

শাহারুল ইসলাম ফারদিন, যশোর: যখন মানুষ মূল্যহীন হয়ে পরে তখন সংসারে সে বোঝা হয়ে যায়, অথচ সে কদিন আগে সংসারের একজন আদরের আস্থার ছিল। কিন্তু নিয়তি মানুষকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয় যে হীন মানবিকতা ভুলে মানুষ হয়ে উঠে পাষণ্ড, অমানবিক। ঠিক যুগে যুগে যখন অধর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে তখন ঈশ্বর তার দূত পাঠিয়েছেন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য। ঠিক এমনই রক্ত হিম হয়ে যাওয়া ঘটনা ঘটেছে যশোর জেলায়। রাস্তার পাশে পড়ে থেকে ‘মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা’ এক বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়েছে র্যাব। রোববার মধ্যরাতে র্যাব সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তার চিকিৎসা ও স্বজনদের খুঁজে বের করার দায়িত্বও নিয়েছে র্যাব। যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় পাঁচদিন ধরে সড়কের পাশে ফুটপাতে পড়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় অসুস্থ ওই বয়োবৃদ্ধের (৭০) সংবাদ রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর তা নজরে এলে র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাজিউর তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাজিউর জানান, অনলাইনে সংবাদটি নজরে আসার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনিসহ র্যাব টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন। এরপর রাত ১টার দিকে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। র্যাব তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে। এছাড়াও তার স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে গত ৫ দিন ধরে অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধ যশোর শহরের রেলস্টেশনের পাশের সড়কের ফুটপাতে পড়েছিলেন। রেলগেট এলাকার ইজিবাইক চালক শফিকুল জানান, পাঁচদিন আগে সকাল বেলায় এসে দেখেন সড়কের পাশে ফুটপাতে এক বৃদ্ধকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তারা কথা বলতে চেষ্টা করলেও বৃদ্ধ কিছুই বলতে পারেননি। তারা সামান্য খাবার কিনে দিলে কোনোভাবে খেতে পারেন। বৃদ্ধের নাম ঠিকানাও তারা উদ্ধার করতে পারেননি। শরীরে পচন ধরেছে। মল-মূত্র ত্যাগ করে গায়ে মাখিয়ে ফেলেছেন। এই অবস্থায় বৃদ্ধকে বাঁচাতে রোববার দুপুরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন প্রাইভেটকার চালক সাজু হোসেন। এরপর ঘটনাস্থলে যান যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে আশপাশে থাকা লোকজনদের বলে আসেন ‘এখানে পুলিশের কিছু করার নেই’। ৯৯৯-এ ফোন দেয়া সাজু হোসেন জানান, নাম পরিচয়হীন বৃদ্ধটিকে কেউ এখানে ফেলে রেখে গেছে। এই অমানবিক অবস্থা দেখে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ এসেও কিছুই করলো না।
এ প্রসঙ্গে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃদ্ধটি জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় ফুটপাতে পড়ে আছে। কিন্তু তার কোনো ঠিকানা জানা যায়নি। আবার হাসপাতালে এনে ভর্তি করবো, কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। ‘এখানে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ নেই’ দাবি করে তিনি বলেন, এজন্যই বৃদ্ধকে সেখানেই রেখে চলে আসতে হয়েছে। পরিচয়হীন বৃদ্ধের এই সংবাদটি রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে র্যাবের। এরপরই র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাজিউর তাকে উদ্ধারের পদক্ষেপ নেন।
এদিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধকে শার্শা এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় সার্জারি ওয়ার্ডে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু কারা তাকে নিয়ে গেছে বা কে ভর্তি করেছিল এমন তথ্য হাসপাতাল সূত্র জানাতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতাল থেকে এনে বৃদ্ধকে স্টেশন এলাকায় রেখে চলে গেছে তার স্বজনেরা।