

আদালত রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় আগাম জামিনের আদেশ বর্ধিত করার আবেদন নাকচ করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়া তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেবেন হাইকোর্ট।
এর আগে গত ২ নভেম্বর রিয়াজ উদ্দিনকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এই আত্মসমর্পণের আদেশ বর্ধিত চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে নতুন এই আদেশ দেন।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি ও মো সাইফুর রহমান সিদ্দিকী। আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাকিব মাহবুব।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আলোচিত গোল্ডেন মনিরের অপকর্মের অন্যতম সহযোগী রিয়াজ উদ্দিন ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি সোনালী ব্যাংকের ঢাকার এয়ারপোর্ট শাখায় কর্মরত থাকাকালে মনিরের সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানের অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন এবং সোনালী ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেন।
গত ১১ মে বিকেলে সিআইডির পরিদর্শক মো. ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে গোল্ডেন মনিরের স্ত্রী রওশন আক্তার ও ছেলে রাফি হোসেনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- গোল্ডেন মনিরের বোন নাসিমা আক্তার, নাসিমার স্বামী হাসান আলী খান, মনিরের আরেক ভগ্নীপতি নাহিদ হোসেন, গোল্ডেন মনিরের সহযোগী আবদুল হামিদ, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন, রিয়াজের ভাই হায়দার আলী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক।
২০২০ সালের ২০ নভেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরকে গ্রেফতার করে র্যাব। সেসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি, বিদেশি মদ ও প্রায় ৯ লাখ টাকার বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। তার বাসা থেকে আট কেজি স্বর্ণ ও নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকাও জব্দ করা হয়।