলটিই নিজেদের ফিরিয়ে আনলো দারুণ পারফরম্যান্সে। জয়ে রাঙালো নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে বিপিএলের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা হারালো ৬ উইকেটে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে চট্টগ্রাম ৮ উইকেটে মাত্র ১৩৫ রান করে। কুমিল্লা এ লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৫ বল আগে।
লক্ষ্য ছোট হলেও কুমিল্লার ইনিংসের শুরুটা ছিল ধুমধারাক্কা। লিটন দাসের হাত ধরেই উড়ন্ত শুরু পায় তারা। ভালো শুরুর পর ইনিংস বড় করতে পারছিলেন না এ ওপেনার। আজ সুযোগটি কাজে লাগান। ৪০ রানের ম্যাচসেরা ইনিংস খেলতে ২২ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কা হাঁকান। পেসার মৃত্যুঞ্জয়ের করা দ্বিতীয় ওভারে লেগ সাইডে স্রেফ পাঞ্চ করে যে ছক্কাটি হাঁকান তা মুগ্ধতা ছড়ায়। আরেক পেসার রানাকে পরপর দুই বলে উড়ান ফাইন লেগ দিয়ে। দ্যুতি ছড়ানো ইনিংসটি থেমে যায় মৃত্যুঞ্জয়ের দারুণ বলে। একটু ভেতরে ঢোকানো বল মিস করে বোল্ড হন।
পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৬০ রান করে কুমিল্লা। অধিনায়ক ইমরুল তিনে নেমে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৩ বলে ১৫ রানে ফেরেন ড্রেসিংরুমে। প্রথমবার সুযোগ পাওয়া জনসন চার্লস রানের খাতা খুলতে পারেননি। জাকের আলী দুই ছক্কায় ২৩ বলে ২২ রানে আউট হন।
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিল দেখছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। নিজেকে শান্ত রেখে ইনিংস বড় করছিলেন এ ব্যাটসম্যান। দলকে জেতাতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকতে হবে তা হয়তো বুঝেছিলেন। তাই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে টিকে ছিলেন। নিজের মিশনে সফল এ ব্যাটসম্যান। ৩৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৭ রান করে রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ১০ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান খুশদিল শাহ।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করতেই ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন উসমান খান। তিনে নেমে আফিফ প্রতি আক্রমণে দ্রুত রান তোলেন। উইকেটের চারিপাশে দারুণ সব শট খেলে তুলে নেন ৬ বাউন্ডারি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের জায়গায় সুযোগ পাওয়া পেসার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ থামান তাকে। ২১ বলে ২৯ রানে বোল্ড হন আফিফ।

এরপর ছন্দপতন চট্টগ্রামের ইনিংসে। আরেকও পেসার ম্যাক্স ও’ডাউড ২৪ রান করেন ২৪ বলে। ইরফান শুক্কুরের ইনিংস থেমে যায় ৫ রানে। আগের ম্যাচে ঝড় তোলা দারউইস রাসুলি ১১ ও জিয়াউর রহমান ২ রানে ফেরেন ড্রেসিংরুমে।
৭৮ রানে ৬ উইকেট হারানো চট্টগ্রামের জন্য শতরানও তখন দূরের পথ। সেখানে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান শুভাগত হোম। ছোটখাটো ঝড় তুলে দলের রান নিয়ে যান ১৩৫ এ। ২৩ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। হাসান আলীকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা উড়ানোর পর ডাউন দ্য উইকেটে চার মারেন চোখের পলকে। শেষ ওভারে পাকিস্তানের এ পেসারকে দুই চার হাঁকিয়ে দলের পুঁজি বাড়ান মেহেদী হাসান রানা।
বল হাতে কুমিল্লার হয়ে তানবীর ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন ও খুশদিল শাহ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।
নিউজ /এমএসএম